গুজরাটের বানাসকাঁঠা জেলায় একটি বাজি কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে মুহূর্তের মধ্যেই গোটা কারখানা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। এখনও পর্যন্ত বহু মানুষের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে, পাশাপাশি বহু মানুষ গুরুতর আহত হয়েছেন। স্থানীয় প্রশাসন দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু করেছে এবং আহতদের নিকটবর্তী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, বিস্ফোরণের শব্দ কয়েক কিলোমিটার দূর পর্যন্ত শোনা যায়। বিস্ফোরণের পরপরই কারখানায় আগুন ধরে যায়, যা মুহূর্তের মধ্যে আশপাশে ছড়িয়ে পড়ে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে দমকল বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাজ শুরু করে। স্থানীয় বাসিন্দারা আতঙ্কে এলাকা ছেড়ে পালানোর চেষ্টা করেন।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, কারখানাটিতে বিপুল পরিমাণ দাহ্য বস্তু মজুত ছিল, যা বিস্ফোরণের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। অনুমান করা হচ্ছে, নিরাপত্তাবিধি না মেনেই এই বিপজ্জনক উপাদানগুলো সংরক্ষণ করা হচ্ছিল। ফলে সামান্য একটি স্পার্ক থেকেই ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে যায়। বিস্ফোরণের সময় কারখানার ভেতরে কর্মরত শ্রমিকদের বেশিরভাগই বের হওয়ার সুযোগ পাননি, ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ঘটনার পরপরই স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ ও উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু করে। ফায়ার সার্ভিসের একাধিক ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালায়। আহতদের দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং অনেকের অবস্থাই আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে এবং আহতদের চিকিৎসার সমস্ত ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ঘটনার উপর নজর রাখছেন এবং দুঃখপ্রকাশ করেছেন। পাশাপাশি, বিস্ফোরণের সঠিক কারণ অনুসন্ধানে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে কারখানার মালিক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি থাকলে কারখানার মালিকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে প্রশাসন জানিয়েছে।
এ ধরনের বিস্ফোরণের ঘটনা নতুন নয়। সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গের ঢোলাহাট এলাকায় একটি বাজি কারখানায় একই ধরনের বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছিল। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই গুজরাটে আরও একটি বড় বিস্ফোরণ প্রশাসনের নিরাপত্তা ব্যবস্থার উপর প্রশ্ন তুলেছে। বিরোধী দলগুলি সরকারের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে এবং শিল্পস্থানে নিরাপত্তার অভাবের জন্য সরকারকেই দায়ী করছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাজি কারখানাগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা যথেষ্ট শক্তিশালী নয়। এই ধরনের কারখানায় সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন, কারণ সামান্যতম অসাবধানতা মারাত্মক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। অনেক কারখানাই সরকারি অনুমতি ছাড়াই চালানো হয়, যেখানে শ্রমিকদের জন্য পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা থাকে না। এ ধরনের দুর্ঘটনা রোধে নিয়মিত পরিদর্শন, কঠোর নিরাপত্তাবিধি প্রয়োগ এবং লাইসেন্সবিহীন কারখানা বন্ধ করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বিস্ফোরণের পর আশপাশের এলাকার বাসিন্দারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। অনেকে বলছেন, দীর্ঘদিন ধরেই এই কারখানায় বিপুল পরিমাণ দাহ্য পদার্থ মজুত করা হচ্ছিল, কিন্তু প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে প্রশাসন কতটা দায়িত্বশীল, সেই প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয়রা।
এই ঘটনার পর সরকারের ভূমিকা নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিরোধী দলগুলোর দাবি, বাজি কারখানাগুলোর উপর প্রশাসনের নজরদারি নেই বললেই চলে। নিয়ম না মেনেই বহু কারখানা চালু রয়েছে, যেখানে শ্রমিকদের নিরাপত্তা তো দূরের কথা, সাধারণ নিরাপত্তাবিধিও মানা হয় না। ফলে এ ধরনের মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটছে।
গুজরাট প্রশাসন জানিয়েছে, বিস্ফোরণের কারণ বিশদভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং যারা এই অবৈধ কারখানা পরিচালনার সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে এবং কারখানার মালিকের খোঁজ চলছে। তদন্তে যদি প্রমাণ হয় যে কোনো প্রকার নিয়ম লঙ্ঘন করা হয়েছে, তবে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ ধরনের দুর্ঘটনা যে ভবিষ্যতে আরও বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। নিরাপত্তা ব্যবস্থা যথাযথভাবে না থাকলে এই ধরনের বিস্ফোরণ আরও বহু প্রাণ কেড়ে নিতে পারে। প্রশাসনের উচিত কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা এবং প্রতিটি বাজি কারখানায় নিয়মিত পরিদর্শন চালানো। বিশেষজ্ঞদের মতে, সময়মতো সঠিক পদক্ষেপ না নিলে এ ধরনের বিপর্যয় প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে না।
