ওয়াকফ সম্পত্তি সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ বিল বুধবার সংসদে পেশ হতে চলেছে। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিলটি ওয়াকফ সম্পত্তির সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করবে। তবে এই বিলকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সংসদে প্রায় আট ঘণ্টা ধরে এই বিল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা চলবে বলে জানা গেছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সদস্যরা তাঁদের মত প্রকাশ করবেন এবং প্রস্তাবিত পরিবর্তনগুলি নিয়ে বিতর্ক হবে। শাসক দলের দাবি, নতুন এই আইন কার্যকর হলে অনিয়ম রোধ করা সম্ভব হবে, পাশাপাশি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের স্বার্থও রক্ষা পাবে।
বর্তমানে ওয়াকফ বোর্ড পরিচালিত বিভিন্ন সম্পত্তি ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে একাধিক দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, ওয়াকফ সম্পত্তি অবৈধভাবে দখল হয়ে যাচ্ছে কিংবা ব্যক্তিগত স্বার্থে ব্যবহার করা হচ্ছে। এর ফলে প্রকৃতভাবে যাঁদের এই সম্পত্তির সুবিধা পাওয়ার কথা, তাঁরা বঞ্চিত হচ্ছেন। সরকার মনে করছে, এই বিল পাস হলে সম্পত্তির যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত হবে এবং যারা অনিয়মের সঙ্গে যুক্ত, তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে।
বিরোধী দলগুলোর মতে, এই বিলের মাধ্যমে ওয়াকফ বোর্ডের ক্ষমতা কমিয়ে দেওয়া হতে পারে। তাঁদের অভিযোগ, সরকার সংখ্যালঘুদের উপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করতে চাইছে এবং এটি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের স্বার্থবিরোধী হতে পারে। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন সংখ্যালঘু সংগঠন এই বিলের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে এবং তারা সংসদে এর বিরোধিতা করার কথা জানিয়েছে।
শাসক দল অবশ্য বিরোধীদের এই অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে। সরকারের দাবি, এই বিল সম্পূর্ণরূপে সংখ্যালঘুদের স্বার্থ রক্ষা করার উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছে এবং এর মাধ্যমে ওয়াকফ সম্পত্তির সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত হবে। সরকারি সূত্রে আরও বলা হয়েছে, এই আইনের মাধ্যমে বোর্ডের কাজের স্বচ্ছতা বাড়বে এবং সম্পত্তির অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।
বিলটি পাস হলে দেশের বিভিন্ন রাজ্যে ওয়াকফ সম্পত্তির ব্যবস্থাপনা নতুন নিয়মের আওতায় আসবে। প্রশাসনিক পর্যায়ে কড়া নজরদারি চালু করা হবে, যাতে কোনও সম্পত্তি অবৈধভাবে ব্যবহার না হয়। বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রেই অভিযোগ রয়েছে যে, ওয়াকফ সম্পত্তি ব্যক্তি বা রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা হচ্ছে। এই ধরনের সমস্যা রোধ করতেই নতুন বিল আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, ওয়াকফ সম্পত্তির সঠিক ব্যবস্থাপনার জন্য অবশ্যই নতুন কিছু পরিবর্তন দরকার। তবে সেই পরিবর্তন যেন কোনও সম্প্রদায়ের স্বার্থের পরিপন্থী না হয়, সেটি নিশ্চিত করা দরকার। এই বিল নিয়ে সংসদে উত্তপ্ত বিতর্ক হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিরোধী দলগুলি ইতিমধ্যেই প্রতিবাদের প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং তারা বিলের কিছু ধারা সংশোধনের দাবি জানাতে পারে।
সংসদে দীর্ঘ আলোচনার পর যদি বিলটি পাশ হয়, তবে প্রশাসনিক পর্যায়ে বড় পরিবর্তন আসবে। আইন কার্যকর হলে ওয়াকফ বোর্ডের অধীনে থাকা সম্পত্তির ব্যবস্থাপনা কঠোর নিয়মের আওতায় আসবে। সরকারের আশা, এই পদক্ষেপের ফলে ওয়াকফ সম্পত্তির অপব্যবহার কমবে এবং প্রকৃতভাবে যাঁদের এই সম্পত্তির সুবিধা পাওয়ার কথা, তাঁরা উপকৃত হবেন। তবে বিলটি বাস্তবায়ন হলে এর প্রভাব কতটা কার্যকর হবে, তা সময়ই বলে দেবে।
