প্রথমদিকে এই সম্পর্কে আগ্রহী ছিলেন না হেলেনা লুক। কিন্তু পরে তিনিই মিঠুন চক্রবর্তীর প্রেমে পড়েন এবং তাঁকে বিয়ে করেন। তবে তাঁদের দাম্পত্য জীবন দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। মাত্র চার মাসের মধ্যেই তাঁদের বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে।
বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তীর প্রথম স্ত্রীর নাম হেলেনা লুক। তিনি ছিলেন এক সময়ের ডাকসাইটে সুন্দরী ও প্রতিভাবান অভিনেত্রী। ১৯৮৫ সালে ‘মর্দ’ ছবিতে অমিতাভ বচ্চনের বিপরীতে অভিনয় করেছিলেন তিনি। সেই সময় মিঠুন চক্রবর্তীর ক্যারিয়ার তুঙ্গে ছিল। একের পর এক হিট ছবি উপহার দিচ্ছিলেন তিনি। আর এই সাফল্যের মধ্যেই হেলেনার সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে ওঠে তাঁর। কিন্তু তাঁদের সম্পর্কের পরিণতি সুখকর হয়নি।
প্রেম কখনওই তাঁদের দাম্পত্য জীবনে স্থায়ী জায়গা করে নিতে পারেনি বলে দাবি করেছিলেন হেলেনা। বিয়ের কিছুদিন পরই তিনি বুঝতে পারেন, এই সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসাই তাঁর জন্য ভালো হবে। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “এটা যদি না ঘটত, তাহলে ভালো হতো। মিঠুন আমাকে বোঝানোর চেষ্টা করেছিল যে সে-ই আমার জীবনের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি, যার সঙ্গে আমি সুখে সংসার করতে পারব। দুর্ভাগ্যবশত, সে এতে সফল হয়েছিল।”
তবে মিঠুনের সঙ্গে বিচ্ছেদের পর হেলেনা কখনও খোরপোষ দাবি করেননি। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, “আমি ওর কাছে কখনও ফিরব না, ও যদি পৃথিবীর সবচেয়ে ধনী ব্যক্তিও হয়ে যায়, তবুও না। আমার কাছে এই বিয়ে ছিল এক দুঃস্বপ্নের মতো, যা শেষ পর্যন্ত কেটে গিয়েছে।”
তাঁর অভিযোগ ছিল, মিঠুন তাঁকে এবং তাঁর পরিবারকে মিথ্যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। হেলেনা বলেন, “ও আমার বাবাকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, যে আমাকে পৃথিবীর নবম আশ্চর্যের মতো আগলে রাখবে। কিন্তু পরে বুঝতে পারি, ও আসলে নিজেকে ছাড়া আর কাউকে ভালোবাসে না।”
এই বিচ্ছেদের পর হেলেনা ধীরে ধীরে সিনেমা ইন্ডাস্ট্রি থেকে সরে যান। ব্যক্তিগত জীবনে নতুনভাবে স্থিতি খুঁজতে শুরু করেন। অন্যদিকে, মিঠুন চক্রবর্তী পরে যোগিতা বালির সঙ্গে সংসার পাতেন। তাঁদের দাম্পত্য জীবন দীর্ঘস্থায়ী হয়।
হেলেনা লুকের অভিযোগ এবং তাঁর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা নিয়ে বলিউডের ভক্তদের মাঝে চর্চা কম হয়নি। যদিও মিঠুন চক্রবর্তী এই বিষয়ে কখনও প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি। তবে হেলেনার এই সাহসী স্বীকারোক্তি অনেকের মধ্যেই আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল।
তবে বলিউডে এমন সম্পর্কের টানাপোড়েন নতুন কিছু নয়। ব্যক্তিগত ও পেশাদার জীবনের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা তারকাদের জন্য সবসময় সহজ হয়ে ওঠে না। মিঠুন ও হেলেনার এই অধ্যায়ও তারই একটি উদাহরণ।
