অবশেষে অনেক টালবাহানার পর সংসদে পেশ হল ওয়াকফ সংশোধনী বিল। কেন্দ্রীয় সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী কিরণ রিজিজু বিল পেশ করলেন। তবে এবার তিনি বিস্ফোরক দাবি করলেন বিল পেশের মাঝেই। বিরোধীরা দীর্ঘদিন ধরে মিথ্যে প্রচার করছে যে,
ওয়াকফ সংশোধনী আইন পাশ হলে দেশের মসজিদ – দরগা নাকি সরকারের দখলে চলে যাবে। তবে এই আইনে নথিভুক্ত ওয়াকফ সম্পত্তিতে বিন্দুমাত্র হস্তক্ষেপ এর সুযোগ থাকবে না সরকারের। এবার এই কথায় জানালেন কেন্দ্রীয় সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী কিরণ রিজিজু।
আগামীতে যে সব ওয়াকফ সম্পত্তি তৈরি হবে, একমাত্র তার ওপর এই আইন কার্যকর করা হবে বলে জানা গিয়েছে। কেন্দ্রীয় সংখ্যালঘু উন্নয়ন মন্ত্রী কিরেন রিজিজু নিজে বুধবার সংসদে ওয়াকফ সংশোধনী বিল পেশ করে একথা জানান। লোকসভায় কিরেন রিজিজু বলেন, “অনেকে ওয়াকফ সংশোধনী বিল নিয়ে জনমানসে ভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন। তাঁরা বলছেন, ‘ওয়াকফ সংশোধনী বিল পাশ হলে সরকার মুসলিমদের মসজিদ – দরগা দখল করে নেবে। কিন্তু এই আইনে ইতিমধ্যে নথিভুক্ত ওয়াকফ সম্পত্তিতে হস্তক্ষেপের কোনও সুযোগ নেই। এই আইন শুধুমাত্র আগামীতে নথিভুক্ত হতে চলা ওয়াকফ সম্পত্তির ওপর কার্যকর হবে।”
বিরোধীদের আক্রমণ করে মন্ত্রী কিরেন রিজিজু জানান, “আপনারা তো CAA পাশ করার সময় গোটা দেশে ঘুরে ঘুরে মুসলিমদের বিভ্রান্ত করেছিলেন। বলেছিলেন, CAA পাশ হলে মুসলিমদের নাগরিকত্ব চলে যাবে। আজ পর্যন্ত কোনও মুসলিমের নাগরিকত্ব গিয়েছে কি? মিথ্যে কথা বলার জন্য আপনারা কি দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চাইবেন।”
এদিন সংসদে ওয়াকফ বিল পেশ হতেই বিলের বিরোধিতা করে বিরোধীরা বিভিন্ন স্লোগান দিতে শুরু করেন। তাদের স্লোগানের মাঝেই তীক্ষ্ম কন্ঠে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরণ রিজিজু বলেন, “ইউপিএ সরকার সংসদ ও বিমানবন্দরের জমিও ওয়াকফকে দিয়ে দিত। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ওয়াকফের হাতে সংসদের অধিগ্রহণ আটকেছেন।” এই আইনের সঙ্গে ধর্মীয় আস্থার কোনও সম্পর্ক নেই বলে পরিষ্কার জানিয়ে দেন কিরেন রিজিজু। শুধুমাত্র সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা পদ্ধতিকে সুগঠিত পড়ার উদ্দেশ্যেই এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
