সংঘর্ষবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন। সীমান্ত পেরিয়ে এসে গুলিবর্ষণ। মুখের মতো জবাব ভারতীয় সেনারও। মঙ্গলবার থেকে উত্তপ্ত জম্মু কাশ্মীরের পুঞ্চ। বুধবার পাকিস্তানকে সমুচিত জবাব দেওয়ার পর বিবৃতি জারি করে গোটা ঘটনা খোলসা করেছে ভারতীয় সেনা। যা থেকে একটা বিষয় পরিষ্কার, ভারতের ঝোড়ো হামলার মুখে পড়ে থরহরি কম্প ইসলামাবাদের।
বুধবার সেনা বিবৃতি জারি করে জানায়, মঙ্গলবার নিয়ন্ত্রণরেখা পেরিয়ে পাক সেনা ভারতীয় ভূখণ্ডে প্রবেশ করে। তার পর পাক সেনা কৃষ্ণঘাটি সেক্টরে মাইন বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটায়। পাক সেনার বিরুদ্ধে সংঘর্ষ বিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করে বিনা প্ররোচনায় লাগাতার গুলিবর্ষণ করারও অভিযোগ করেছে সেনা। তবে বিবৃতিতে সাফ জানানো হয়েছে, হামলার সামনে মুখ বুজে ছিল না ভারত। পাকিস্তানকে পাল্টা মুখের মতো জবাব দেওয়া হয়েছে বলে লিখিত ভাবে জানিয়েছে সেনা। বস্তুত, সাম্প্রতিককালে এই প্রথম ভারতীয় সেনা জানাল, পাকিস্তানের সেনা সংঘর্ষবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করে গুলিবৃষ্টি চালিয়েছে। আপাতত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে। এলাকায় কড়া নজরদারি রয়েছে।
ভারতীয় সেনার এক মুখপাত্র বলেন, “পাকিস্তানি সেনা নিয়ন্ত্রণরেখা পেরিয়ে অনুপ্রবেশ করে। তার জেরে গত ১ এপ্রিল কৃষ্ণাঘাটি সেক্টরে মাইন বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এর পর পাক সেনা বিনা উস্কানিতে গুলি চলায়। যা সরাসরি সংঘর্ষ বিরতি লঙ্ঘন।আমাদের সেনা নিয়ন্ত্রিত এবং সুচিন্তিত পদ্ধতিতে কার্যকরী প্রতিক্রিয়া দিয়েছে।”
বস্তুত, গত দু’মাসে দক্ষিণ পীর পঞ্জাল এলাকার নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর বেআইনি ভাবে সীমান্ত পেরনো এবং গুলিবর্ষণের ঘটনা ব্যাপক বেড়ে গিয়েছে। পাকিস্তানের দিক থেকে স্নাইপিং, গুলিচালনা, বর্ডার অ্যাকশন টিম বা ব্যাটের তৎপরতা লক্ষ্যনীয় ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। হামলার ঘটনাও ঘটছে। ভারতীয় সেনা সূত্রে খবর, পাকিস্তান সংঘর্ষবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করবে ধরে নিয়েই পাল্টা পরিকল্পনা ছকে রাখা হয়েছিল। তার জেরেই দ্রুত মোক্ষম জবাব দিতে পারছে ভারতীয় সেনা। যা আগামিদিনে পাকিস্তানকে পরিকল্পনা বদল করতে বাধ্য করবে বলে মনে করা হচ্ছে। ২০২১ সালের শুরুতে দুই দেশের মধ্যে সংঘর্ষবিরতি নিশ্চিত হয়। তার ৪ বছরের মধ্যেই ঘটে গেল একের পর এক চুক্তি লঙ্ঘনের ঘটনা।
