উত্তরবঙ্গের উন্নয়ন ও বিভিন্ন দাবিদাওয়া নিয়ে দিল্লিতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন বিজেপির ১০ জন বিধায়ক। মঙ্গলবার তারা পাঁচজন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন এবং উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন সমস্যা ও উন্নয়নমূলক বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। এই বৈঠকগুলিতে রাজ্যের সার্বিক উন্নয়নের জন্য কেন্দ্রীয় সহায়তা চাওয়া হয়েছে।
শিলিগুড়ির বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ জানান, পরিবেশমন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের সঙ্গে বৈঠকে ইকো সেনসিটিভ জোন রক্ষা এবং অবিলম্বে জোনাল মাস্টার প্ল্যান তৈরির দাবি জানানো হয়েছে। পরিবেশ সুরক্ষার স্বার্থে এই উদ্যোগ অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করেন বিধায়করা। মন্ত্রী মে মাসের মধ্যে এ বিষয়ে আলোচনা করবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন। বিধায়করা জানান, পাহাড় ও ডুয়ার্সের বিভিন্ন সংরক্ষিত বনাঞ্চল এবং সংলগ্ন এলাকায় পরিবেশগত ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য এই পরিকল্পনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
নারী ও শিশুকল্যাণ মন্ত্রী অন্নপূর্ণা দেবীর সঙ্গে সাক্ষাতে আইসিডিএস নিয়োগে দুর্নীতি এবং পোষণ অ্যাপ চালুর বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে। বিধায়করা জানান, পোষণ প্রকল্পের কার্যকারিতা বাড়ানোর জন্য স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া জরুরি। তারা অভিযোগ করেছেন, রাজ্য সরকার শিশুদের পুষ্টি সংক্রান্ত কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলি সঠিকভাবে পরিচালনা করছে না, যার ফলে উপভোক্তারা প্রকৃত সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। মন্ত্রী এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
গ্রামোন্নয়ন ও কৃষি মন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহানের সঙ্গে কৃষি সংক্রান্ত সমস্যাগুলি তুলে ধরেছেন বিধায়করা। উত্তরবঙ্গের কৃষকদের সমস্যার মধ্যে অন্যতম হলো বাজারজাতকরণ ও ন্যায্য মূল্যের অভাব। তারা কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর কাছে অনুরোধ করেছেন, উত্তরবঙ্গের কৃষি উৎপাদিত পণ্যের জন্য বিশেষ নীতিগত সহায়তা দেওয়া হোক এবং কৃষকদের আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে সাহায্য করা হোক। বিশেষ করে, চা শিল্প ও ধানচাষ নিয়ে বিধায়কদের উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
কেন্দ্রীয় ক্রীড়া মন্ত্রী মনসুখ মাণ্ডব্যের সঙ্গে খেলো ইন্ডিয়া সেন্টার স্থাপনের অনুরোধ জানানো হয়েছে। বিধায়কদের দাবি, উত্তরবঙ্গের তরুণ খেলোয়াড়দের জন্য উপযুক্ত পরিকাঠামো নেই। তাই কেন্দ্রের তরফ থেকে আধুনিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও স্টেডিয়াম নির্মাণ করা হলে স্থানীয় ক্রীড়া প্রতিভারা উপকৃত হবেন। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এই বিষয়ে ইতিবাচক পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
আর্বান ডেভেলপমেন্ট মন্ত্রী মনোহরলাল খট্টরের সঙ্গেও দেখা করেছেন বিধায়করা। উত্তরবঙ্গের শহরগুলোর উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বিধায়করা জানিয়েছেন, উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন পৌরসভা আর্থিক সংকটের সম্মুখীন, যার ফলে নাগরিক পরিসেবাগুলি ব্যাহত হচ্ছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এই বিষয়ে বিস্তারিত পরিকল্পনার ভিত্তিতে অর্থ বরাদ্দের বিষয়ে আশ্বাস দিয়েছেন।
শাসক দলের কেন্দ্রীয় বঞ্চনার অভিযোগ নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি বলে বিধায়করা জানিয়েছেন। এই প্রসঙ্গে শঙ্কর ঘোষ বলেন, “কেন্দ্রীয় বঞ্চনা শব্দের কোনো ভিত্তি নেই। রাজ্যের বাজেট ৩ লক্ষ কোটি টাকার, যেখানে রাজ্যের আয় ৯০ হাজার কোটি টাকা। নিজেদের আয় দিয়ে সরকার কর্মীদের বেতন ও পেনশনও দিতে পারে না।”
বৈঠক শেষে বিজেপি বিধায়করা জানিয়েছেন, উত্তরবঙ্গের উন্নয়ন নিয়ে কেন্দ্র যথেষ্ট আন্তরিক। তারা আশাবাদী যে এই বৈঠকগুলির মাধ্যমে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। বিধায়কদের মতে, কেন্দ্রীয় সরকারের সহযোগিতায় উত্তরবঙ্গের পরিকাঠামো উন্নয়ন, কৃষি উন্নয়ন এবং সামাজিক কল্যাণমূলক প্রকল্পের প্রসার ঘটবে। এই উদ্যোগগুলি রাজ্যের সার্বিক উন্নয়নে সহায়ক হবে।
