বুধবার লোকসভায় ওয়াকফ সংশোধনী বিল পেশ করেছেন কেন্দ্রীয় সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু। বিলটি সংসদে পেশ হওয়ার সাথে সাথেই বিরোধী দলগুলি প্রতিবাদ শুরু করে। এই সময় কংগ্রেস সাংসদ গৌরব গগৈ বলেন, “এটি এমন একটি বিল যা সংবিধানের মূল চেতনাকে আক্রমণ করে।”
লোকসভায় কংগ্রেসের উপনেতা গৌরব গগৈ কিরেন রিজিজুর বক্তব্যের আপত্তি জানিয়ে তার বক্তৃতা শুরু করেন। তিনি মন্ত্রীর বক্তব্যকে বিভ্রান্তিকর বলে বর্ণনা করেছেন। গগৈ বলেন, “২০১৩ সালে ইউপিএ সরকার সম্পর্কে মন্ত্রী যা বলেছিলেন তা সম্পূর্ণ বিভ্রান্তিকর বক্তব্য, মিথ্যা। তিনি যে অভিযোগ করেছেন এবং যে বিভ্রান্তি ছড়িয়েছেন তা ভিত্তিহীন”।
গগৈ আরও বলেন, “এটা আমার সৌভাগ্য যে গত সংসদে আমি অযোধ্যার রাম মন্দির নিয়ে আমার দলের অবস্থান উপস্থাপন করেছি। আজ আমি বিরোধী দলের পক্ষ থেকে ওয়াকফ বিল সম্পর্কে আমার মতামত উপস্থাপন করছি। উভয় ক্ষেত্রেই একই নির্দেশিকা হল ভারতের সংবিধান। আমাদের সংবিধানে বলা হয়েছে যে সকলের সামাজিক, ধর্মীয় ও রাজনৈতিক ন্যায়বিচার এবং সমতা লাভ করা উচিত। এই বিলটি সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর উপর আক্রমণ। মন্ত্রী কিরেন রিজিজুর পুরো ভাষণটিই যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর উপর আক্রমণ।”
সরকারকে লক্ষ্য করে গৌরব গগৈ বলেন, “এই সরকারের চারটি উদ্দেশ্য রয়েছে। সংবিধানকে দুর্বল করা, বিভ্রান্তি ছড়ানো এবং সংখ্যালঘুদের অপমান করা, ভারতীয় সমাজকে বিভক্ত করা এবং চতুর্থ উদ্দেশ্য হল সংখ্যালঘুদের ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করা। কয়েক সপ্তাহ আগে, সারা দেশের মানুষ একে অপরকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছিল। তাদের ডাবল ইঞ্জিন সরকার মানুষকে রাস্তায় নামাজ পড়ার অনুমতি দেয়নি।”
সরকারের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলে গগৈ বলেন, “আজ সরকারের নজর একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের জমির উপর, আগামীকাল তাদের নজর থাকবে সম্প্রদায়ের অন্যান্য সংখ্যালঘুদের জমির উপর। আমি বলছি না যে কোনও সংশোধনী হওয়া উচিত নয়। সংশোধনীটি এমন হওয়া উচিত যাতে বিলটি আরও শক্তিশালী হয়। এই সংশোধনীগুলি সমস্যা এবং বিতর্ক বৃদ্ধি করবে। তারা চায় দেশের প্রতিটি কোণে মামলার শুনানি হোক। তারা দেশে ভ্রাতৃত্বের পরিবেশ ভেঙে দিতে চায়।
গগৈ বলেন, “রাজ্য সরকারের অনুমতি নিয়ে বোর্ডগুলি কিছু নিয়ম তৈরি করতে পারে। তারা তাঁকে সম্পূর্ণরূপে অপসারণ করতে চায়। তারা রাজ্য সরকারের ক্ষমতা শেষ করার চেষ্টা করছে। রাজ্য সরকারের নিয়ম প্রণয়নের ক্ষমতা রয়েছে। রাজ্য সরকার জরিপ কমিশনারের অনুকূলে নিয়ম প্রণয়ন করতে পারে। আপনি সবকিছু মুছে ফেলতে চান আর বলছেন এগুলো সংশোধনী।”
বিলের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে গগৈ বলেন, “সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রণালয় কি এই বিলটি তৈরি করেছে, নাকি অন্য কোনও বিভাগ এটি তৈরি করেছে? এই বিলটি কোথা থেকে এলো? আজ দেশে সংখ্যালঘুদের অবস্থা এমন হয়ে গেছে যে সরকারকে তাদের ধর্মের সার্টিফিকেট দিতে হবে। তারা কি অন্য ধর্মের কাছ থেকে সার্টিফিকেট চাইবে? ধর্মের এই বিষয়ে সরকার কেন হস্তক্ষেপ করছে?”
