গত বুধবার হোয়াইট হাউসের রোজ গার্ডেনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর নতুন শুল্কনীতি ঘোষণা করেন। এরপরে বিভিন্ন দেশের নানা সিদ্ধান্তে তো বটেই দুই দিন পর শুক্রবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তিন প্রধান শেয়ারবাজারের সূচকই ৫ শতাংশের বেশি কমে যায়। করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরুর সময় অর্থাৎ ২০২০ সালের পর থেকে এখনও পর্যন্ত মার্কিন শেয়ারবাজারের জন্য এটিই ছিল সবচেয়ে খারাপ সপ্তাহ। ট্রাম্পের নতুন আর্থিক নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে ইতিমধ্যেই ওয়াশিংটন ডিসি, নিউইয়র্ক ও অন্যান্য শহরের রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ জানিয়েছেন হাজার হাজার মানুষ।
শেয়ার বাজারে রক্তক্ষয় অব্যাহত
ট্রাম্প ট্যারিফ ধাক্কার জেরে সোমবার প্রথম দিকে জাপানের নিক্কেই সূচক ৭ শতাংশের বেশি পড়ে গেছে। এনডিটিভির রিপোর্ট অনুযায়ী গত সপ্তাহে টোকিওতে প্রথম দিকের লেনদেনে নিক্কেই ২২৫ ৭.৩৫ শতাংশ এবং বৃহত্তর টপিক্স প্রায় ৮ শতাংশ কমে যায়। শুক্রবার তা ২.৭৫ শতাংশ পড়েছিল। সিউলে কসপি ৪.৮ শতাংশ কমেছে। অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়ার ব্লু-চিপ স্টক, সোমবার খোলার কয়েক মিনিট পর ৬ শতাংশ পড়ে যায়। তাইওয়ানের শেয়ার সূচকও খোলার সময় ৯.৮ শতাংশ পড়ে।
মার্কিন বাজারেও ঘুরে দাঁড়ানোর কোনও লক্ষণ দেখা যায়নি। রবিবার নিউইয়র্ক স্টক এক্সচেঞ্জের ফিউচার এগ্রিমেন্ট তীব্রভাবে পড়ে যায়, যা সোমবার বাজার খুললে ওয়াল স্ট্রিটের শেয়ারগুলোর জন্য আরও ক্ষতির ইঙ্গিত দিচ্ছে। বেঞ্চমার্ক এসঅ্যান্ডপি ৫০০ ফিউচার ৪.৩১ শতাংশ পড়ে, নাসডাক ফিউচার ৫.৪৫ শতাংশ কমে।হিসেব মত প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ট্যারিফ ধাক্কার জেরে গত বুধবার শুরু হওয়ার পর বিশ্বব্যাপী শেয়ার বাজার থেকে প্রায় ৬ ট্রিলিয়ন ডলার মুছে গেছে।এর প্রভাব পড়েছে তেলের বাজারে।গত সপ্তাহে বড় ক্ষতির পর ব্রেন্ট ২.১২ ডলার কমে ৬৩.৪৬ ডলারে এবং মার্কিন ক্রুড ২.০৫ ডলার কমে ৫৯.৯৪ ডলারে নেমেছে।
পিছু হটতে নারাজ ডোনাল্ড ট্রাম্প
ঘরে বাইরে নানা সমালোচনা আর প্রতিবাদ সত্ত্বেও ট্রাম্প প্রশাসন তাদের ব্যাপক ট্যারিফ পরিকল্পনা থেকে পিছু হটার কোনো লক্ষণ দেখায়নি। বিনিয়োগকারীরা ভেবেছিলেন, ট্রিলিয়ন ডলার সম্পদের ক্ষতি এবং অর্থনীতির ওপর সম্ভাব্য আঘাত ট্রাম্পকে তার পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য করবে। জেপি মরগানের অর্থনীতির প্রধান ব্রুস কাসম্যান ৬০ শতাংশ মন্দার বিপদের কথা ঘোষণা করেছেন।
তাঁর নেওয়া নীতির জেরেই এমনটা হচ্ছে বা তিনি যে ইচ্ছাকৃতভাবে সব ঘটাচ্ছেন তা রবিবারও মানতে অস্বীকার করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।তিনি জোর দিয়ে বলেছেন যে বাজারের প্রতিক্রিয়া আগে থেকে অনুমান করতে পারেন না এবং বাণিজ্য ঘাটতি সমাধান না হলে তিনি অন্য দেশগুলোর সঙ্গে কোনো চুক্তি করবেন না। পড়তে থাকা বাজার সম্পর্কে তিনি জানিয়েছেন, “ওষুধ” কখনো কখনো প্রয়োজন হয়। ট্যারিফ হামলা শুরুর পর থেকে মার্কিন কোম্পানিগুলোর থেকে ট্রিলিয়ন ডলার মুছে যাওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “কখনো কখনো কিছু ঠিক করতে ওষুধ খেতে হয়।” এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ট্রাম্প জানান তিনি বিশ্ব নেতাদের সঙ্গে এই সমস্যার সমাধানের জন্য সপ্তাহের শেষে আলোচনা করেছেন এবং তাঁর দাবি, “তারা চুক্তি করতে মরিয়া।”
বাজারে ‘ব্ল্যাক মানডে’ আতঙ্ক
সোমবার এশীয় শেয়ার বাজারগুলো রক্তাক্ত অবস্থায় খোলার পর মার্কিন ফিউচারগুলো ওয়াল স্ট্রিটে উল্লেখযোগ্য ক্ষতির ইঙ্গিত দিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চাপানো ট্যারিফ টানা দু দিন ধরে বিশ্বব্যাপী শেয়ার বাজার ক্রাশ করার পর, সিএনবিসি হোস্ট জিম ক্রেমার সতর্ক করে বলেছেন, বিশ্ব বাজারে রক্তপাত ১৯৮৭ সালের ‘ব্ল্যাক মানডে’র মতো ক্র্যাশে পরিণত হতে পারে। ক্রেমার বলেছেন, সংখ্যা যাই দেখাক না কেন, বাজারের দিকনির্দেশ ট্রাম্পের পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর নির্ভর করবে।
