মানিকগঞ্জের পুটাইল ইউনিয়নের একটি নির্জন সড়কের ধারে ফেলে রাখা অদ্ভুত এক কার্টন ঘিরে শুরু হয় চাঞ্চল্য। এক হিন্দু নারীর বিভৎস্যভাবে খণ্ডিত দেহ, নারীর দেহাবশেষ আলাদা করে রাখা হয়েছিল ওষুধের একটি খালি প্যাকেটে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত এলাকাবাসী দৃশ্যটি দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়ে।
পচন ধরার কারণে মৃতদেহের চেহারার গঠন বিকৃত হয়ে যাওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। পুলিশ প্রথমে আঙুলের ছাপ সংগ্রহ করে জাতীয় পরিচয়পত্রের ডেটাবেজে মিলিয়ে দেখার চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হয়।
একপর্যায়ে আধুনিক বায়োমেট্রিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে অবশেষে উন্মোচন হয় রহস্য। জানা যায়, নিহত নারীর নাম বিউটি গোস্বামী, বয়স ৩৮ বছর। প্রযুক্তির সহায়তায় পাওয়া এই তথ্য তদন্তে নতুন মোড় এনে দেয়। বিউটির জীবনযাপন, পারিবারিক পটভূমি এবং তার চলাফেরা ঘিরেই এখন তদন্ত এগিয়ে চলছে। নিহতের পরিচয় শনাক্ত হওয়ার পর থেকেই তার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের খোঁজে নামে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
বিউটির বাড়ি লালমনিরহাটে হলেও তিনি থাকতেন ঢাকার উত্তরায় স্বামী অলোক রঞ্জন গোস্বামীর সঙ্গে। তাঁদের দুই সন্তান রয়েছে। ঘটনার পর থেকে অলোকের কোনো খোঁজ মিলছে না, যা সন্দেহ আরও ঘনীভূত করেছে। পুলিশ তাকে খুঁজে বের করতে তৎপর রয়েছে।
বিউটি গোস্বামীর মৃত্যুর ঘটনায় তার পিতা নিহার রঞ্জন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করেছেন। মেয়ের এমন নির্মম পরিণতিতে তিনি মর্মাহত ও ন্যায়বিচার প্রত্যাশী।
অন্যদিকে, ঘটনার ভয়াবহতা এবং জটিলতা বিবেচনায় তদন্তের দায়িত্ব নিয়েছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। আধুনিক প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা কৌশলের মাধ্যমে হত্যার নেপথ্যে থাকা রহস্য উদ্ঘাটনের চেষ্টা চলছে। কে বা কারা এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত—তা খুঁজে বের করতেই একাধিক তদন্তদল মাঠে কাজ করছে।
তদন্তকারীরা আরও এক নতুন দিক অনুসন্ধান করছেন। ঘটনার দিনই নবাবগঞ্জ ও মুন্সিগঞ্জ এলাকায় পাওয়া দুটি মরদেহের সঙ্গে মানিকগঞ্জের এই হত্যাকাণ্ডের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা গভীরভাবে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অপরাধের ধরন এবং মৃতদেহ উদ্ধারের পদ্ধতির মধ্যে কিছু মিল থাকায় সম্ভাব্য সংযোগকে একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে আরও তথ্য ও প্রমাণ সংগ্রহ জরুরি। তদন্ত এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে।
