মুখ্যমন্ত্রীর কাছে ন্যায়বিচার চাইলেন বিপন্ন চাকরিহারা শিক্ষক-শিক্ষিকারা
সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়
মুখ্যমন্ত্রীর কাছে ন্যায় বিচার চাইলেন যোগ্য অথচ বঞ্চিত শিক্ষক শিক্ষিকারা। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে আজ তাদের জীবন-জীবিকা ও পরিবার বিপর্যয়ের মুখে। এদের সকলেই বাড়িতে বাবা মা সন্তান রয়েছে। বেশিরভাগই পরিবারের একমাত্র রোজগেরে। অথচ আজ তারা বেকার। তাদের চাকরি নেই। এই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে আজ নেতাজি ইনডোরের সভায় মুখ্যমন্ত্রীকে সামনে পেয়ে ন্যায় বিচার চাইলেন চাকরি হারানা শিক্ষক-শিক্ষিকারা। দিনের পর দিন রাতের পর রাত জেগে পড়াশোনা করে যারা একটি সরকারি চাকরি পেয়েছিলেন। অথচ আজ তাদের জীবন-পরিবার এবং সন্তান-সন্ততিদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষা অনিশ্চিত। সরকারি চাকরিতে যোগ দেয়ার সময় চাকরির শর্তে লেখা ছিল যদি নিজে কোন দোষ করেন তাহলেই তার চাকরি যাবে। কিন্তু চাকরি হারা শিক্ষক-শিক্ষিকাদের মুখ্যমন্ত্রীর কাছে প্রশ্ন, বিনা দোষে কেন তাদের চাকরি গেল? এমনকি পুনরায় চাকরিতে নিযুক্ত হওয়ার দাবি জানানোর পাশাপাশি ফের পরীক্ষায় বসতে নারাজ তারা একথাও মুখ্যমন্ত্রীকে জানালেন চাকরিহারা শিক্ষক-শিক্ষিকারা। তাদের কথায় ” যে আইনের দ্বারা আমরা বঞ্চিত হলাম সেই আইনকে আমরা মানতে পারছি না। সেই আইনের কাছে পুনর্বিবেচনার কোন ভরসা নেই আমাদের। তাই আমাদের ন্যায্য চাকরি পাওয়ার জন্য রাজ্য সরকারকে যথোপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে হবে।” শুধু নিজেদের পরিবার-পরিজন সন্তান-সন্ততি নয়, তারা যে স্কুলে পড়াতেন সেই স্কুলের ছোট ছোট পড়ুয়াদের ভবিষ্যত এখন প্রশ্নের মুখে। সেই ছোট ছোট স্কুল পড়ুয়াদের কি দোষ মুখ্যমন্ত্রীর কাছে এই প্রশ্ন তুললেন চাকরিহারা শিক্ষক শিক্ষিকারা। রিভিউ পিটিশন এর আগে OMR সিটের যে মিরর ইমেজ সিবিআই আদালতে জমা দিয়েছে সেই মিরাট ইমেজ নিয়ে তারপর আদালতে যেতে হবে সরকারকে। সরকার কোন আইনি পথে এই সমস্যা সমাধান চাইছেন সে ব্যাপারে আলোচনা চান চাকরিহারা শিক্ষক শিক্ষিকারা। সরকারপক্ষ আলোচনা করুক মুখ্যমন্ত্রীর কাছে এমনটাই দাবি চাকরিহারাদের। এমনকি আইনি পথে যাওয়ার আগে সর্বদলীয় বৈঠক ডাকা হোক এমনটাই চাইছেন চাকরিহারা শিক্ষক-শিক্ষিকারা। কারণ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল তাদের পাশে থাকার বার্তা পাঠিয়েছেন। তাদের মতামত জানাটাও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন চাকরিহারা শিক্ষক-শিক্ষিকারা। চাকরিহারারা নিজেদের কষ্ট করে পাওয়া চাকরিতে যাতে তারা যুক্ত থাকেন সে ব্যাপারে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানান মুখ্যমন্ত্রীকে। যোগ্য আইনজীবীদের নিযুক্ত করে রিভিউ পিটিশন করা যেতে পারে। কারণ যোগ্য চাকরিপ্রার্থীদের ক্ষেত্রে ন্যায়বিচার পাওয়া যায়নি বলেই মুখ্যমন্ত্রীকে জানালেন চাকরিহারা শিক্ষক শিক্ষিকারা।
