জবাব ছিল একটাই—খেলার মাঠ। গ্যালারির রূঢ়তা কিংবা প্রতিপক্ষ সমর্থকদের উসকানিমূলক আচরণ নয়, সবুজ-মেরুন তার উত্তর দিল প্রতিভা আর পারফরম্যান্স দিয়ে। সোমবার রাতে যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে আইএসএলের দ্বিতীয় লেগে নিজেদের প্রমাণ করল মোহনবাগান। জামশেদপুর এফসিকে ২-০ গোলে হারিয়ে জায়গা করে নিল প্রতীক্ষিত ফাইনালে।
খেলার শুরু থেকেই বলের দখল রেখে দাপট দেখাতে থাকে মোহনবাগান। আক্রমণের রাস্তায় বারবার উঠে এলেও, জামশেদপুরের রক্ষণে গিয়ে আটকে যাচ্ছিল সবুজ-মেরুনদের প্রচেষ্টা। বিশেষ করে গোলপোস্টের নিচে অ্যালবিনো গোমেস ছিলেন পাহারাদারের মতো, একের পর এক শট আটকে দিয়ে দলকে রক্ষা করেন।
জেসন কামিংস বেশ কয়েকবার গোল করার সম্ভাবনা তৈরি করেছিলেন, কিন্তু নিখুঁত ফিনিশিংয়ের অভাবে লক্ষ্যভেদ করা হয়নি তাঁর। প্রতিপক্ষের জমাট রক্ষণ ও গোলকিপারের দৃঢ়তায় প্রথমার্ধে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য ধরা দেয়নি মোহনবাগানের হাতে।
অবশেষে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে বদলায় দৃশ্যপট। ৫১ মিনিটে প্রণয় হালদারের হ্যান্ডবলের সুবাদে পাওয়া পেনাল্টি থেকে কামিংস ম্যাচে প্রথম গোলটি করেন। তবু তা নিশ্চিত জয় এনে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট ছিল না। ৯৪ মিনিটে বদলি হিসেবে নামা আপুইয়া দূর থেকে চোখ ধাঁধানো এক শটে ম্যাচে শেষ কথা বলেন।
যুবভারতীর আকাশজুড়ে তখন বিজয়ের উচ্ছ্বাস। গ্যালারি জুড়ে বাঁশি, ঢোল আর মোহনবাগান-মন্ত্রে মুখর জনতা। খেলোয়াড়দের পায়ে ছিল দারুণ ছন্দ, চোখে ছিল প্রতিজ্ঞার আগুন। জামশেদপুরকে হারিয়ে যেন একটিই বার্তা দিল সবুজ-মেরুন—সম্মান রেখেই দেওয়া যায় যোগ্য জবাব। মাঠে পরিশ্রম আর মেধায় লেখা হল বদলার গল্প।
তাদের ছন্দময় পারফরম্যান্স বোঝাল, অপমান কিংবা আগ্রাসনের জবাব হিংসায় নয়, আসে দক্ষতায়। এমন পারফরম্যান্সের পর এখন অপেক্ষা আরও এক কঠিন পরীক্ষার—বেঙ্গালুরু এফসির বিরুদ্ধে ফাইনাল। যেখানে প্রতিপক্ষ হল সুনীল ছেত্রীর নেতৃত্বে চলা দুর্দান্ত দল।
এবারের আইএসএল ট্রফি ঘরে তুলতে হলে যুবভারতীর ঘরের মাঠেই দিতে হবে সেরা খেলাটা। উত্তেজনা এখন তুঙ্গে, কারণ সামনে দাঁড়িয়ে চূড়ান্ত লড়াই। সবুজ-মেরুনের সমর্থকেরা চায়, এই ছন্দ অব্যাহত থাকুক। আর একবার যেন বাজে বিজয়ের উল্লাস, যেন আরও একবার মোহনবাগানের গলায় ঝুলে ট্রফির মালা।
