স্নিগ্ধা চৌধুরী
দীর্ঘ শিক্ষাজীবনের শেষে যখন একটু স্থিতি খুঁজে পাওয়ার কথা, তখনই যেন ছায়া নেমে এল জীবনে। জীবনের মঞ্চে একটি চরিত্র, যিনি শিক্ষক, যিনি যোদ্ধা, কিন্তু এখন একা রোগ, রায় আর রাষ্ট্রের নিষ্পৃহতায় বিধ্বস্ত।
উত্তর দিনাজপুরের চোপড়ার মাঝিয়ালি হাইস্কুলের শিক্ষক সুশান্ত দত্ত, ইসলামপুরের দুর্গানগরের বাসিন্দা। ২০২২ সালে ধরা পড়ে ব্লাড ক্যানসার। প্রতিদিন চলতে থাকে ওরাল কেমোথেরাপি। তবু প্রাণপণ লড়াই। একদিকে রোগ, অন্যদিকে সংসারের দায়িত্ব এই ভার বইতে বইতেই হঠাৎ এল সুপ্রিম কোর্টের রায়। চাকরি হারালেন তিনি সহ বহু শিক্ষকের মতোই।
সোমবার নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে মুখ্যমন্ত্রীর সভা। সেখানে উঠে এল এক নতুন প্রস্তাব ২ মাস স্বেচ্ছাশ্রম দিন, চাকরি পুষিয়ে দেব। এই ঘোষণা যেন বিদ্যুৎ চমকের মতো এসে আঘাত করল সুশান্তের হৃদয়ে। কারণ, যিনি দাঁড়াতেই পারেন না ঠিকমতো, তিনি কীভাবে স্বেচ্ছাশ্রম দেবেন?
সুশান্ত বলেন, শরীরে শক্তি নেই, প্রতিদিন কেমো নিতে হয়, মাথা ঘোরে, পা কাঁপে। এর মধ্যেও কি আমি স্বেচ্ছাশ্রম দিতে পারি? তাঁর কণ্ঠে ধরা পড়ে হতাশা নয়, একরকম আত্মসমর্পণ। মুখ্যমন্ত্রীর আশ্বাসের মধ্যে কোনো আশার আলো দেখতে পাননি তিনি।
পরিস্থিতি এমনই যে, এখন আর লড়ার শক্তি নেই তাঁর। সুশান্ত বলেন, স্বেচ্ছামৃত্যুর আবেদন ছাড়া আর কোনও পথ খোলা নেই আমার কাছে।
এই একটি বক্তব্যে উঠে আসে শত শত অসহায় চাকরি হারানো শিক্ষকের চিত্র। প্রশ্ন থেকে যায় রাষ্ট্র কি কেবল নির্দেশ দেয়, না তার নাগরিকের যন্ত্রণাও বোঝে?
একজন শিক্ষক, যিনি জীবনভর আলো ছড়িয়েছেন, আজ নিজেই অন্ধকারে। রাজ্য কি এবার তাঁর দিকে একটু আলোর হাত বাড়াবে?
