কখনও ছিলেন চর্চার কেন্দ্রে, কিন্তু ব্যক্তিগত জীবনে সুখের মুখ দেখেননি ওম পুরী ও সীমা। সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে সীমা শোনালেন তাঁদের সম্পর্কের ভিত ভাঙার কাহিনি। তিনি জানান, ওমের সঙ্গে বিয়ের সময় থেকেই নন্দিতা কপূরের সঙ্গে তাঁর গোপন সম্পর্ক চলছিল।
প্রথমদিকে বিষয়টি চাপা থাকলেও, ‘সিটি অফ জয়’-এর শুটিংয়ে ওম-নন্দিতার ঘনিষ্ঠতা বাড়তে থাকলে বিষয়টি আর লুকিয়ে থাকে না। সীমা তখন ছিলেন দিল্লিতে। একদিন হঠাৎ ফোনে ওম নিজেই স্বীকার করেন—তিনি আর একা নন, নতুন প্রেমে জড়িয়ে পড়েছেন। সেই মুহূর্ত থেকেই সম্পর্কের ফাটল ছিল শুধুই সময়ের অপেক্ষা।
মুম্বই ফিরেই সীমা পান নন্দিতার একটি প্রেমপত্র, যা ওমের বাড়িতেই পড়ে ছিল। সেই সময় তিনি ছিলেন গর্ভবতী। তিন মাসের সন্তান তখন গর্ভে, কিন্তু বিয়ের আট মাসের মাথায় তাঁদের সম্পর্ক ছিন্ন হয়। শিশুটি জন্মের কিছুদিনের মধ্যেই মারা যায়। এই শোকের মধ্যেই সীমার হাতে আসে ২৫ হাজার টাকা, যা পাঠিয়েছিলেন ওম। সীমা সেই অর্থ গ্রহণ করেননি।
বিচ্ছেদের সময় সীমার হাতে কিছু অর্থ তুলেছিলেন ওম পুরী—পরিমাণটা ছিল প্রায় ছয় লক্ষ টাকা। যদিও তার আগেই সম্পর্কের ভিত এতটাই নড়বড়ে হয়ে গিয়েছিল যে, টাকাটা যেন একপ্রকার নিষ্প্রাণ আপসের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছিল।
বহু বছর পর, ২০১৭ সালে মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে, এক সন্ধ্যায় হঠাৎ সীমার সঙ্গে যোগাযোগ করেন ওম। অতীতের তীব্র ভুল আর অবহেলার কথা স্বীকার করে, কণ্ঠে কাঁপন নিয়ে ক্ষমা চান তিনি। সেই ফোনকল যেন এক দুঃসহ অধ্যায়ের যবনিকা টানার চেষ্টা ছিল। সীমা অবশ্য মানবিকতা দেখিয়ে ওমের অনুশোচনাকে ফিরিয়ে দেননি, শান্তভাবে শুনেছিলেন সব কথা।
অন্যদিকে, প্রেম থেকে সংসার—নন্দিতা কপূরের সঙ্গে ওম পুরীর দ্বিতীয় ইনিংসও শেষমেশ আর টিকল না। শুরুটা যতটা রঙিন ছিল, পরিণতি ততটাই জটিল। সম্পর্কের শুরুতে ঘনিষ্ঠতা নিয়ে যত আলোচনা, পরে ততটাই চর্চা হয় তাঁদের দাম্পত্য কলহ নিয়ে। ২০১৩ সালে নন্দিতা প্রকাশ্যে আনেন চাঞ্চল্যকর অভিযোগ—ওমের বিরুদ্ধে ঘরোয়া হিংসার মামলা করেন তিনি, যা গড়ায় আদালত পর্যন্ত।
এই ঘটনার পর থেকেই সম্পর্ক ভাঙনের গতি আরও দ্রুত হয়। নানা বিবাদের পর শেষমেশ আইনি বিচ্ছেদেই ইতি পড়ে তাঁদের দাম্পত্যে। বাইরে থেকে যা দেখাত উজ্জ্বল, ভেতরে ছিল ক্ষতবিক্ষত সম্পর্কের ছাপ।
ওম পুরীর জীবনের শেষ ক’টা বছর কেটেছে এক অদৃশ্য বিষণ্ণতার সঙ্গে লড়াই করে। সম্পর্কের পরিণতি নিয়ে তাঁর মনে জমে ছিল আক্ষেপ, আত্মগ্লানি আর কিছু না বলা কথা। যতটা খ্যাতি তিনি পেয়েছিলেন পেশাগত জীবনে, ব্যক্তিগত জীবনে ঠিক ততটাই ছিল টানাপোড়েন, অপূর্ণতা আর নীরব কান্নার গল্প।
