সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়
নির্ভুল ও স্বচ্ছ ভোটার তালিকা এবং সুষ্ঠু নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করাই মূল টার্গেট নির্বাচন কমিশনের। বিশেষ করে ডুপ্লিকেট এপিক কার্ড নম্বর অথবা ভুতুড়ে ভোটার তালিকা নিয়ে দেশজুড়ে যে রাজনৈতিক ইস্যু সামনে এসেছে তার মোকাবিলায় এবার একের পর এক বিশেষ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নিয়েছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। এই উপলক্ষে রাজ্যের দুজন জেলা নির্বাচনী আধিকারিক বা জেলাশাসক এবং ২১৭ জন বুথ লেভেল অফিসারদের দুদিনের প্রশিক্ষণ চলছে রাজধানীতে। গতকাল থেকে শুরু হবার দু’দিনব্যাপী এই প্রশিক্ষণ কর্মশালায় ইতিমধ্যেই রাজ্যের প্রতিনিধিরা দিল্লির IIIDEM ( ইন্ডিয়া ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ডেমোক্রেসি এন্ড ইলেকশন ম্যানেজমেন্ট) ভবনে প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। উল্লেখযোগ্য এই বুথ লেভেল অফিসাররাই ভোটার তালিকা তৈরীর কাজে সরাসরি যুক্ত থাকেন ।দেশের বিভিন্ন প্রান্তের সিইও দফতরের আধিকারিকরা প্রশিক্ষক হিসেবে এই কাজে যুক্ত রয়েছেন। রাজ্যের অতিরিক্ত মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক বিজিত ধর প্রশিক্ষক হিসেবে এই প্রশিক্ষণশালায় অংশ নিয়েছেন। উল্লেখযোগ্য গত ৪ মার্চ দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে সব রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকদের যে বৈঠক হয়েছিল সেই বৈঠকের নির্যাস হিসেবেই এ ধরনের প্রশিক্ষণের আয়োজন করেছে নির্বাচন কমিশন। মনে রাখতে হবে পশ্চিমবঙ্গ থেকেই প্রথম ভোটার তালিকায় গরমিলের অভিযোগ তুলেছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্বয়ং। যেখানে রাজ্যের ভোটার তালিকায় ভিন রাজ্যের বাসিন্দাদের এপিক কার্ডের নম্বর মিলে গিয়েছিল বলে তিনি অভিযোগ করেন যাকে ভোটার তালিকায় ভুতুড়ে ভোটার হিসেবে উল্লেখ করা হয় রাজ্যের শাসক দলের পক্ষ থেকে। নানা পরীক্ষা নিরীক্ষার পর অবশেষে ভোটার তালিকা নতুন ভাবে খতিয়ে দেখে রাজ্যে এ ধরনের ৬০০ ভোটার কার্ড বাতিল করা হয়। শুধু রাজ্য নয় মূল যে রাজ্যগুলোর দিকে অভিযোগের আঙ্গুল তুলেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেই হরিয়ানা গুজরাট পাঞ্জাবেও এ ধরনের ডুপ্লিকেট বাতিল করতে হয়েছে কমিশনকে। এই ভুল-ভ্রান্তি দূর করতে কমিশনকে নিজের নিয়মকে বিকেন্দ্রীকরণও করতে হয়েছে। অর্থাৎ যে পদ্ধতি শুধুমাত্র জাতীয় নির্বাচন কমিশনের এক্তিয়ারভুক্ত ছিল সেই পদ্ধতির সঙ্গে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের জেলায় জেলায় পিআরও বা ইলেকশন রেজিস্ট্রেশন অফিসারদেরও যুক্ত করা হয়েছে। যাতে এই ধরনের রাজনৈতিক ইস্যুর অভিযোগ থেকে নিষ্কৃতি পায় নির্বাচন কমিশন এবং কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে কোন প্রশ্ন না ওঠে। সেই উদ্দেশ্যেই দিল্লিতে দুদিনের এই প্রশিক্ষণশালার আয়োজন করা হয়েছে যেখানে প্রতিটি রাজ্যের ডিইও দের প্রতিনিধি এবং বুথ লেভেল অফিসারদের প্রশিক্ষিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে জনপ্রতিনিধিত্ব আইন, ১৯৫০ ও ১৯৫১ এবং রেজিস্ট্রেশন অফ ইলেক্টর আইন ১৯৬০ ও conduct of election রুলস ১৯৬১ অনুযায়ী ২৮ টি রাজ্যের এবং ৮টি কেন্দ্র শাসিত অঞ্চলের মিডিয়া অফিসারদেরও প্রশিক্ষণের আওতাধীন করা হয়েছে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে।
