এসএসসি দুর্নীতি মামলায় সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক রায় প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীর চাকরি বাতিল। গত বৃহস্পতিবারের এই রায়ের পর গোটা রাজ্যে নেমে এসেছে বিষাদের ছায়া। বহু চাকরিহারা চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি। দুঃখ-হতাশার মাঝেই হঠাৎই একটুখানি আশার আলো স্কুলের বেতন পোর্টাল খুলতেই সেখানে দেখা যাচ্ছে, তালিকায় রয়ে গিয়েছেন বাতিল হওয়া চাকরিপ্রাপ্তরাও।
বেতন পোর্টালের তালিকা থেকে এখনও বাদ যায়নি ওই ২৬ হাজারের নাম। মিডিয়া রিপোর্ট বলছে, অনেক স্কুলের প্রধান শিক্ষক ইতিমধ্যেই অনলাইনে বেতনের রিকুইজিশন জমা দিয়েছেন। তবু প্রশ্ন রয়েই যায় পোর্টালে নাম থাকলেই কি বেতন মিলবে হাতে? এই নিয়ে তৈরি হয়েছে দ্বিধা ও উদ্বেগ। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, মধ্যশিক্ষা পর্ষদ সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছে যেন চাকরিহারাদের বেতন দেওয়া যায়।
শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুর কথায়, “পোর্টাল আপডেটের কাজ চলবে। কোথাও বেতন বন্ধের নির্দেশ আছে কি না, জানা নেই। তবে আমরা মানবিকভাবে পাশে আছি।” পাশাপাশি, আন্দোলন ও আলোচনার পথ খোলা রাখা নিয়েও মন্ত্রী বার্তা দিয়েছেন।
চাকরি ফিরে পাওয়ার দাবিতে বুধবার সকাল থেকেই রাজ্যের একাধিক জেলার ডিআই অফিস ঘিরে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন চাকরিহারারা। কসবায় পুলিশের সঙ্গে চাকরিহারাদের সংঘর্ষ হয়, আহত হন উভয়পক্ষ। পুলিশের বিরুদ্ধে লাথি মারার অভিযোগ উঠেছে যা ‘কাম্য নয়’, বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন পুলিশ কমিশনার মনোজ ভর্মা।
এরই মাঝে সোমবার নেতাজি ইন্ডোরে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে চাকরিহারাদের বৈঠকেও উত্তেজনা ছড়ায়। মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্য নিয়ে চলছে তুমুল আলোচনা।
এদিকে, বৃহস্পতিবার শিয়ালদা থেকে রাজপথে মিছিলের ডাক দিয়েছেন চাকরিহারাদের একাংশ। শুক্রবার আরও বড়সড় ‘এসএসসি অভিযান’-এর প্রস্তুতি চলছে।
এই আন্দোলন কি আবার একবার বদলে দেবে রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণ? নজর এখন রাজপথে।
