স্নিগ্ধা চৌধুরী
আইন পেরিয়ে যেন এবার আইনেরই বিচার শুরু! একদিকে বিধানসভা পাশ করা একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ বিল, অন্যদিকে রাজভবনের শীতল নৈঃশব্দ্য। এ যেন গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাঝপথে এক অলিখিত ‘রেড সিগন্যাল’। সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ ঘিরে শুরু হওয়া বিতর্কের ঢেউ ছড়াল বঙ্গ রাজনীতিতেও আর তার জবাবে সরব হল রাজভবন।
রাজ্যের বিধানসভায় পাশ হওয়া মোট ২২টি বিলের মধ্যে কয়েকটি এখনও রাষ্ট্রপতির বিবেচনার অপেক্ষায়। এই অবস্থাকে কেন্দ্র করে রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসকে কর্তব্য স্মরন করিয়েছিলেন স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়। তার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই রাজভবন প্রকাশ করল একগুচ্ছ বিবৃতি যেখানে স্পিকার বা রাজ্য সরকারের নাম সরাসরি না বলেও বুঝিয়ে দেওয়া হল, আমরা সংবিধান মেনে চলি, আপনারাও মানুন।
রাজভবনের তরফে জানানো হয়েছে, আটকে থাকা বিলগুলোর মধ্যে পাঁচটিতে ইতিমধ্যেই অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, দুইটিতে তথ্য তলব করা হয়েছে, এবং ১১টি বিল রাষ্ট্রপতির বিবেচনার জন্য পাঠানো হয়েছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, বিশ্ববিদ্যালয় সংক্রান্ত ১০টি বিল এবং অপরাজিতা বিল রয়েছে সেই তালিকায়। অপরাধ দমনে কঠোর পদক্ষেপ নিতে পাশ হওয়া এই বিলটি বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে বিবৃতিতে।
এছাড়া, ডানলপ, জেসপ, হাওড়া পুরসভা, এবং গণপিটুনি সংক্রান্ত বিলে রাজভবন রাজ্য সরকারের কাছ থেকে আরও তথ্য চেয়েছে। কোনও কোনও ক্ষেত্রে মন্ত্রী ও সচিবদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার প্রস্তাবও দিয়েছে।
বিলে আটকে সরকারের কাজের গতি শ্লথ হচ্ছে এই অভিযোগে ঘি ঢালছে এই বিরোধ। রাজ্যপালের যুক্তি, তথ্য না এলে কীসের ভিত্তিতে অনুমোদন? অন্যদিকে, রাজ্য বলছে,
এই তো সংবিধান লঙ্ঘন।
রাজনীতির এই ‘লম্বা বিল লড়াই’ কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়, সেটাই এখন দেখার। কিন্তু ততদিন পর্যন্ত, বিল আটকে ‘গিলে খাচ্ছে’ রাজ্যের প্রশাসনিক স্বপ্ন।
