বিরোধীরা রাজনীতী করছে, ভরসা মুখ্যমন্ত্রীই বললেন ব্রাত্য
সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়
যোগ্য চাকরিহারারা চাকরি পাবেন এবং যতদিন সমস্যা ফয়সালা না হয় ততদিন তারা বেতনও পাবেন। একটি বৈদ্যুতিন মাধ্যমে সাক্ষাৎকারে এমনটাই জানালেন রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু। ইতিমধ্যেই চাকরি হারাদের কাজে যোগ দেয়ার আবেদন জানিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। সেক্ষেত্রে কারা কাজে যোগ দেবেন কারা দেবেন না সেটা চাকরি হারাদের ব্যক্তিগত ইচ্ছা ইচ্ছা- অনিচ্ছার উপর নির্ভর করছে বলে জানান শিক্ষামন্ত্রী। তবে সাংবিধানিক পদে থেকে দেশের শীর্ষ আদালত যে রায় দিয়েছেন তাঁর পক্ষে বলা সম্ভব নয় সেটাও অকপট জানিয়েছেন ব্রাত্য বসু। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে যারা অযোগ্য বা দুর্নীতিগ্রস্ত হয়ে চাকরি পেয়েছেন তাদের অবিলম্বে চাকরি বাতিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং একই সঙ্গে বেতন ফেরতেরূও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যেহেতু সুপ্রিম কোর্টে যোগ্য অথবা অযোগ্য কোনো পৃথকীকরণ করা যায়নি সেইহেতু কারা চাকরিতে যোগ দেবেন বা তাদের বেতন দেয়া হবে সে ব্যাপারে সাংবিধানিক পদে থেকে সরাসরি কোনও মন্তব্য করতে চাননি শিক্ষামন্ত্রী। তার মন্তব্য, “আমি আদালত অবমাননা হোক এরকম কোন মন্তব্য করতে পারি না। কিন্তু যারা সাংবিধানিক পদে নেই তারা এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিতে পারে।” অর্থাৎ যোগ্য অযোগ্য ভাগাভাগি না করে সব চাকরিহারা শিক্ষক শিক্ষিকা বা শিক্ষা কর্মীরা যাতে স্কুলে স্কুলে তাদের কাজে যোগ দেন সেই ইঙ্গিতই করেছেন রাজ্যের শিক্ষা মন্ত্রী। ইতিমধ্যে নেতাজি ইনডোরের সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রীর আশ্বাস পেয়ে চাকরিহারা শিক্ষক-শিক্ষিকা বা শিক্ষা কর্মীরা কাজে যোগ দিয়েছেন। তবে একটা বড় অংশ এখনো কাজে ফেরত যাননি বরং রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ প্রতিরোধ আন্দোলনে সামিল হয়েছেন। শিক্ষামন্ত্রী জানান, ” যারা চাকরি হারিয়েছেন তাদের মানসিক ও পারিবারিক যে বেদনা সেটা আমরা বুঝি। কিন্তু এটাও তাদের বোঝা উচিত যে বিরোধীরা কোনদিনই তাদের পাশে ছিলেন না ভবিষ্যতেও থাকবেন না।” উল্লেখযোগ্য, ইতিমধ্যেই সরকার পোষিত স্কুলগুলিতে এপ্রিল মাসের স্যালারি পোর্টাল খুলে দেওয়া হয়েছে যেখানে বাতিল শিক্ষকদের অন্তর্ভুক্ত করে বেতন তালিকা পাঠিয়েছে স্কুল কর্তৃপক্ষরা। অর্থাৎ এপ্রিল মাসের বেতন পাবেন সমস্ত চাকরিহারা শিক্ষক শিক্ষিকা ও শিক্ষা কর্মীরা। এটা নিশ্চিত করেছে রাজ্য সরকার। ইতিমধ্যেই মাস পয়লায় গত মাসের বেতন তারা পেয়েছেন। এই যুক্তি কাজে লাগিয়ে শিক্ষা মন্ত্রীদের চাকরি হারাদের উদ্দেশ্যে বার্তা দিয়েছেন, আইনের সিদ্ধান্ত, তাই পাল্টা লড়াই হবে আইনি যুক্তিতে। মধ্যশিক্ষা পর্ষদ রায়ের সামান্য পরিবর্তন চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের দারস্থ হয়েছে। রাজ্য সরকার ও সুপ্রিম কোর্টের রায় পুনর্বিবেচনার লক্ষ্যে ইতিমধ্যেই ইউরেটি ভ ও রিভিউ পিটিশন করেছে। অর্থাৎ, মুখ্যমন্ত্রী দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী চাকরি হারাদের স্বার্থ রক্ষায় রাজ্য সরকার যে ইতিমধ্যেই আইনি পথে এগিয়েছে তা বুঝিয়ে চাকরি হারাদের প্রতি ব্রাত্য বসুর স্পষ্ট বার্তা
বিরোধীরা তাদের নিয়ে শুধু রাজনীতিই করছেন। এটা শিক্ষক শিক্ষিকাদের বুঝতে হবে।ভরসা রাখতে হবে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর উপরেই, আমার মুখ্যমন্ত্রীর উপরে।”
