ট্রাম্পের শুল্ক নীতি নিয়ে বিশ্বব্যাপী উদ্বেগের মধ্যেই এবার ভারতে আসছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মাইকেল ওয়াল্টজ।জানা যাচ্ছে ২১ এপ্রিল ভারতে আসতে পারেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট। মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মাইক ওয়াল্টজেরও একই সময়ে ভারতে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের এই ভারত সফরে তাঁর সঙ্গে আসবেন স্ত্রী উষাও।প্রথম ভারতীয় বংশোদ্ভূত হিসাবে মার্কিন সেকেন্ড লেডি হয়েছেন তিনি। উষার পূর্বপুরুষ অন্ধ্রপ্রদেশের বাসিন্দা ছিলেন এবং প্রায় ৫০ বছর আগে তাঁরা পাকাপাকিভাবে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস শুরু করেন। ইয়েল ল স্কুলে পড়াশোনা করতে গিয়ে জেডির সঙ্গে উষার আলাপ। প্রথম ভারতীয় বংশোদ্ভূত হিসাবে মার্কিন সেকেন্ড লেডি হয়ে নজির গড়েছেন উষা।
জানা যাচ্ছে ভ্যান্স,উষা ভ্যান্স তাদের সন্তানদের নিয়ে ২১ এপ্রিল থেকে ভারত সফরে আসছেন।ভ্যান্স এবং তার পরিবারের শিমলা, হায়দরাবাদ, জয়পুর এবং দিল্লি ভ্রমণের পরিকল্পনা রয়েছে।ভ্যান্স এবং ওয়াল্টজ দুজনেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
ট্রাম্পের শুল্ক নীতির পটভূমিতে এই দুই শীর্ষ মার্কিন নেতার ভারত সফরকে গুরুত্ব দিয়েই দেখা হচ্ছে। মার্কিন শুল্ক নীতি ইতিমধ্যেই বিশ্ব বাণিজ্যে ব্যাপক বিঘ্ন সৃষ্টির পাশাপাশি অর্থনৈতিক মন্দার আশঙ্কা তৈরি করেছে।বুধবারই ট্রাম্প চিন ছাড়া সব দেশের উপর শুল্ক ৯০ দিনের জন্য স্থগিত করার ঘোষণা করেছেন।এই আবহে ভ্যান্সের ভারত সফরে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদার, কৌশলগত অংশীদারিত্ব এবং বাণিজ্যিক আলোচনা মূল এজেন্ডা হবে বলে মনে করা হচ্ছে। পাশাপাশি মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্টের উপস্থিতিতে ভারত-মার্কিন দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত রূপ নিতে পারে বলেই আশা করা হচ্ছে।
কারণ জানা যাচ্ছে হাতে পাওয়া ৯০ দিন সময়কে কাজে লাগিয়ে আমেরিকার সঙ্গে আংশিক দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি সেরে ফেলতে চায় মোদী সরকার, যাতে ভবিষ্যতে ট্রাম্পের শুল্ক এড়ানো যায়। বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর শুক্রবার ভারতের এই সক্রিয়তার দিকেই ইঙ্গিত করেছেন। তাঁর বক্তব্য, ট্রাম্প বাকি দুনিয়ার সঙ্গে লেনদেনের নীতিটাই বদলে ফেলেছেন। তার প্রভাব সমস্ত ক্ষেত্রে পড়বে। কেন্দ্রীয় বাণিজ্য দফতরের আধিকারিকরা জানিয়েছেন, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্টের ভারত সফরে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির প্রথম পর্বের শর্তাবলী চূড়ান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পরের ৯০ দিনের মধ্যে চুক্তি চূড়ান্ত রূপ নেবে।
অন্যদিকে মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মাইকেল ওয়াল্টজ তার সফরের সময় ভারত-মার্কিন ট্রাস্ট (ট্রান্সফরমিং দ্য রিলেশনশিপ ইউটিলাইজিং স্ট্র্যাটেজিক টেকনোলজি) উদ্যোগের অধীনে সহযোগিতার কথা জানাবেন যা গত মাসেই প্রধানমন্ত্রী মোদী এবং রাষ্ট্রপতি ট্রাম্পের মধ্যে আলোচনার পর ঘোষিত হয়েছিল।এই উদ্যোগটি মূলত জো বাইডেন প্রশাসনের সময় চালু হওয়া ভারত-মার্কিন ক্রিটিকাল অ্যান্ড ইমার্জিং টেকনোলজি (আইসিইটি)র উদ্যোগের বদলে এসেছে। ২০২২ সালের মে মাসে প্রধানমন্ত্রী মোদী এবং তৎকালীন মার্কিন রাষ্ট্রপতি জো বাইডেনের উদ্যোগে চালু হওয়া এই প্রকল্পের লক্ষ্য ছিল গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তির ক্ষেত্রে ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে গভীরতর সহযোগিতা গড়ে তোলা।২০২৪ সালেই দুই দেশ সেমিকন্ডাক্টর, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, উন্নত টেলিযোগাযোগ এবং প্রতিরক্ষা মহাকাশের ক্ষেত্রে ভারত-মার্কিন সহযোগিতা গভীর করার জন্য একাধিক রূপান্তরমূলক উদ্যোগ ঘোষণা করেছিল। জানা গেছে এই সফরে ওয়াল্টজ জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালের সঙ্গে আলোচনা করবেন এবং সম্ভবত বিদেশমন্ত্রীর সঙ্গেও সাক্ষাৎ করবেন।
Leave a comment
Leave a comment
