উপাচার্য নিয়োগের জট কাটাতে উদ্যোগী ‘দ্য এডুকেশনিস্ট ফোরাম’
সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়
তামিলনাড়ুর রাজ্যপালের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক রায়কে সামনে রেখে এবার রাজ্য ও রাজ্যপাল সংঘাতে নয়া মোড়। রাজু ভবনের সঙ্গে নবান্নের সংঘাতে রাজ্যের 17 টি বিশ্ববিদ্যালয় এখনো উপাচার্যহীন। উল্টে নতুন করে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় ভারপ্রাপ্ত উপাচার্যকেও অব্যাহতি দিয়েছেন রাজ্যপাল। এই পরিস্থিতিতে রাজভবনের বিরুদ্ধে স্বৈরতান্ত্রিক আচরণের আঙুল তুলে তামিলনাড়ু রাজ্যপালের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশকেই হাতিয়ার করতে চাইছেন রাজ্যের দ্য এডুকেশালিস্ট ফোরাম অফ ওয়েস্ট বেঙ্গল। সুপ্রিম কোর্টের এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তকে হাতিয়ার করেই পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করতে চাইছে ফোরাম। এই উদ্দেশ্যে ফোরামের পক্ষ থেকে সাত সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে যেখানে বিভিন্ন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রাক্তন দিন আইনজীবী রয়েছেন। এই সাত সদস্যের কমিটি তামিলনাড়ু রাজ্যপালের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্ট যে নির্দেশ দিয়েছে সেই নির্দেশনামা খতিয়ে দেখবে এবং রাজ্যের প্রেক্ষিতে উপাচার্য নিয়োগ নিয়ে রাজ্যপাল যে একতরফা সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন বা দীর্ঘসুক্তি তা করছেন সেই সিদ্ধান্তকে কিভাবে মোকাবিলা করা যায় তা পাবলিক ফোরামে জানাবেন এবং রাজ্য সরকারকে রিপোর্ট দেবেন। উল্লেখযোগ্য, তামিলনাড়ুর রাজ্যপালের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের করেছিল তামিলনাড়ু সরকার। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে রাজ্যপাল দশটি বিল যা তামিলনাড়ু বিধানসভায় সর্বসম্মতিক্রমে সেগুলি আটকে দেখেছেন। ফলে সরকারি কাজকর্ম যেমন ব্যাহত হচ্ছে তেমনি রাজ্য সরকারের স্বাধীনতা ক্ষুন্ন করে প্রশাসনিক কাজকর্ম ব্যাহত করার চেষ্টা করছেন রাজ্যপাল বলে সুপ্রিম কোর্টে অভিযোগ জানায় তামিলনাড়ু সরকার। অভিযোগ খতিয়ে দেখে এবং দুপক্ষের সওয়াল জবাব শেষে গত ৮ এপ্রিল সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি জে বি পারদিওয়ালা ও বিচারপতি আর মহাদেবন এর বেঞ্চ আটকে থাকা ওই ১০ টি বিল কে আইনে পরিণত করার নির্দেশ দেন। বিলের অনুমোদনে রাষ্ট্রপতি বা রাজ্যপালের অনুমতি নেওয়ার প্রয়োজন নেই বলে জানিয়ে দেয় সুপ্রিম কোর্ট। স্বাভাবিকভাবেই রাজ্যগুলির স্বাধীনতা রক্ষায় এবং রাজ্য প্রশাসনের সুষ্ঠু পরিচালনার ক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্টের এই রায় ঐতিহাসিক। আর তামিলনাড়ুর এই পরিস্থিতি পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে সম্পূর্ণ মিল রয়েছে একথা মনে করেই সুপ্রিম কোর্টের এই রায়কে উদাহরণ হিসেবে যুক্তি দেখিয়ে এবং সংবিধানের ১৪২ নম্বর ধারাকে হাতিয়ার করে এরাজ্যেও উপাচার্য নিয়োগের রাস্তা সুগম করতে এবং রাজ্য-রাজ্যপাল সংঘাতের নিরসন করতে চায় এডুকেশালিস্ট ফোরাম। তামিলনাড়ুর রাজ্যপাল যেভাবে দশটি বিল আটকে রেখেছিলেন পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রেও উপাচার্য নিয়োগ থেকে রাজ্য বিধানসভায় পাশ হওয়া একাধিক বিল নিয়ে রাজ্য সরকারের সঙ্গে অসহযোগিতার মনোভাব দেখাচ্ছেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। সেক্ষেত্রে আইনি পথে লড়াই করে কিভাবে রাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয় গুলিতে উপাচার্য সংকটের রাস্তা খোলা যায় এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলির প্রশাসনিক কাজকর্মে অচলাবস্থা দূর করা যায়, সেই লক্ষ্যেই এবার এগোতে চায় এডুকেশনিস্ট ফোরাম। অবশ্যই এ ব্যাপারে রাজ্য সরকারের সহযোগিতাও আশা করছেন তাঁরা।
