রাত পোহালেই বাংলাদেশে বাংলা নতুন বছর বা পয়লা বৈশাখ।জুলাই আন্দোলন ও তার জেরে গত অগস্ট মাসে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বাংলাদেশে নববর্ষ পালন করা নিয়েই ওঠে নানা প্রশ্নচিহ্ন।এবার পয়লা বৈশাখ উপলক্ষে আয়োজিত আনন্দ শোভাযাত্রার জন্য তৈরি করা ফ্যাসিস্টদের ব্যঙ্গ-প্রতিকৃতি কাঠামো আগুনে পুড়ে যাওয়ায় তৈরি হয়েছে নানা বিতর্ক।
প্রথম আলোর খবর অনুযায়ী শনিবার সকালে চারুকলা অনুষদে যেখানে মোটিফ তৈরির কাজ চলছিল সেখানে নববর্ষের শোভাযাত্রা উদ্যাপনের জন্য বানানো দুটি মোটিফ আগুনে পুড়ে গেছে। এর মধ্যে একটি ফ্যাসিবাদের মুখাকৃতি ও আরেকটি শান্তির পায়রা।এভাবে মোটিফে আগুন লাগার ঘটনা রহস্যজনক বলে জানায় ফায়ার সার্ভিস।এই ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
এদিকে নববর্ষের আনন্দ শোভাযাত্রা উদ্যাপনের জন্য বানানো মোটিফে আগুন ঘটনার নিন্দার পাশাপাশি জড়িত ব্যক্তিদের শাস্তির দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহলে।ঘটনার নিন্দার পাশাপাশি জড়িত ব্যক্তিদের শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট।ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে জাতীয়তাবাদী শিক্ষকদের সংগঠন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাদা দল।অবিলম্বে অগ্নিকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে তাঁদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। বিবৃতিতে নেতারা বলেন,চারুকলা অনুষদের চার দেয়ালের ভেতরে তৈরি করা এসব প্রতিকৃতিতে আগুন দেওয়া নিছক কোনো রহস্যজনক নয়।এটি একটি পরিকল্পিত অগ্নিকাণ্ড।
এদিকে বাংলা নববর্ষ পালন উপলক্ষ্যে বিশেষ বিধিনিষেধের কথা জানিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।পাশাপাশি বাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে বর্ষবরণ আনন্দ শোভাযাত্রায় এ বছর ৭টি বড় মোটিফ,৭টি মাঝারি মোটিফ এবং ৭টি ছোট মোটিফ থাকবে। শোভাযাত্রায় ২৮টি জাতিগোষ্ঠী, বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনসহ বিভিন্ন দেশের অতিথিরা অংশ নেবেন। ‘নববর্ষের ঐকতান, ফ্যাসিবাদের অবসান’ এই ভাবনাকে সঙ্গী করে সকাল ৯টায় চারুকলা অনুষদের সামনে থেকে ‘বর্ষবরণ আনন্দ শোভাযাত্রা’ বের হবে। সকাল ৮টা থেকে শোভাযাত্রার প্রস্তুতি চলবে। শোভাযাত্রাটি চারুকলা অনুষদের সামনে থেকে শুরু হয়ে শাহবাগ মোড় ঘুরে টিএসসি মোড়, শহীদ মিনার, শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্র, দোয়েল চত্বর হয়ে বাংলা একাডেমির সামনের রাস্তা দিয়ে পুনরায় চারুকলা অনুষদে গিয়ে শেষ হবে।
নববর্ষ উপলক্ষে নিরাপত্তার স্বার্থে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে পর্যাপ্ত সিসি ক্যামেরা ও আর্চওয়ে স্থাপনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পহেলা বৈশাখকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশের র্যা পিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের ( র্যা ব) মহাপরিচালক একেএম শহিদুর রহমান।এমনকি কেউ যেন অপপ্রচার চালাতে না পারে সেজন্য সাইবার ওয়ার্ল্ডেও মনিটর করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন র্যা ব মহাপরিচালক একেএম শহিদুর রহমান। জানানো হয়েছে গোটা বাংলাদেশে র্যা বের ২২৪টি পিকআপ টহল ও ১২২টি মোটরসাইকেল টহল চলবে। এ ছাড়া, সাদা পোশাকে ৪১৩ জনসহ সর্বমোট দুই হাজার ৪৪৯ জন র্যা ব সদস্য মোতায়েন থাকবে।
তবে এবছর পয়লা বৈশাখ ও বাংলা নববর্ষ-১৪৩২ উদযাপনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের আয়োজনে ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’র নাম পাল্টে করা করা হয়েছে ‘বর্ষবরণ আনন্দ শোভাযাত্রা।’ সরাসরি মঙ্গল শোভাযাত্রা নিয়ে প্রশ্ন তোলে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। প্রথম আলোয় প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী এই দলের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম বাংলা নববর্ষ উদ্যাপনের কোনো আয়োজনে ইসলাম অসমর্থিত কিছু থাকা যাবে না বলে জানান। বুধবার দলের সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় কালে তিনি ‘ মঙ্গল শোভাযাত্রা ’ নামে কোনো কিছু করা যাবে না বলেও উল্লেখ করেন। এর একদিন পরেই শুক্রবার সংবাদ সম্মেলনে বাংলা নববর্ষ-১৪৩২ উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক চারুকলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক আজহারুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা মঙ্গল শোভাযাত্রার নাম পরিবর্তন করিনি, বরং আসল আনন্দ শোভাযাত্রা নামটি পুনরুদ্ধার করেছি।’ এর ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, ‘১৯৮৯ সালের প্রথম শোভাযাত্রায় স্বতঃস্ফূর্তভাবে আনন্দ শোভাযাত্রা নামটি গৃহীত হয়েছিল। পরে যখন এর নাম মঙ্গল শোভাযাত্রা করা হয়, সেই পরিবর্তন একইরকম স্বতঃস্ফূর্ততার সঙ্গে ঘটেনি।’
Leave a comment
Leave a comment
