ইউক্রেন যুদ্ধ দ্রুত শেষ করতে ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ মস্কোয় রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে বসার পরে পরেই ফের ইউক্রেনে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাল রাশিয়া।রবিবার সকালে ইউক্রেনের উত্তরাঞ্চলের শহর সুমির কেন্দ্রে রাশিয়ার একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কমপক্ষে ২১ জন নিহত ও ৮৩ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন ইউক্রেনের মন্ত্রী ইহোর ক্লিমেঙ্কো।এই হামলাকে চলতি বছরের অন্যতম ভয়াবহ হামলা হিসেবে আখ্যা দিয়ে প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।পাশাপাশি মস্কোর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
এদিকে এই হামলার একদিন আগেই শান্তি ফেরাতে ও যুদ্ধ বন্ধে সেন্ট পিটার্সবার্গে পুতিন ও মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ বৈঠকে বসেন। বিভিন্ন সংবাদ সংস্থার তথ্যমতে, তাঁদের বৈঠক প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টা স্থায়ী হয়েছে। বৈঠকের পর ক্রেমলিন সংক্ষেপে বলেছে, সূচি অনুযায়ী যথাসময়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘ইউক্রেনের রাশিয়ার অধিকৃত অঞ্চল সহ নানা দিককে কেন্দ্র করে বিভিন্ন আলোচনা হয়েছে’।এর বাইরে আলোচনার বিষয়বস্তু নিয়ে বিস্তারিত কিছু জানায়নি ক্রেমলিন। যদিও জেলেনস্কি বারবার ইউক্রেনের অংশগ্রহণের ওপর জোর দিলেও এই বৈঠকে কোনো ইউক্রেনীয় প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন না।
আলোচনা চললেও পুতিন শান্তি চাননা বলে এর আগে বারবার অভিযোগ করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট।এই হামলার পর জেলেনস্কি লিখেছেন, “শুধুমাত্র কাপুরুষেরাই এভাবে কাজ করতে পারে—নিরীহ মানুষের জীবন কেড়ে নেওয়া,” তিনি আরও লেখেন, “এটা এমন এক দিনে ঘটেছে, যেদিন মানুষ গির্জায় যায়—পাম সানডে, যীশুর জেরুজালেমে প্রবেশ দিবস।”
ইউক্রেনের ‘সেন্টার ফর কাউন্টারিং ডিজইনফরমেশন’-এর প্রধান এবং নিরাপত্তা কর্তা আন্দ্রিই কোভালেঙ্কো এক্স –এ জানান, এই হামলাটি মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফের মস্কো সফরের পরপরই হয়েছে। “রাশিয়া তাদের তথাকথিত কূটনীতিকে গড়ে তুলছে সাধারণ মানুষের ওপর এই ধরনের হামলার মাধ্যমে।”
এদিকে সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী ট্রাম্পের দূত উইটকফ মনে করেন, ইউক্রেনের পূর্বদিকের চারটি অঞ্চলকে নিজেদের মালিকানায় আনতে রাশিয়া যে কৌশল নিয়েছে, তাকে সমর্থন দেওয়াটাই ইউক্রেনে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করার একটি দ্রুততম উপায়। আর এতেই প্রমাদ গুনছেন ইউরোপীয় দেশগুলো। পাশাপাশি রিপাবলিকান সদস্যের ধারণা, ট্রাম্প প্রশাসন ব্যাপকভাবে রাশিয়ার দিকে ঝুঁকে পড়েছে। ট্রাম্পের দূত উইটকফের এইরকম ভাবনা ও রবিবারের হামলার পর প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপকে রাশিয়ার বিরুদ্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “রাশিয়া এই ধরনের সন্ত্রাসই চায় এবং তারা যুদ্ধকে দীর্ঘায়িত করছে। আগ্রাসীর ওপর চাপ ছাড়া শান্তি সম্ভব নয়। বলিষ্ঠ কূটনীতি কোনোদিন ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও বোমা বন্ধ করতে পারেনি।”
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রায় আক্রমণ শুরু করে এবং সেদেশের প্রায় ২০% ভূখণ্ড দখল করে রেখেছে। পূর্বাঞ্চলে ধীরে ধীরে অগ্রসর হচ্ছে রুশ বাহিনী, যদিও বর্তমানে যুদ্ধের ময়দান মূলত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার দখলে। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় শনিবার জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ইউক্রেন রাশিয়ার পাঁচটি জ্বালানি পরিকাঠামোর ওপর হামলা চালিয়েছে, যা একটি বিরতিচুক্তির লঙ্ঘন। গত মাসে ইউক্রেন ও রাশিয়া একে অপরের জ্বালানি পরিকাঠামোগুলোর ওপর হামলা বন্ধে সম্মত হয়েছিল, কিন্তু দুই পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে এই চুক্তি ভাঙার অভিযোগ তুলেছে।
Leave a comment
Leave a comment
