টলিউডের দুই জনপ্রিয় তারকা স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায় ও অনির্বাণ ভট্টাচার্য সম্প্রতি অংশ নিলেন এক ব্যতিক্রমী সাহিত্যসন্ধ্যায়, যেখানে মূল উপজীব্য ছিল “অপূর্ণ প্রেম”। কলকাতার কেসিসি বৈঠকখানা আয়োজিত এই ইভেন্টে তাঁরা পাঠ করলেন এমন কিছু প্রেমপত্র, যা শুধু ভালোবাসার নয়, সময় ও সাহিত্যের এক অমূল্য দলিল হয়ে উঠেছে।
এই অনুষ্ঠানে দর্শকরা পেলেন এক নীরব আবেগের স্রোত, যেখানে চিঠির শব্দের মাধ্যমে ফুটে উঠল সেই প্রেম, যা কখনও পূর্ণতা পায়নি, অথচ স্মৃতিতে থেকে গেছে আজীবন। অনির্বাণ ভট্টাচার্য এদিন মঞ্চে উপস্থিত হয়েছিলেন ক্যাজুয়াল পোশাকে—কালো টি-শার্ট ও জিন্সে। তাঁর সহজ, সাবলীল উপস্থিতি যেন মিলেমিশে গিয়েছিল পাঠ্য চিঠির অনুভবের সঙ্গে। অন্যদিকে, স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়ের পরনে ছিল কালো শাড়ি, কপালে লাল বড় টিপ, লম্বা দুল, চোখে মোটা ফ্রেমের চশমা—সাহিত্যিক ভাবমূর্তিকে পরিপূর্ণ করে তুলেছিল তাঁর রূপ।
এই সাহিত্য সন্ধ্যায় উঠে আসে একাধিক বিখ্যাত এবং ঐতিহাসিক প্রেমগাঁথা। তাঁদের পাঠে ছিল অমৃতা প্রীতম ও ইমরোজের অপূর্ণ অথচ গভীর প্রেমের চিঠি। ফুটে ওঠে মেক্সিকান শিল্পী ফ্রিডা কাহলো ও চিত্রশিল্পী দিয়েগো রিভেরার সম্পর্কের টানাপোড়েন। পাঠ হয় রানু মুখোপাধ্যায়ের সেই চিঠি, যা তিনি লিখেছিলেন বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে। এ ছাড়াও ছিল অস্কার ওয়াইল্ডের সেই বিখ্যাত চিঠি, যা তিনি লিখেছিলেন তাঁর বন্ধু ও প্রেমিক লর্ড আলফ্রেড ডগলাসকে, যখন তিনি কারাগারে বন্দি ছিলেন।
এই সব চিঠি যেন ছিল একেকটি জীবন্ত কবিতা, যা শব্দে-শব্দে ভরিয়ে দিয়েছিল সন্ধ্যার আবহ। প্রেম যে শুধু মিলনের গল্প নয়, বিচ্ছেদ, যন্ত্রণা, না বলা কথা ও অনুতাপেরও ভাষা হতে পারে, সেই অনবদ্য উপলব্ধিই এনে দিল এই অনুষ্ঠান।
স্বস্তিকা ও অনির্বাণের আবৃত্তি ও আবেগময় পাঠে দর্শকের চোখে ফুটে উঠল প্রেমের এক অন্য রূপ—যা একদিকে অতীতের, কিন্তু অন্যদিকে চিরকালীন। একটি অপূর্ণ প্রেমেরও যে কত গভীরতা, কত ব্যথা ও সৌন্দর্য থাকতে পারে, তা যেন এই চিঠিগুলোর মাধ্যমে নতুন করে বোঝা গেল।
এই সন্ধ্যা শুধু একটি অনুষ্ঠান ছিল না—ছিল এক আবেগঘন যাত্রা, যেখানে ভালোবাসা ছিল নায়ক, আর অপূর্ণতাই তার শক্তি। যারা উপস্থিত ছিলেন, তাঁরা বোধহয় বহুদিন মনে রাখবেন এই অনুভবের মুহূর্তগুলো।
