ভারতের প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা, ডিআরডিও, দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় এক ঐতিহাসিক সাফল্যের নজির গড়ল। সম্প্রতি তারা একটি শক্তিশালী লেজার অস্ত্রের সফল পরীক্ষা সম্পন্ন করেছে, যা শত্রুপক্ষের ড্রোন, হেলিকপ্টার এবং অন্যান্য আকাশপথের যানকে কয়েক কিলোমিটার দূর থেকেই সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে। এই উন্নত প্রযুক্তির অস্ত্রটি ভারতকে সামরিক শক্তির দিক থেকে আরও একধাপ উপরের স্তরে নিয়ে গেল।
এই নতুন অস্ত্রটি Directed Energy Weapon (DEW) প্রযুক্তির উপর ভিত্তি করে তৈরি। এতে লেজারের মাধ্যমে লক্ষ্যবস্তুতে শক্তি কেন্দ্রীভূত করে তা সম্পূর্ণভাবে অকেজো করে ফেলা যায়। এই লেজার অস্ত্রটির ক্ষমতা ৩০ কিলোওয়াট এবং এটি পাঁচ কিলোমিটার পর্যন্ত দূরত্বে থাকা যেকোনও আকাশপথের হুমকি, যেমন ড্রোন বা হেলিকপ্টার, খুব দ্রুততার সঙ্গে শনাক্ত করে এবং ধ্বংস করতে পারে। এটি শুধু শক্তিশালী নয়, একদম নিখুঁতভাবে লক্ষ্যভেদ করতে সক্ষম।
ডিআরডিও-র এই প্রকল্পটি সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি। এর নকশা, উৎপাদন এবং পরীক্ষার পুরো প্রক্রিয়াই ভারতে সম্পন্ন হয়েছে, যা আত্মনির্ভর ভারত অভিযানের লক্ষ্যে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই অস্ত্রটি সেনাবাহিনী এবং নৌসেনা—উভয় ক্ষেত্রেই ব্যবহার উপযোগী করা হয়েছে। এটি মোবাইল এবং স্টেশনারি, দুই ধরনের ইউনিটে স্থাপন করা সম্ভব, যা যেকোনো যুদ্ধক্ষেত্রেই সহজে ব্যবহার করা যাবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি একদিকে যেমন দেশের সামরিক প্রতিরক্ষাকে মজবুত করবে, তেমনি অন্যদিকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতকে আরও শক্তিশালী প্রতিপক্ষ হিসেবে তুলে ধরবে। যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও চীনের পর ভারত এই ধরনের উন্নত প্রযুক্তির অস্ত্র ব্যবহারে সক্ষমতা অর্জন করল। এই অস্ত্র শুধু শত্রুর আক্রমণ প্রতিহত করতেই নয়, যুদ্ধের কৌশলগত দিক থেকেও একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন।
ডিআরডিও জানিয়েছে, ভবিষ্যতে এই অস্ত্রের পরিসর আরও বাড়ানো হবে। বর্তমানে পাঁচ কিলোমিটার দূরত্বে টার্গেট ধ্বংসের ক্ষমতা থাকলেও, তাদের লক্ষ্য আগামী দিনে আরও বেশি শক্তিশালী এবং দীর্ঘ পাল্লার লেজার অস্ত্র তৈরি করা। এ জন্য গবেষণা ও উন্নয়নের কাজও জোরকদমে চলছে। শত্রুপক্ষের ক্ষেপণাস্ত্র, বোমারু বিমান বা কোনও ধরনের আকাশপথের হামলার মুখে এই অস্ত্র এক নির্ভরযোগ্য ঢাল হিসেবে কাজ করবে।
সাম্প্রতিক বিশ্বরাজনীতির প্রেক্ষাপটে এই সাফল্য আরও গুরুত্বপূর্ণ। বিভিন্ন সীমান্ত সংঘাত, ড্রোন হানার মতো আধুনিক যুদ্ধের হুমকির মুখে দাঁড়িয়ে ভারত এই নতুন প্রযুক্তির মাধ্যমে নিজের প্রতিরক্ষা স্তম্ভ আরও মজবুত করল। এতে শুধু বাহিনীর আত্মবিশ্বাস বাড়বে না, দেশের সাধারণ মানুষও নিজেকে আরও নিরাপদ অনুভব করবেন।
এই অস্ত্রের নাম এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা না হলেও বিভিন্ন প্রতিবেদনে একে ‘দুর্গা-২’ নামে উল্লেখ করা হয়েছে। এটি ভবিষ্যতের যুদ্ধক্ষেত্রে ভারতের আধিপত্য প্রতিষ্ঠার অন্যতম হাতিয়ার হতে চলেছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রক এবং সেনা আধিকারিকরা ইতিমধ্যেই এর ব্যবহারিক দিক নিয়ে প্রশংসা করেছেন এবং আগামী দিনে এর আরও উন্নত সংস্করণ ব্যবহারের ইঙ্গিত দিয়েছেন।
ডিআরডিও-র এই লেজার অস্ত্র ভারতের প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে শুধু এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করল না, বরং এক আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর আত্মবিশ্বাসী ভারতের পথ দেখাল। প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা ও আত্মনির্ভরতার এই সাফল্য নিঃসন্দেহে ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
