স্নিগ্ধা চৌধুরী
মুর্শিদাবাদের সামশেরগঞ্জ, ধুলিয়ান সহ একাধিক এলাকায় চলতে থাকা অশান্তির জেরে প্রায় ৫০০ পরিবার প্রাণের ভয়ে ঘর ছেড়ে পালিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন মালদহের বৈষ্ণবনগর পারলাল হাই স্কুলে গড়ে ওঠা অস্থায়ী ত্রাণ শিবিরে। নদী পেরিয়ে এই মানুষগুলোর পেছনে রয়ে গেছে ছারখার হওয়া ঘর, পোড়া আসবাব, হারানো জীবনের মূলধন।
দুর্গতদের অভিযোগ, ‘সব কিছু শেষ। বাড়ি-ঘর জ্বালিয়ে দিয়েছে, সোনা-টাকা, এমনকি গরু-ছাগল পর্যন্ত নিয়ে পালিয়েছে দুষ্কৃতীরা। এমনকি জলের ট্যাঙ্কে পর্যন্ত বিষ মিশিয়ে গেছে ওরা।’ কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন, ‘আমরা তো বাংলাদেশি না, ভারতের মানুষ হয়েও যদি এতটা অনিরাপদ হই, তবে কোথায় যাব?’
এদিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে মোতায়েন হয়েছে বিএসএফ ও পুলিশ বাহিনী। তবে প্রশ্ন উঠছে, বাহিনী থাকা সত্ত্বেও কেন এই মানুষগুলো ঘরছাড়া হতে বাধ্য হল? শিকড়ছিন্নদের দাবি, ‘পুলিশ আছে ঠিকই, কিন্তু দুষ্কৃতীরা তাদের মানছে না। প্রশাসনের উপস্থিতি যেন কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ।’
রবিবার ত্রাণ শিবির পরিদর্শনে আসেন মালদার সদন SDO পঙ্কজ তামাং। তিনি জানান, দুর্গতদের জন্য খাবার, জল, শৌচাগারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। জামাকাপড় সহ আরও প্রয়োজনীয় সামগ্রী পাঠানো হচ্ছে। পাশাপাশি, প্রশাসনের কর্মীরা সর্বক্ষণ শিবিরে উপস্থিত রয়েছেন।
এই ঘটনায় এলাকাজুড়ে আতঙ্কের ছায়া। স্থানীয়দের আশঙ্কা, যদি প্রশাসনের নজরে থেকেও এমন বিপর্যয় ঘটে, তবে আগামী দিনে নিরাপত্তা কিভাবে বজায় থাকবে? বর্তমানে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, এই শিকড়ছিন্ন মানুষেরা আবার কবে ফিরতে পারবে নিজেদের ভিটেমাটিতে?
