জুলাইয়ের আন্দোলন আর শেখ হাসিনা জামানা বদলের পর বাংলাদেশের প্রথম পয়লা বৈশাখ এল ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ হীন হয়ে। হিন্দুত্বের ‘গন্ধ’ থাকায় ইসলামি আন্দোলন ও অন্যান্যদের চাপে এবার তার নতুন নামকরণ হয়েছে।আগে ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ নামে এই শোভাযাত্রা হলেও এবার এটিকে বলা হচ্ছে ‘বর্ষবরণ আনন্দ শোভাযাত্রা’। নাম পরিবর্তনের বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে সমালোচনারও জন্ম দিয়েছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ও প্যালেস্তাইন জনগণের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে এবারের শোভাযাত্রার প্রতিপাদ্য বিষয় ‘নববর্ষের ঐকতান, ফ্যাসিবাদের অবসান’। বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী সোমবার সকাল ৯টার দিকে চারুকলা প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হওয়া এই বর্ণাঢ্য ও আনন্দঘন শোভাযাত্রায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সমাজের নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নিয়েছেন।শোভাযাত্রায় অংশ নিয়েছে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠী—চাকমা, মারমা, সাঁওতাল ও গারো। অংশ নিয়েছে বাংলাদেশের জাতীয় মহিলা ফুটবল দল।
বৈশাখের প্রথম দিনের সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের আয়োজনে রাজধানী ঢাকায় বাংলা নববর্ষের যে শোভাযাত্রা বের হয়, ঘিরে ফেলা হয় পুলিশি ব্যারিকেডে।বৈশাখী অনুষ্ঠানে দেখা গেল ‘ফ্যাসিস্ট’ কাটআউট, উঠেছে হাসিনা-বিরোধী স্লোগান।মুখোশে হাসিনাকেই ‘স্বৈরাচারী’ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। এবারের শোভাযাত্রার মোটিফগুলোর মধ্যে ছিল অন্যতম হচ্ছে শান্তির প্রতীক পায়রা এবং ‘ফ্যাসিবাদের প্রতিকৃতি’—যেখানে ফুটে উঠেছে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মুখাবয়ব। বাংলাদেশের পয়লা বৈশাখে এমন চিত্র এই প্রথম।এনিয়ে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে সমালোচনা।
বাংলা নববর্ষ ১৪৩২ বা পয়লা বৈশাখ উপলক্ষে দেশবাসীর উদ্দেশে দেওয়া এক শুভেচ্ছা বার্তায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস জানিয়েছেন বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়াই হোক এবারের নববর্ষের অঙ্গীকার। নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে দেশবাসীকে নতুন উদ্যমে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ‘পহেলা বৈশাখ সম্প্রীতির দিন, মহামিলনের দিন। আজকে সবাইকে আপন করে নেওয়ার দিন। এবারের নববর্ষ, নতুন বাংলাদেশের প্রথম নববর্ষ। আসুন, আমরা বিগত বছরগুলোর গ্লানি, দুঃখ-বেদনা, অসুন্দর ও অশুভকে ভুলে গিয়ে নতুন প্রত্যয়ে, নতুন উদ্যমে সামনের দিকে এগিয়ে চলি। চলুন, নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলি।’
এদিন রাজধানী ঢাকার আকাশে ভোর হতেই রমনা বটমূল থেকে শুরু হয় বাংলা ১৪৩২ সনের পয়লা বৈশাখ উপলক্ষে ছায়ানটের আয়োজিত অনুষ্ঠান। এবারের প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল ‘আমার মুক্তি আলোয় আলোয়’। এই প্রতিপাদ্যের মাধ্যমে আশা, সহনশীলতা আর পুনর্জাগরণের একটি বার্তা দিতে চায় ছায়ানট।বাংলাদেশের খ্যাতনামা সাংস্কৃতিক সংগঠন ছায়ানট ১৯৬৭ সাল থেকে রমনার বটমূলে এই ঐতিহাসিক বৈশাখী অনুষ্ঠান আয়োজন করে আসছে।
Leave a comment
Leave a comment
