ঝাড়খণ্ডের রাজনীতিতে নতুন করে তোলপাড় শুরু হয়েছে কংগ্রেস নেতা ও রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডঃ ইরফান আনসারির এক চাঞ্চল্যকর মন্তব্যকে কেন্দ্র করে। তিনি প্রকাশ্যে ঘোষণা করেছেন, “আমার শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত ঝাড়খণ্ডে ওয়াকফ আইন কার্যকর হতে দেব না।” তাঁর এই ঘোষণার পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর বিতর্ক, বিশেষ করে সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গে ওয়াকফ সংশোধনী আইন ঘিরে যে অশান্তি ছড়িয়েছে, তার পটভূমিতে এই মন্তব্য নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
মন্ত্রী ইরফান আনসারি তাঁর বক্তব্যে বলেন, “এই আইন বাংলায় হিংসা, অশান্তি এবং প্রাণহানির কারণ হয়েছে। ঝাড়খণ্ডে এই আইন চালু করার কোনও প্রয়োজন নেই। বিজেপি এই আইনকে হাতিয়ার করে সংখ্যালঘুদের অধিকার কেড়ে নিতে চাইছে। এটা আমাদের ধর্মীয় ও সামাজিক পরিকাঠামোর উপর একটা বড় আঘাত। আমি রাজ্যের একজন প্রতিনিধি হিসেবে এই ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াব।” তাঁর দাবি, রাজ্যের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জমি ও সম্পত্তি জোর করে দখল করার জন্যই এই আইনের অপব্যবহার হচ্ছে এবং এটা বিজেপির সুপরিকল্পিত চক্রান্ত।
এই বিষয়ে প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে মন্ত্রী আরও বলেন, “বিজেপি রাক্ষসের মতো আচরণ করছে। ওরা মানুষের অধিকার, জমি, বিশ্বাস সব কিছু কেড়ে নিতে চাইছে। বাংলায় যেভাবে নিরীহ মুসলিমদের ওপর অত্যাচার চালানো হচ্ছে, ঝাড়খণ্ডেও তেমন পরিকল্পনা করছে ওরা। আমি রাজ্যের সমস্ত শান্তিপ্রিয় নাগরিকদের এই আইন বিরোধী আন্দোলনে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।”
এই মন্তব্যে রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বিজেপির পক্ষ থেকে কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়ে বলা হয়েছে, ইরফান আনসারির বক্তব্য সংবিধান ও আইনবিরোধী। একজন রাজ্য মন্ত্রীর কাছ থেকে এমন মন্তব্য গণতান্ত্রিক পরিকাঠামোর জন্য হুমকিস্বরূপ। বিজেপি নেতারা প্রশ্ন তুলেছেন, “একজন মন্ত্রী কিভাবে বলতে পারেন যে তিনি কেন্দ্রীয় আইন কার্যকর হতে দেবেন না? এটা কি প্রকারান্তরে কেন্দ্রের সঙ্গে সংঘাত নয়?”
অন্যদিকে কংগ্রেস নেতৃত্ব আনসারির মন্তব্যকে সমর্থন করে জানিয়েছে, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অধিকার রক্ষার জন্য লড়াই করাই একজন জনপ্রতিনিধির দায়িত্ব। ওয়াকফ আইন যদি কারও জমি বা সম্পত্তির উপর অবৈধ হস্তক্ষেপ করে, তবে সেটা প্রত্যাখ্যান করার অধিকার রাজ্যের মানুষের আছে। এক্ষেত্রে রাজ্যের সরকারের নীতি হবে জনগণের পাশে দাঁড়ানো।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি কেন্দ্রীয় সরকার ওয়াকফ সংশোধনী আইন এনেছে, যেখানে জমির রেজিস্ট্রেশন ও পরিচালনা নিয়ে কিছু নতুন ধারা যুক্ত হয়েছে। কিন্তু বিভিন্ন রাজ্যে তা ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বাংলায় এই আইন কার্যকরের পর বহু সংখ্যালঘু পরিবার তাঁদের জমি হারানোর অভিযোগ তুলেছে। সেখানে এখন প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ চলছে। এই অবস্থায় ঝাড়খণ্ডে ইরফান আনসারির মন্তব্য যে বিষয়টিকে আরও জটিল করে তুলবে, তা বলাই বাহুল্য।
ইতিমধ্যেই আনসারির ভিডিও ক্লিপ সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে, এবং তার প্রেক্ষিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও ধর্মীয় সংগঠন নিজেদের প্রতিক্রিয়া জানাতে শুরু করেছে। কেউ তাঁকে সাহসী নেতা হিসেবে তুলে ধরছেন, কেউ আবার বলছেন যে তিনি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ধর্মীয় উত্তেজনা বাড়াচ্ছেন।
এই মুহূর্তে ঝাড়খণ্ডে আইন-শৃঙ্খলার ওপর প্রশাসনের কড়া নজর রয়েছে। রাজ্য সরকার বিষয়টি নিয়ে কী সিদ্ধান্ত নেয় এবং কিভাবে রাজনীতিকরা পরবর্তী অবস্থান গ্রহণ করেন, তার দিকে নজর থাকবে সকলের। তবে এটুকু স্পষ্ট যে, ওয়াকফ সংশোধনী আইন এখন শুধুমাত্র একটি আইন নয়, বরং তা হয়ে উঠছে এক বড় রাজনৈতিক ইস্যু—যা রাজ্যের ভবিষ্যৎ রাজনীতি ও সামাজিক পরিবেশকেও প্রভাবিত করতে চলেছে।
