রক্তে আবার জাত ধর্ম কিসের? সেই জন্যই তো বিজ্ঞানসম্মত ভাবে রক্তের গ্রুপ যদি মিলে যায়, তাহলে হিন্দুর রক্তে মুসলিমের প্রাণ কিংবা মুসলিমের রক্তে হিন্দুর প্রাণ বাঁচতেই পারে। এখানে নেই কোন রাজনীতি, নেই কোনো কূটনীতি। শুধু রয়েছে চিরন্তন এক সত্যের জয়। সেটাই প্রমাণ করে দিলেন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের 2 যুবক। অচেনা অজানা এক হিন্দু বৃদ্ধকে বাঁচানোর জন্য রক্ত দান করতে ৩৫ থেকে ৫০ কিলোমিটার রাস্তা অতিক্রম করে ছুটে গেলেন তাঁরা। বাংলার মাটিতে যে সম্প্রীতি আজও বজায় রয়েছে, এ যেন তারই প্রমাণ।
জানা গিয়েছে যে, নদিয়ার নাকাশিপাড়া থানার উদয়চন্দ্রপুর গ্রামের বাসিন্দা ৭২ বছরের অরবিন্দ দে। তাঁর পুত্রবধূ শ্রাবণী সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে জানান, তাঁর শ্বশুরের রক্তের গ্রুপ – ও পজিটিভ। ঐ বৃদ্ধ হঠাৎ করে অসুস্থ হয়ে যান। পরীক্ষা করে দেখা যায় হিমোগ্লোবিনের মাত্রা ভীষণ কমে গিয়েছে তাঁর রক্তে। এরপর বৃদ্ধকে ভর্তি করা হয় কৃষ্ণনগরের শক্তিনগর হাসপাতালে। সেখানে বৃদ্ধের প্রাণ বাঁচানোর জন্য অবিলম্বে দুই বোতল রক্ত প্রয়োজন পড়ে। কিন্তু নানা জায়গায় খোঁজ করে ও সেই রক্ত পাওয়া যায়নি। সেই সময় উপায় না দেখে এমার্জেন্সি ব্লাড ডোনেশন গ্রুপের সন্ধান পান তারা।
ওই গ্রুপের মাধ্যমে যোগাযোগ হয় মহম্মদ হাসমাতুল্লা শেখ এবং জাহাঙ্গির আলমের সঙ্গে। বিষয়টি জানতে পারা মাত্রই জাত পাতের খোঁজ না করে রবিবার সকাল হতেই তাঁদের বাড়ি থেকে যাত্রা শুরু করেন কৃষ্ণনগরের উদ্দেশে। প্রথমজন এসেছেন ৫০ কিলোমিটার দূর থেকে দ্বিতীয় জন ৩৫ কিলোমিটার দূর থেকে।
রবিবারই হিন্দু প্রবীণ অরবিন্দ দে-কে একবোতল করে মোট দু’বোতল রক্ত দান করেন এই দুই মুসলিম যুবক। রক্ত পেতেই ধীরে ধীরে সুস্থ হন অরবিন্দ। ভিনধর্মী দুই সহনাগরিকের থেকে এমন আত্মীয়তা দেখে রীতিমতো আপ্লুত হয়েছে পুরো পরিবার। এমন সাহায্য কোনদিনও ভুলবেন না বলে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন তাঁরা। একদিকে যেখানে সংশোধিত ওয়াকফ আইনের প্রতিবাদে রাজ্যজুড়ে হিংসার আগুন জ্বলছে, সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে এ যেন এক সম্প্রীতির বার্তা দিল।
