বারবার ভূমিকম্পের ধাক্কায় কেঁপে উঠছে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত।বুধবার সকালে মাত্র দেড় ঘণ্টার ব্যবধানে একের পর এক ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছে চারটি এশীয় দেশ।ভারত, বাংলাদেশ, আফগানিস্তান ও তিব্বতে এই কম্পন অনুভূত হয়। এখনও পর্যন্ত কোনো হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
টাইমস নাওয়ের রিপোর্ট অনুযায়ী ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি (এনসিএস) জানিয়েছে, ভারতীয় সময় বুধবার ভোর ৩টা ৫০ মিনিটে তিব্বতে ৪.২ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে। ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ২৭.৮৭° উত্তর অক্ষাংশ ও ৮৭.৬৫° পূর্ব দ্রাঘিমাংশে, ভূ-গভীরতা ২৬ কিলোমিটার।
এর প্রায় ৫০ মিনিট পর, ভোর ৪টা ৪৩ মিনিটে আফগানিস্তানের হিন্দুকুশ অঞ্চলে আঘাত হানে ৫.৯ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প। এনসিএস-এর তথ্য অনুযায়ী, এই ভূমিকম্পের গভীরতা ছিল ৭৫ কিলোমিটার। ভোর ৪টে ৪৩ মিনিটে মাটি থেকে ৭৫ কিলোমিটার গভীরে এই ভূমিকম্প হয়েছে। উৎসস্থল ছিল আফগানিস্তানের বাঘনাল থেকে ১৬৪ কিলোমিটার পূর্বে হলেও এই কম্পনের আঁচ এসে পড়ে ভারতেও। কম্পন টের পাওয়া যায় রাজধানী দিল্লি এবং সংলগ্ন এলাকায়।
এর মিনিট কয়েক পর, সকাল ৫টা ৭ মিনিটে বাংলাদেশে আঘাত হানে ২.৯ মাত্রার একটি ভূমিকম্প। এই কম্পনের উৎপত্তিস্থল ছিল ২৪.৮৯° উত্তর অক্ষাংশ ও ৯১.১৬° পূর্ব দ্রাঘিমাংশে। বাংলাদেশে ভূমিকম্পের উৎস ভূপৃষ্ঠ থেকে ১৪ কিলোমিটার গভীরে। সকাল ৫টা ১৪ মিনিটে ভারতের জম্মু ও কাশ্মীরের কিশ্তোয়ারে অনুভূত হয় ২.৪ মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্প। মাত্র ৫ কিলোমিটার গভীরতায় এই কম্পনটি ঘটে।
এছাড়া, সকাল ৭টা ১২ মিনিটে অস্ট্রেলিয়ার দক্ষিণ-পশ্চিমে ৬.৬ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়। ইউএস জিওলজিক্যাল সার্ভে (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, ভারত মহাসাগরে এই ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল পশ্চিম অস্ট্রেলিয়া রাজ্যের আলবানির দক্ষিণ-পশ্চিমে ২,০৬৯ কিলোমিটার দূরে, ১০ কিলোমিটার গভীরতায়। তবে এখনও পর্যন্ত কোনো সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়নি।কিছু এলাকায় আতঙ্ক ছড়ালেও এখনও পর্যন্ত এই ভূমিকম্পগুলোর ফলে কোনো প্রাণহানি বা বড় ধরনের পরিকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
এদিকে গত রবিবার সকালেও একের পর এক ৪টি ভূমিকম্পে কেঁপে উঠে ভারত, মিয়ানমার ও তাজিকিস্তানের বিভিন্ন অঞ্চল। দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়ার বিস্তীর্ণ এলাকায় কম্পন অনুভূত হয়। মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যে এই ভূমিকম্পগুলো ঘটলেও, বড় কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।
