ওয়াকফ অশান্তিতে বাংলাদেশী যোগ ইস্যুতে মমতার নিশানায় অমিত শাহ
সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়
নন্দীগ্রাম কাণ্ডে ‘চটি পড়া পুলিশ’ তত্ত্ব তুলেছিলেন তৎকালীন বিরোধী নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার ওয়াকফ অশান্তি নিয়ে “চটি পড়া বিএসএফ” তত্ত্ব তুলে ধরলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা সর্বোচ্চ প্রশাসক মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আজ নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে মুসলিম সমাজের একটি অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী জানালেন “আমি অনেক ভিডিও দেখেছি যেখানে বিএসএফের পোষাক পরে চলে এসেছে, পায়ে চটি। নন্দীগ্রামের কায়দায়।” কারা এই পায়ে চটি পরা বিএসএফ? সঙ্গত কারণেই তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে? নিজের বক্তব্যে তাও স্পষ্ট করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্যের ওয়াকফ অশান্তিতে যদি বাংলাদেশ যোগ থাকে সেখানেই এই “চটি পরা বিএসএফ” তত্ত্বের উত্তর লুকিয়ে রয়েছে। এদিন ওয়াকাপ অশান্তি কাণ্ডে বাংলাদেশ যোগ যদি থাকে তাহলে তার দায় নিতে হবে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে বলেও জানিয়ে দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উদ্দেশ্যে বার্তা দিয়ে মমতা বলেন “আপনি ইউনুসের সঙ্গে গোপন মিটিং করুন। দেশের ভালো হলে তো ভালো। আমি সমর্থন করি। কিন্তু যদি দাঙ্গায় বাংলাদেশের হাত থাকে তাহলে এর দায় কেন্দ্রের। কেন কেন্দ্র এখানে বাংলাদেশের মানুষকে আসতে অনুমতি দিলো?
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যদি নিজেই কালীদাসের মতো যে ডালে বসে আছেন সেটাই কাটেন তাহলে আমি কি বলবো?”
প্রসঙ্গত, রাজ্যে ওয়াকফ অশান্তিতে বাংলাদেশ জঙ্গিদের হাত রয়েছে। এই অভিযোগ তুলে তৃণমূলকেই দায়ী করেছে বিজেপি। আজ নেতাজি ইনডোরের সভা মঞ্চ থেকে মমতা সেই দাবি নস্যাৎ করেছেন এবং দেশের বাইরের শত্রুরা যদি দেশের ভিতরে ঢুকে দাঙ্গা বাঁধায় তার দায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের ঘাড়ে বর্তায় বলে সাফ জানিয়েছেন। সীমান্ত প্রহরার দায়িত্বে রয়েছে অমিত শাহের মন্ত্রকের বিএসএফ। বিমানবন্দরের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকে কেন্দ্রীয় বাহিনী সিআইএসএফ। তাহলে বাংলাদেশ থেকে যদি শত্রুরা এসে এ রাজ্যে দাঙ্গা বাধায় তাহলে তার দায় রাজ্য কেন নেবে? এই প্রশ্ন তুলে অমিত শাহ কে কটাক্ষ করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। “আপনি(স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী) তো প্রধানমন্ত্রী কোনোদিন হবেন না। মোদিজী চলে গেলে আপনার কি হবে? আপনাকে তো হামাগুড়ি দিতে হবে। মোদিজী কে বলবো লোকটাকে কন্ট্রোল করুন।অমিত শাহ আপনাকে তো কেউ চেনে না। আপনাকে চেনে শুধু তারাই যারা গুজরাটে দাঙ্গা করেছে।” মমতার প্রশ্ন ,
“ট্রেন চলছে,বিমান চলছে কারা আসছে এখানে? আগে এয়ারপোর্টে পুলিশ ছিল । এখন তো সেটা করতে দিচ্ছে না। পর্দার পিছনে কি আছে? আমি আবার প্রধানমন্ত্রীকে আবেদন করছি আপনার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কে এইসব করতে দেবেন না। এজেন্সিকে দিয়ে উনি শুধু বিভাজন করতে চাইছেন। ” এদিন হুঁশিয়ারি সুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন ” আমি খুঁজে বের করবো বর্ডার এলাকায় বিএসএফ কেন ঢুকতে দিয়েছিলো? কেন বাচ্চা বাচ্চা ছেলেদের ৫০০ টাকা দিয়ে পাথর ছুঁড়িয়েছে। আমরা কিন্তু তদন্ত করছি। সব কিছু বাইরে আসবেই।”
এদিন মমতার নিশানা থেকে বাদ যাননি উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ।
” যোগী বড় বড় কথা বলছেন। সবচেয়ে বড় ভোগী হ্যায়। মহাকুম্ভতে কত লোক মারা গিয়েছেন। মানুষকে ভয় দেখিয়ে রেখেছেন। একটা মিছিল পর্যন্ত করতে দেন না।” পরিশেষে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়ে দেন “দাঙ্গায় যদি কেউ উস্কানি দেয় তাহলে সে যেই হোক, হিন্দু হোক, মুসলমান হোক কাউকেই কিন্তু আমি ছাড়বো না।”
