দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার বড় ‘উৎপাদক দেশ’ ভিয়েতনাম সফরে গিয়ে আরও আঞ্চলিক সহযোগিতার আহবান জানালেন চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। শি জিনপিং ভিয়েতনাম সফর শুরুর দিনই জানান “প্রোটেকশনিজম কোনও পথ দেখায় না”। এই মুহূর্তে চিনা প্রেসিডেন্টের এই তিন দেশ সফরের উদ্দেশ্য হলো মার্কিন শুল্কনীতির ফলে চিনের রপ্তানিতে যে চাপ তৈরি হয়েছে, তা মোকাবিলা করা এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও গভীর করা। সফরের অংশ হিসেবে শি জিনপিং ভিয়েতনাম ছাড়াও মালয়েশিয়া ও কম্বোডিয়া সফর করবেন।
এদিকে আমেরিকা ও চিনের মধ্যে বাণিজ্যযুদ্ধ থামার কোনও লক্ষণ দেখাই যাচ্ছে না। চিনা পণ্যের উপর বিপুল শুল্ক আরোপ করলেও আমেরিকার হুঁশিয়ারির সামনে চিন মাথা নোয়াবে না বলে আগেই জানিয়ে দিয়েছেন চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। পাল্টা বেইজিং মার্কিন পণ্যের উপর জবাবি শুল্ক চাপিয়েছে।এ বার ভিয়েতনাম সফরে গিয়ে ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের সমালোচনা করে চিনা প্রেসিডেন্ট দাবি করেছেন যে এই বাণিজ্য যুদ্ধে কেউই জিততে পারবে না।
গত জানুয়ারিতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হোয়াইট হাউসের দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই নানা ভাবে বিরোধিতায় জড়িয়ে পড়েছে বিশ্বের দুটি বৃহত্তম অর্থনীতি আমেরিকা ও চিন।ভারত, কানাডা, চিন-সহ একাধিক দেশের উপর গত ২রা এপ্রিল ব্যাপক হারে শুল্ক চাপায় ট্রাম্প প্রশাসন।এর পাল্টা শুল্ক চাপায় বেজিং।পরে ট্রাম্প প্রশাসন বিভিন্ন দেশের উপর শুল্ক ৯০ দিনের জন্য স্থগিত রাখলেও চিনের উপর পারস্পারিক কর ১৪৫ শতাংশে পৌঁছেছে।একে ওয়াশিংটনের ‘অবৈধ জুলুমবাজি’ বলে অভিযোগ করে এর বিরুদ্ধে বেইজিং মার্কিন পণ্যের উপর ১২৫ শতাংশ জবাবি শুল্ক আরোপ করেছে।
এখানেই না থেমে চিন তার এয়ারলাইন্সগুলোকে আমেরিকান বিমান প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের জেট ডেলিভারি গ্রহণ বন্ধ করতে নির্দেশ দিয়েছে। ব্লুমবার্গ নিউজ মঙ্গলবার এই তথ্য জানিয়েছে।এই আর্থিক সংবাদ মাধ্যম আরও জানিয়েছে যে চিন তার বিমান সংস্থাগুলোকে মার্কিন কোম্পানিগুলো থেকে বিমান সংক্রান্ত যন্ত্রপাতি ও যন্ত্রাংশ কেনা স্থগিত করতে বলেছে।এর ফলে বোয়িং মারাত্মক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।পাশাপাশি মার্কিন পণ্যের উপর বেজিংয়ের জবাবি শুল্ক বিমান ও যন্ত্রাংশ আমদানির খরচ ব্যাপকভাবে বাড়িয়ে দিতে পারে। ব্লুমবার্গ জানিয়েছে, চিন সরকার বোয়িংয়ের জেট লিজ নেওয়া এবং বেশি খরচের মুখোমুখি হওয়া এয়ারলাইন্সগুলোকে সহায়তা করার কথা ভাবছে।বোয়িংয়ের জেট নিয়ে চিনের এমন সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিল বেজিং পিছু হটতে নারাজ।
পাশাপাশি আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্যযুদ্ধ মোকাবিলায় চিন থেকে বিরল খনিজ এবং চুম্বক রফতানি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বেজিং। গাড়ি থেকে শুরু করে ক্ষেপণাস্ত্র তৈরিতে চুম্বক অপরিহার্য। বিরল খনিজ পদার্থও বৈদ্যুতিন গাড়ি থেকে শুরু করে প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত সরঞ্জাম তৈরিতে কাজে লাগে। হিসেব মত আমেরিকাই সেই দেশ যারা বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পরিমাণ বিরল খনিজ এবং চুম্বক আমদানি করে যার বেশির ভাগটাই আসে চিন থেকে।
তবে দমতে নারাজ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।তিনি সতর্ক করে বলেছেন, অন্যায্য বাণিজ্য ভারসাম্যের কারণে কেউই রেহাই পাবে না এবং একই সঙ্গে তিনি আরও শুল্ক আরোপের ইঙ্গিত দিয়েছেন।এর আগে অবশ্য হোয়াইট হাউজ চিন থেকে স্মার্ট ফোন ও কম্পিউটার আমদানির ওপর শুল্ক প্রত্যাহার করে নেয়। তবে তার নিজস্ব সোশ্যাল মিডিয়া ট্রুথে এক পোস্টে একে সাময়িক পদক্ষেপ বলে উল্লেখ করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।মার্কিন অর্থনীতির বিশেষজ্ঞদের একটি অংশের দাবি, ট্রাম্প প্রশাসন ঘরোয়া অর্থনীতির কথা না ভেবেই বিভিন্ন দেশের উপর একের পর এক শুল্ক চাপাচ্ছে। এই নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনকে বার্তাও দিয়েছেন জিনপিং। চিন ইতিমধ্যে জানিয়ে দিয়েছে যে দু’একটি পণ্যে নয়, আমেরিকার উচিত তাদের নতুন শুল্কনীতি থেকে পুরোপুরি সরে আসা।
