জুলাই আন্দোলন ও তার পরবর্তী শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর এক সময়ের শত্রু পাকিস্তান হয়ে উঠতে চলেছে বাংলাদেশের বন্ধু। মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃতে নতুন বাংলাদেশের সঙ্গে একসময়ের বন্ধু ভারতের দূরত্ব তৈরি হওয়ায় সেই সুযোগকেই কাজে লাগিয়ে মাঠে নেমেছে পাকিস্তান। সেই হয়ে ওঠা সুসম্পর্কের সুত্র ধরে রাজধানী ঢাকায় বসতে চলেছে বাংলাদেশ পাকিস্তান বিদেশ সচিব পর্যায়ের বৈঠক। জানা গেছে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় অনুষ্ঠিত হতে চলা পাক বিদেশ সচিব আমনা বালুচের সঙ্গে এই বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেবেন বিদেশ সচিব মো. জসিম উদ্দিন। বৃহস্পতিবার দীর্ঘ ১৫ বছর পর ঢাকায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে দু দেশের বিদেশসচিব পর্যায়ের বৈঠক।
বুধবারই পাক বিদেশ সচিব আমনা বালুচ ঢাকায় এসেছেন। প্রথম আলো সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী এই বৈঠকে পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি দুই দেশের অমীমাংসিত বিষয়গুলো সমাধানের বিষয়টি আলোচনায় স্থান পাবে।চলতি মাসের শেষদিকে ঢাকা সফরে আসবেন পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী তথা বিদেশমন্ত্রী ইশহাক দার। এদিনের বৈঠকে সেই সফর নিয়েও আলোচনার পাশাপাশি ঢাকা-ইসলামাবাদের সম্পর্কের এই পর্বে রাজনীতি, বাণিজ্য, যোগাযোগ, প্রতিরক্ষাসহ নানা ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে আলোচনা গুরুত্ব পাবে বলে মনে করা হচ্ছে। আমনা বালুচ এই সফরে প্রধান উপদেষ্টা ইউনুস এবং পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেনের সঙ্গে দেখা করবেন।
তথ্য বলছে ২০১২ সালে পাকিস্তানের তৎকালীন বিদেশমন্ত্রী হিনা রাব্বানি খার শেষবার ঢাকায় গিয়েছিলেন।এরপর গত ১৫ বছরে আর কোনও পাক বিদেশমন্ত্রী যান নি সেদেশে।পাকিস্তানের জন্য মুহাম্মদ ইউনূসের দ্বার খুলে দেওয়ার পর সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ময়দানে নেমে পড়েছে পাকিস্তান। কাজেই দ্রুত বদলে যেতে চলেছে ওপারবাংলার রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক চিত্র।
গত কয়েক মাসে বাংলাদেশে চরমপন্থী ও উগ্রবাদীদের আরও সোচ্চার হতে দেখা গেছে। পাশাপাশি, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের উত্তরাধিকার মুছে ফেলারও চেষ্টা চলছে। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রবিবার সমর্থকদের উদ্দেশ্যে দেওয়া অডিও ভাষণে ইউনুসের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের ইতিহাস, বিশেষ করে আওয়ামী লীগের মুক্তিযুদ্ধে অবদান মুছে ফেলার অভিযোগ তুলেছেন। বাংলাদেশ পর্যবেক্ষকদের মতে, পাকিস্তান সেদেশে ভারত-বিরোধী শক্তিকে উৎসাহিত করতে ভূমিকা রাখছে। ইউনুসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার আল-কায়েদা-সম্পর্কিত সন্ত্রাসী সংগঠন আনসারুল্লাহ্ বাংলা টিমের (এবিটি) প্রধান জশিমউদ্দিন রহমানীর মতো ব্যক্তিদের মুক্ত করে দিয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় আসার পর বাংলাদেশ পাকিস্তান ও চিনের দিকে ঝুঁকেছে। একাত্তরের গণহত্যা ভুলে গিয়ে বাংলাদেশের শাসককুল এখন কাছে টানছে পাকিস্তানকে।পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ও মূহাম্মদ ইউনুস গত বছর আগস্টের পর দু’বার দেখা করেছেন। ঢাকার সঙ্গে সন্ত্রাসবাদের আঁতুড়ঘর পাকিস্তানের এই আঁতাঁতে চিন্তিত ভারতও। হাসিনা পরবর্তী সময়ে ঢাকার চিনের সঙ্গে সখ্যতা বৃদ্ধির পাশাপাশি ইসলামাবাদের কাছাকাছি আসার এমন পরিস্থিতিতে গোটা বিষয়ের নজর রাখছে দিল্লি।
Leave a comment
Leave a comment
