সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়
ফের চশমা বিভ্রাট! ফের চশমা তৈরি এবং সেই সংক্রান্ত চিকিৎসার লাখো টাকার বিল আটকাল বিধানসভা। এবার কোপে মুর্শিদাবাদ জেলার এক তৃণমূল বিধায়ক। বিধানসভা সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, চশমা তৈরি ও সেই সংক্রান্ত চিকিৎসার বিষয়ে লক্ষাধিক টাকার বিল বিধানসভায় জমা দিয়েছিলেন মুর্শিদাবাদ জেলার শাসকদলের এক বিধায়ক। কলকাতার একটি প্রথম সারির হাসপাতালে চিকিৎসার বিল বিধানসভায় জমা দিয়েছিলেন ওই বিধায়ক। বিধানসভার সচিবালয় থেকে বিধায়কের পেশ করা বিল হাতে পেয়েই বিধানসভার সচিব সহ অর্থ বিভাগের আধিকারিকদের ডেকে পাঠান বিধানসভার অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়। আধিকারিকদের অধ্যক্ষ স্পষ্ট জানিয়ে দেন, বিধানসভার নিয়ম অনুযায়ী একজন বিধায়ক এই ধরনের চিকিৎসার ক্ষেত্রে সর্বাধিক পাঁচ হাজার টাকা পেতে পারেন। সেক্ষেত্রে তিনি যদি অতিরিক্ত খরচের বিল বিধানসভায় জমা দেন সেই খরচের দায়ভার বিধায়কের উপরেই বর্তাবে। অর্থাৎ লক্ষাধিক টাকার চশমা চিকিৎসা সংক্রান্ত যে বিল শাসক দলের ওই বিধায়ক বিধানসভায় জমা দিয়েছেন সেই খরচের মাত্র ৫০০০ টাকা তিনি সরকারের পক্ষ থেকে পাবেন। বাকি টাকা ওই বিধায়ককেই বহন করতে হবে। বিধানসভার আধিকারিকদের এ কথা স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রসঙ্গত চশমা ও সংশ্লিষ্ট চিকিৎসা সংক্রান্ত লাখ টাকার বিলের গল্প এই নতুন নয়। বাম আমলেও ‘লাখ টাকার চশমা’ কিনে ফ্যাসাদে পড়েছিলেন তৎকালীন পঞ্চায়েত দপ্তরের রাষ্ট্রমন্ত্রী বঙ্কিম ঘোষ। সেই লাখ টাকার বিল সরকারি কোষাগার থেকে যোগান দেওয়া হবে কিনা তা নিয়ে বিতর্কে জল গড়িয়েছিল অনেক দূর। অবশেষে সেই বিল প্রত্যাহার করতে হয়েছিল সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীকে। বর্তমানে তিনি রাজ্য বিজেপির একজন পদাধিকারী এবং রাজ্যের বিরোধী দলনেতার ঘনিষ্ঠ বলেই পরিচিত। ২০১১ সালে রাজ্যে পালাবদলের পর তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় আসে এবং তার এক বছরের মধ্যেই তৎকালীন এক মন্ত্রী চশমা ও সংশ্লিষ্ট চিকিৎসা সংক্রান্ত লাখ টাকার বিল জমা দিয়েছিলেন বিধানসভায়। তা নিয়েও যথেষ্ট জলঘোলা হয়। পরে সেই মন্ত্রী বিল ফেরত নিয়ে নেন।
