আফগানিস্তানের তালিবানি শাসকদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ার পথে হাঁটছে পুতিনের দেশ।রাশিয়ার সুপ্রিম কোর্ট বৃহস্পতিবার তালিবানকে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে চিহ্নিত করা বাতিল করেছে, যা আফগানিস্তানের শাসকদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ার একটি প্রতীকী পদক্ষেপ বলেই মনে করা হচ্ছে।
২০২১ সালে আমেরিকা আফগানিস্থান থেকে বাহিনী প্রত্যাহার করার পরেই ক্ষমতা দখল করে এই ইসলামিস্ট গোষ্ঠী।মস্কো সেই সময় মার্কিন সেনা প্রত্যাহারকে ‘ব্যর্থতা’ বলেই অভিহিত করেছিল, তখন থেকেই তালিবানদের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পথে হেঁটেছে।এই মুহূর্তে রাশিয়া তালিবান শাসকদের একটি সম্ভাব্য অর্থনৈতিক অংশীদার এবং সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে বন্ধু হিসেবেই দেখছে।
তালিবান শীর্ষ নেতারা রাশিয়ায় বেশ কয়েকটি সফরের পর গত মাসেই রাশিয়ার প্রধান প্রসিকিউটর আদালতকে তালিবানদের ‘সন্ত্রাসী’ তকমা প্রত্যাহারের অনুরোধ করেছিলেন। ২০২২ ও ২০২৪ সালে সেন্ট পিটার্সবার্গে রাশিয়ার প্রধান অর্থনৈতিক ফোরামে তালিবান প্রতিনিধিদল অংশ নিয়েছিল, এবং গত অক্টোবরে তালিবানের শীর্ষ কূটনীতিক মস্কোতে রাশিয়ার বিদেশমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভের সঙ্গে দেখা করেছিলেন। তবে রাশিয়ার শীর্ষ আদালতের এই তকমা স্থগিত করার সিদ্ধান্ত তালিবান কর্তৃপক্ষকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়া নয়। তবে এটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে তালিবান প্রতিনিধিদের সঙ্গে রুশ কর্তাদের দেখা করতে বিব্রতকর পরিস্থিতি এড়াতে সাহায্য করবে বলে মনে করা হচ্ছে।
তথ্য বলছে গত দু- দশকে তালেবানের প্রতি মস্কোর মনোভাব আমূল বদলেছে। ১৯৯০-এর দশকের আফগান গৃহযুদ্ধের সময় মুজাহিদীন যোদ্ধাদের নিয়ে এই গোষ্ঠী গঠিত হয়েছিল। এরা ১৯৮০-তে সোভিয়েত ইউনিয়নের বিরুদ্ধে লড়াই করেছিল। সোভিয়েত-আফগান যুদ্ধে হাজার হাজার তরুণ সোভিয়েত সেনার মৃত্যু হয়।এই ঘটনা সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনকে ত্বরান্বিতই করেছিল। আবার ২০০৩ সালে উত্তর ককেশাসে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সমর্থন করার অভিযোগে রাশিয়া তালিবানকে তাদের সন্ত্রাসী তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছিল। কিন্তু ২০২১ সালে তালিবানরা ক্ষমতায় ফিরে আসার পর রাশিয়া ও আঞ্চলিক অন্যান্য দেশকে তাদের কৌশল পরিবর্তন করতে বাধ্য করেছে।
এবার তালিবানরা ক্ষমতা দখলের পর রাশিয়া প্রথম দেশ হিসেবে কাবুলে একটি বাণিজ্যিক প্রতিনিধি অফিস খুলেছে এবং আফগানিস্তানকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় গ্যাস পরিবহনের জন্য ট্রানজিট হাব হিসেবে ব্যবহারের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। ২০২৪ সালের জুলাই মাসে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন তালিবানকে “সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের বন্ধু” বলে অভিহিত করেন। রাশিয়া ও তালেবান উভয়েই ইসলামিক স্টেট-খোরাসান নির্মূলের চেষ্টা করছে, যা আফগানিস্তান ও রাশিয়ায় ভয়াবহ হামলার জন্য দায়ী।
বিশ্বের অন্যান্য দেশও তালিবান কর্তৃপক্ষের সঙ্গে এই মুহূর্তে সম্পর্ক জোরদার করতে চাইছে। যদিও এখনও কোনও রাষ্ট্রই তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেয়নি।২০২৩ সালে চিন প্রথম দেশ হিসেবে কাবুলে নতুন রাষ্ট্রদূত নিয়োগ করে এবং তালিবান শাসকদের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করেছে। গত বছর কাজাখস্তান ঘোষণা করে যে তারা তালিবানকে তাদের ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ তালিকা থেকে সরিয়ে দিয়েছে।
Leave a comment
Leave a comment
