রবিবার সকালে শহরের রেল স্টেশনগুলো যেন রূপ নিল লাল রঙে! হাওড়া থেকে শিয়ালদহ—যেখানে চোখ যায়, সেখানেই বাম কর্মী-সমর্থকদের স্রোত। ব্রিগেডের ডাক দিয়েছে সিপিআইএম, আর সেই ডাকে সাড়া দিয়ে ভোর হতেই রাজ্যের নানা প্রান্ত থেকে কলকাতার পথে নামলেন হাজার হাজার মানুষ।
বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, হুগলি, বর্ধমান, এমনকি উত্তরবঙ্গের নানা প্রান্ত থেকেও আসছেন শ্রমজীবী মানুষ, কৃষক, ক্ষেতমজুর, ছাত্র-যুব সংগঠনের সদস্যরা। লাল ঝাণ্ডা হাতে, মুখে নানা স্লোগান—আবার যেন জেগে উঠেছে বাম মঞ্চ।
বাঁকুড়া ও পূর্ব বর্ধমান থেকে শনিবার রাত থেকেই বাসে চেপে রওনা দেন কর্মীরা। পূর্ব বর্ধমান থেকে শুধু রবিবার সকালেই প্রায় ২০০টি বাস ছেড়েছে কলকাতার উদ্দেশ্যে। কাটোয়া মহকুমায় কৃষক ও শ্রমিক সংগঠনের জোরদার জমায়েত দেখা গেছে।
আসানসোল, কুলটি, বরাকর থেকে উঠে পড়ছেন অগ্নিবিনা ও কোলফিল্ড এক্সপ্রেসে। ছাত্র-যুব ও শ্রমিক সংগঠনের অংশগ্রহণে সকাল থেকেই ভিড় বাড়ছে হাওড়া ও শিয়ালদহে। জঙ্গলমহল থেকেও যথেষ্ট কর্মী আসছেন, যা ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে নেতৃত্বকে।
তবে পশ্চিম বর্ধমানে, বিশেষ করে দুর্গাপুরে উৎসাহ কিছুটা কম দেখা গেছে। তবুও নেতারা আগেভাগেই রওনা দেওয়ার পরিকল্পনায় ছিলেন।
ব্রিগেডের উদ্দেশ্য একদিকে কৃষি-শ্রমজীবী শ্রেণির দাবিদাওয়া তুলে ধরা, অন্যদিকে চাকরি চুরি ও হিংসার প্রতিবাদ। পাশাপাশি ২০২৬ সালের নির্বাচনের রণনীতি নিয়েও মুখ খোলার কথা দলের শীর্ষ নেতৃত্বের।
এই ব্রিগেড শুধু জমায়েত নয়, এটি বামপন্থীদের ‘ঘুরে দাঁড়ানোর’ প্রতিজ্ঞা—এক নতুন সূর্যের খোঁজে আন্দোলনের পথ ধরে হেঁটে চলা।
