সেলিম-বন্যার কোরামিনে কি লাল ঝাণ্ডার পুনরুজ্জীবন? রইল প্রশ্ন
ভোটবাক্সে শূন্য। তবে শূন্য থেকেই হোক শুরু। লড়াই-সংগ্রাম একমাত্র উত্তরণের পথ। উত্তরণ কোথায়? মানুষের মন থেকে এখনো পুরোপুরি মুছে যায়নি। তবে ভোটের ময়দানে ফিকে হয়েছে লাল ঝান্ডা। তাই ভোটবুথের লড়াইকে আরও শক্তিশালী করতে ‘লড়াই লড়াই লড়াই চাই, লড়াই করে বাঁচতে চাই’ এই আপ্তবাক্যেই ভরসা যোগালো সিপিআইএম। শ্রেণীভিত্তিক চার সংগঠনের ব্রিগেড সমাবেশে আজ সেই লড়াইয়ের বার্তা দিলেন সিপিআইএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। ভোটের ময়দানে কোমর বেঁধে বুকের পাটা ও কবজিটাকে শক্ত করে পাল্টা লড়াইয়ের হুঁশিয়ারি বন্যা টুডুদের।
দুর্নীতি থেকে অশান্তি, ধর্মীয় মেরুকরণ থেকে সাম্প্রদায়িকতা, মানুষকে বোকা বানানোর অন্তঃসারশূন্য রাজনীতির কাঠগড়ায় বিজেপি ও তৃণমূলকে এক আসনে বসিয়ে দল এবং দলীয় কর্মীকে উজ্জীবিত করার চেষ্টা করেন ব্রিগেডের মূল বক্তা মহাম্মদ সেলিম। ভোট রাজনীতির ময়দানে বিজেপি-তৃণমূল সেটিং তত্ত্বের পুনরাবৃত্তি করে সেলিমের দাবি রাজ্য তথা দেশকে এক অন্ধকারের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে এই নেতিবাচক রাজনীতি। একদিকে সীমাহীন দুর্নীতি ও অন্যদিকে বিভাজনের রাজনীতি কাজে লাগিয়ে ‘মোদি-দিদি’ সর্বনাশী খেলায় মেতেছেন বলেও দাবি সেলিমের। ২৬ এর পালাবদল এবং প্রতিরোধের বার্তা দিতে গিয়ে সেলিম বলেন ” বিজেপি ও তৃণমূল বাংলাকে একটি লক্ষ্যহীন জায়গায় নিয়ে যেতে চাইছে যার বিনিময়ে বাংলার শান্তি সম্প্রীতির ঐতিহ্যকে ছিঁড়ে খাচ্ছে ওরা। হিংসা দেখলেই ডান্ডাগুলো আরও মোটা করতে হবে। রাজ্য ও দেশ বাঁচাতে আবার লাল ঝান্ডাকে মজবুত করতে হবে।” কিন্তু সংসদীয় রাজনীতিতে যাদের কোন স্থান নেই, ভোটের ময়দানে যারা কার্যত শূন্য তারা দেশ বাঁচানোর কারিগর হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন কিভাবে? কৌশলী সেলিম তার উত্তর দিয়েছেন ফুটবল খেলাকে উল্লেখ করে। ” ফুটবলে বলা হয় নেমে খেলতে হবে। তাই এমনভাবে মাঠে নামতে হবে যাতে ১৪ তলা থেকে চোর জোচ্চরদের মাটিতে নামানো যায়।” বিষয়টি আরেকটু স্পষ্ট করলেন ক্ষেতমজুর সংগঠনের নেত্রী বন্যা টুডু।
“ওরা বলে খেলা হবে। আমরাও খেলতে জানি। ২৬ এ উইকেট ফেলবই। ভয় পেলে চলবে না। বুথের লড়াইটা জোরদার করতে হবে। বুকের পাটা আর হাতের কব্জিটা শক্ত করতে হবে।” বন্যার এই কোরামিন অবশ্যই হাজার হাজার বামপন্থীদের করতালির মাধ্যমে অভিনন্দন পায়। কিন্তু একা বন্যায় এই লড়াই দিশা পাবে কি? প্রশ্ন ওঠে, আরজিকর কাণ্ড নিয়ে মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়রা যে লড়াইটা শুরু করেছিলেন যেভাবে নেতা-নেত্রীহীন হয়েই রাজ্যে একটা গণঅভ্যুত্থানের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল সেই লড়াই থেকে বামপন্থীরা ধীরে ধীরে ফিকে হয়ে গেলেন কিভাবে? একা মীনাক্ষী বা একা বন্যায় কাজ হবে কি? মহম্মদ সেলিম বলছেন ” লড়াইয়ের ময়দান থেকে উঠে এসেছেন বন্যা। টলিউড-বলিউড থেকে আমাদের নেতা-নেত্রী তৈরি হয় না।” সেলিম হক কথা বলেছেন। কিন্তু রাজনৈতিক মহলে একটা প্রশ্ন বরাবরই ঘুরপাক খায় যে ৩৪ বছরের রাজত্ব করা সিপিআইএমের নতুন প্রজন্মের নেতা তৈরি হল কই? মেইনস্ট্রিম পলিটিক্স বা ভোটমুখী রাজনীতির ক্ষেত্রে লাল ঝাণ্ডার গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠেছে ভোটের ময়দানে। ভোটের ফল থেকে ভোট বাক্সের লাইনে সর্বত্র সেই ছবিটা স্পষ্ট। কিন্তু মেহনতী মানুষ বা খেটে খাওয়া মানুষ বলে যারা পরিচিত সেই সমস্ত কৃষক, মজদুর,শ্রমিক এখনও লাল ঝান্ডা ধরতে জানেন। আজকের ব্রিগেডের পর তা কিছুটা হলেও অক্সিজেন যোগাবে লাল পার্টির নেতাদের। কিন্তু একটা মৌলিক প্রশ্ন অবশ্যই সামনে থেকে যাবে যে এই শ্রেণীভিত্তিক সংগঠনের নেতা-নেত্রীরা কি আলিমুদ্দিনের ‘ফোর ফ্রন্টে’ জায়গা পাবেন? না হলে মহম্মদ সেলিমের এই পুনরুজ্জীবনের কাহিনী টোটকা হয়েই রয়ে যাবে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
