অভিজিৎ বসু
প্রভু জগন্নাথদেব পড়েছেন মহা বিপদে। তিনি কী করবেন আর কোথায় যাবেন কিছুই বুঝতে পারছেন না তিনি। চরম ধর্মসংকটে পড়েছেন যেনো। নীলাচলের সেই চেনা সমুদ্রের নোনা জলের তীরে অবস্থিত সেই কবে কার শতাব্দী প্রাচীন মন্দিরে তাঁর অধিষ্ঠান। প্রভু জগন্নাথ দেব। আমাদের সবার সেই চেনা পুরী ধাম। যিনি জগতের নাথ। এতো মহাসংকট কোনোদিন হয়নি তাঁর আগে কোনওদিন। এমনকি করোনার সময় যখন পৃথিবীর চেহারা বদলে গেছিলো। ত্রাহি ত্রাহি অবস্থা মানব জাতির। সেই সময়ে তো কেমন দিব্যি ছিলেন তিনি এই মন্দিরে দরজা বন্ধ করেই। ভক্তের আকুল ডাকে সাড়া দিতেন তিনি। কেমন হাসি মুখেই দিন কাটছিল তাঁর নির্দিষ্ট নিয়মেই।
হঠাৎ কী যে হলো কে জানে। প্রভু জগন্নাথ দেবের নতুন করে মন্দির হলো। হঠাৎ করেই আবার সেই মন্দির উদ্বোধনের আগেই ভেসে এলো প্রভু জগন্নাথ দেবের সেই চেনা মূর্তি আমাদের কাছে। একদম রং করা সুন্দর মূর্তি। দু হাত দুপাশে তুলে ধরে আছেন তিনি সত্যিই যেনো খুব অসহায় তিনি আজ। নিজের এই টানাপোড়েনে কিছুটা যেনো ভীত সন্ত্রস্ত প্রভু জগন্নাথদেব নিজেই। যিনি জগতের নাথ। যিনি সব জানেন এই জগৎ সংসারের সবটাই তাঁর করায়ত্ত। তাঁর এই অবস্থা দেখে আমারও কেমন মনটা খারাপ হলো আজ। একদম হঠাৎ করেই এই কাঁচা নাটকের চিত্র নাট্য নির্মাতা কে বা কারা সেটা জানা নেই আমার। তবে কেমন যেনো কাঁচা নাটকের এই কাহিনী সেটা বোঝা যাচ্ছে ধীরে ধীরে সময়ের তালে তালে।
আর অসহায় প্রভু জগন্নাথদেব দীঘার সমুদ্রের ঢেউ সামলে টুক করে স্নান যাত্রার স্নান সেরে সমুদ্রের নোনা জল গায়ে মেখে ঝপ করে উঠে পড়লেন তিনি আজ হঠাৎ করেই এই বিশ্ব বাংলায়। যে বাংলায় দুয়ারে সরকার হয় আবার সেই সুজলা সুফলা শস্য শ্যামলা বাংলাতে দুয়ারে জগন্নাথ দেবের আবির্ভাবও হয়। একদম দিনক্ষণ ধরে তিথি নক্ষত্র মেনে পঞ্জিকা দেখে ঢেউ এর দোলায় দুলতে দুলতে।
সত্যিই অসাধারণ এই বিস্ময় বিশ্ব বাংলার এই রাজনীতিও। যেখানে রাজনীতির দড়ি টানাটানিতে আতান্তরে পড়ে যান স্বয়ং প্রভু জগন্নাথদেব নিজেই। যিনি গোটা এলাকায় রাজনীতি করতে করতে ধর্মীয় অনুশাসন এর ঘেরাটোপে বাস করতে করতে বেশ ক্লান্ত যেনো এই প্রভু জগন্নাথ দেব আজ। তবু কেমন মুখ বুজে সবকিছুই মেনে নেন তিনি। কিছুই বলতে পারেন না তিনি। কারণ একটাই তিনি যে আমাদের সবার প্রিয় সেই জগন্নাথ দেব। যিনি জগতের নাথ সবার মঙ্গল কামনা করেন হাসি মুখে। জলে ভেসে ভেসেও আবার মন্দিরে অধিষ্ঠান করেও। জয় জগন্নাথ।
দুয়ারে জগন্নাথ – অভিজিৎ বসু।
একুশে এপ্রিল, দু হাজার পঁচিশ।
ছবি সৌজন্য ফেসবুক।
