রবিবার ব্রিগেডে জমজমাট জমায়েতের পরদিনই রাজ্য রাজনীতিতে ঝড় তুললেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ। ইকো পার্কে সকালে প্রাতঃভ্রমণ শেষে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বাম ও তৃণমূল, দু’পক্ষের দিকেই তীব্র কটাক্ষ ছুড়ে দেন তিনি।
দিলীপের বক্তব্য অনুযায়ী, রাজ্যে এখন সিপিএমের অস্তিত্ব তৃণমূলের দয়াতেই টিকে আছে। দল চালানোর অর্থ থেকে শুরু করে চা, ঠান্ডা! সবই নাকি তৃণমূলই জোগান দিচ্ছে। এমনকি পার্টি অফিসের দায়িত্বও থাকছে শাসক দলের লোকজনের হাতে। এই দাবি সামনে আসতেই রাজনীতির আঙিনায় নেমেছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।
ব্রিগেড সমাবেশ নিয়ে কটাক্ষ করতে গিয়ে তিনি বলেন, এটি সিপিএমের ‘বার্ষিক মিলন উৎসব’-এর মতো। বছরের এই একদিন সবাই মিলে খাওয়া-দাওয়া করে, ছবি তোলে, শ্লোগান দেয়,তারপর আবার নিস্তব্ধতা। দিলীপের মতে, এই ধরনের অনুষ্ঠান মূলত নিজেদের অস্তিত্বের জানান দেওয়ার চেষ্টা ছাড়া আর কিছু নয়।
২০ মে ঘোষিত দেশব্যাপী ধর্মঘট নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। জনজীবনে এই ধর্মঘটের প্রভাব পড়বে কি না, তা নিয়েই সংশয় প্রকাশ করে তিনি জানিয়েছেন,মানুষ এখন কাজ চায়, মিছিল বা বন্ধ নয়।
এই প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিল্প উদ্যোগ নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেন দিলীপ। শালবনিতে নতুন কারখানার শিলান্যাসকে কেন্দ্র করে তিনি জানতে চান, এত বছর ধরে যেসব প্রকল্পের ঘোষণা হয়েছে, তার মধ্যে ক’টি বাস্তবায়িত হয়েছে? বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি কতটা বাস্তব রূপ পেয়েছে, তা নিয়ে স্পষ্ট তথ্য প্রকাশের দাবি তোলেন তিনি।
তৃণমূল বা বামফ্রন্টের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত এই অভিযোগগুলির কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে এই মন্তব্য ঘিরে তুমুল আলোচনার শুরু, বিশেষ করে ‘বামেরা লাইফ সাপোর্টে’ তত্ত্ব নিয়ে। এই বিতর্ক যে এখানেই থেমে থাকবে না, তা স্পষ্ট।
