সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়
শান্তি ও সুরক্ষা উন্নত দেশ গঠনের অন্যতম শর্ত। বিকশিত ভারত তৈরি করতে হলে সবার আগে শান্তি ও সুরক্ষা বজায় রাখতে হবে। এই পরিস্থিতিতে জম্মু-কাশ্মীরের জঙ্গি হানা গোটা দেশের শান্তি ও সুরক্ষাতে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। গোটা দেশ তথা বিশ্বের দরবারে এই বিপর্যয় মোকাবিলায় করা বার্তা দিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। আজ পঞ্চায়েতি রাজ দিবস উপলক্ষে বিহারের একটি প্রকাশ্য জনসভায় নরেন্দ্র মোদি বলেন “জম্মু-কাশ্মীরে জঙ্গিহানা স্রেফ পর্যটকদের উপর হামলা নয়, গোটা দেশের আত্মার উপর হামলা করার দুঃসাহস দেখিয়েছে দেশের শত্রুরা। যারা এই হত্যালীলা চালিয়েছে তাদের যে সাজা দেওয়া হবে তা তাদের কল্পনাতীত। শুধু যারা হামলা চালিয়েছে তারাই নয় যারা এই চক্রান্তের সঙ্গে যুক্ত তাদেরও একইভাবে সাজা দেওয়া হবে।” বিহারের মাটি থেকেই
প্রধানমন্ত্রীর স্পষ্ট বার্তা “সন্ত্রাসবাদের যেটুকু জমি বেঁচে আছে সেই জমি খুঁজে বের করে মাটিতে মিশিয়ে দেওয়ার সময় এসেছে।
১৪০ কোটি ভারতবাসীর আশা আকাঙ্ক্ষার এই শক্তি সন্ত্রাসবাদীদের কোমর ভেঙে দেবে।” বিহারের মাটি থেকে আজ গোটা বিশ্বের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বার্তা” আমি গোটা বিশ্বকে একথা জানিয়ে দিতে চাই যে ভারত প্রতিটি সন্ত্রাসবাদী কে খুঁজে বের করবে এবং তাদের মদৎকারীদের খুঁজে বের করে উপযুক্ত শাস্তি দেবে।” প্রধানমন্ত্রী বক্তব্য, ভারতের আদর্শকে কোনভাবেই সন্ত্রাসবাদীরা ধ্বংস করতে পারবে না। ভারতের মানবিক আদর্শ ও মানবতা বোধ এবং ভারতীয় ঐতিহ্যকে রক্ষা করতে গোটা দেশ এক হয়ে লড়বে। কোন সন্ত্রাসবাদীকে রেয়াত করা হবে না। “স্বজনহারা পরিবারগুলো ন্যায়বিচার পাবেন” এই আশ্বাস দেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
গত ২২ এপ্রিল জম্মু-কাশ্মীরের পাহালগাঁওয়ে জঙ্গিহানার পর এই প্রথম প্রকাশ্যে মুখ খুললেন প্রধানমন্ত্রী।
২২ এপ্রিল জম্মু ও কাশ্মীরের পাহালগাঁওতে জঙ্গিরা যেভাবে নিরীহ দেশবাসীদের হত্যা করেছে তাতে ১৪০ কোটির প্রতিটি ভারতবাসী দুঃখ পেয়েছে বলে জানান মোদি। গোটা দেশ এই স্বজনহারা পরিবারগুলোর পাশে রয়েছে। যারা জখম হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তাদের যত দ্রুত সম্ভব সুস্থ করার চেষ্টা চলছে। এই জঙ্গিহানায় কেউ নিজের সন্তান হারিয়েছেন কেউ নিজের ভাইকে হারিয়েছেন আবার কেউ নিজের জীবনসঙ্গীকে হারিয়েছেন। এদের মধ্যে কেউ বাংলায় কথা বলতো, কেউ ওড়িয়া, কেউ কন্নড় কেউ মারাঠি, কেউ গুজরাতি, কেউবা এই বিহারের সন্তান। এই ঘটনা কারগিল থেকে কন্যাকুমারী পর্যন্ত গোটা দেশের দুঃখকে এক করেছে, গোটা দেশের সংকল্পকে এক করেছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রীর মতে, যারা মানবিকতার সমর্থক তারাই ভারতের পাশে আছে। ভারতের এই দুঃসময় যেসব রাষ্ট্র নেতারা পাশে রয়েছেন তাদের সবাইকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
