পহেলগাঁওয়ে যারা হামলার সঙ্গে যারা জড়িত এবং যারা তাদের পেছন থেকে মদত দিচ্ছে কাউকে রেয়াত করা হবে না বলে জানিয়ে দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বৃহস্পতিবার পঞ্চায়েতি রাজ দিবস উপলক্ষে বিহারের মধুবনী জেলায় একটি সরকারি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে একথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। বিহারের সভা থেকে হুঙ্কার ছেড়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এই হামলা কেবল পর্যটকদের উপর নয়। দেশের শত্রুরা ভারতের আত্মার উপর হামলার দু:সাহস দেখিয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “আমি সাফ জানাচ্ছি, যারা এই হামলা করেছে সেই জঙ্গিদের ও পিছনে থাকা ষড়যন্ত্রকারীদের সাজা দেওয়া হবে। কল্পানার থেকেও বড় সাজা দেওয়া হবে। সাজা দেবই। সন্ত্রাসবাদীদের যেটুকু জমি আছে। তাদের মাটিতে মিলিয়ে দেওয়ার সময় চলে এসেছে।”
পহেলগাঁওয়ে সন্ত্রাসী হামলার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন যে আজ কার্গিল থেকে কন্যাকুমারী পর্যন্ত নিহত সকলের মৃত্যুতে আমাদের শোক একই।এই আক্রমণ কেবল নিরস্ত্র পর্যটকদের উপরই ঘটেনি। দেশের শত্রুরা ভারতের আত্মাকে আক্রমণ করার সাহস করেছে।তা দেখে গোটা দেশ শোকস্তব্ধ। প্রধানমন্ত্রী জানান যে শাস্তি সম্মিলিতভাবে দেওয়া হবে। এখন সময় এসেছে সন্ত্রাসীদের অবশিষ্ট আস্তানা ধ্বংস করার।
পহেলগাঁওয়ে ভয়ঙ্কর সন্ত্রাস হানা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এই আতঙ্কবাদী হামলায় কেউ ছেলে, কেউ ভাই, কেউ জীবনসাথী হারিয়েছে। ওদের মধ্যে কেউ বাংলা, কেউ কানাড়া, কেউ মারাঠা, কেউ গুজরাতি বলে। আজ তাদের মৃত্যুতে কার্গিল থেকে কন্যাকুমারি সবাই শোকস্তব্ধ। এই হামলা কেবল পর্যটকদের উপর নয়। দেশের আত্মার উপর হামলা।”
জঙ্গি ও তাদের মদতদাতাদের হুঁশিয়ারি দিয়ে মোদী বলেন, “একশো চল্লিশ কোটি ভারতীয়র ইচ্ছাশক্তি এবার জঙ্গিদের কোমর ভেঙে দেবে। আমি গোটা বিশ্বকে বলছি, ভারত সন্ত্রাসবাদীদের চিহ্নিত করে শাস্তি দেবে। ভারতের ঐক্যকে ভাঙা যাবে না। সন্ত্রাসবাদ দমনে সব রকমের পদক্ষেপ করা হবে। আমরা বিভিন্ন দেশের নেতাদের বার্তা পেয়েছি। তাদের ধন্যবাদ।”
বুধবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে সুরক্ষা বিষয়ক ক্যাবিনেট কমিটির বৈঠকের পরে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে একের পর এক কড়া কূটনৈতিক ও কৌশলগত পদক্ষেপের ঘোষণা করেছে ভারত সরকার। বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে যে সীমান্ত পেরিয়ে সন্ত্রাসের জবাবে ‘চূড়ান্ত প্রতিক্রিয়া’হিসেবে পাঁচটি বড় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তার মধ্যে পাকিস্তানের সঙ্গে সিন্ধু জল বন্টন চুক্তি বাতিল করেছে ভারত। স্থগিত করা হয়েছে ইন্দাস বা সিন্ধু জল চুক্তি।পাশাপাশি ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে বাণিজ্য ও জনসংযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্থলপথ আটারি-ওয়াঘা সীমান্ত অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পাকিস্তানি নাগরিকদের ভারতে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পাকিস্তানের নাগরিকদের জন্য ভারতের ভিসা পরিষেবা ও সীমান্ত পেরিয়ে যাতায়াতের সব অনুমতি স্থগিত করা হয়েছে। পাকিস্তানি নাগরিকরা ভারতে আসতে পারবে না, পাশাপাশি ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পাক নাগরিকদের ভারত ছাড়তে হবে।
নয়াদিল্লিতে পাকিস্তানি হাইকমিশনে প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত আধিকারিকদের থাকা যাবে না বলে ঘোষণা করেছে নয়াদিল্লি। পাশাপাশি পাক হাইকমিশনের কর্মীসংখ্যার ক্ষেত্রে পাকিস্তানকে জানানো হয়েছে যে, নয়াদিল্লিতে তাদের কূটনৈতিক মিশনে কর্মীসংখ্যা ৫৫ থেকে কমিয়ে ৩০-এ নামিয়ে আনতে হবে।
পহেলগাঁওতে জঙ্গি হামলায় ইতিমধ্যেই দায় স্বীকার করেছে পাকিস্তানের মদতপুষ্ট জঙ্গিগোষ্ঠী লস্কর ই তৈবার সংগঠন টিআরএফ।এই অবস্থায় সুরক্ষা বিষয়ক ক্যাবিনেট কমিটির বৈঠকে সিদ্ধান্ত এবং বিহারে প্রধানমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি জানিয়ে দিল যে সীমান্ত পেরিয়ে সন্ত্রাসের কোনওরকম ছাড় নেই।
Jazzbaat24Bangla • Beta
Leave a comment
Leave a comment
