কাশ্মীরের নিস্তব্ধতা ফের রক্তাক্ত হল। শনিবার রাতে উত্তরের কুপওয়ারা জেলার কান্দি খাস এলাকায় সাধারণ মানুষের বাড়িতে ঢুকে গুলি চালাল জঙ্গিরা। নিশানা হলেন স্থানীয় বাসিন্দা রসুল মাগরে (৪৩)। খুব কাছ থেকে চালানো গুলিতে তাঁর তলপেট ও বাঁ হাতে গুরুতর আঘাত লাগে। বর্তমানে তিনি হান্দওয়ারার জিএমসি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
সূত্রের খবর, রাতের অন্ধকারে হানা দিয়ে একেবারে বাড়ির মধ্যে ঢুকে হামলা চালায় আততায়ীরা। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় নিরাপত্তা বাহিনী। গোটা এলাকা ঘিরে রেখে শুরু হয়েছে তল্লাশি অভিযান। তবে ঠিক কী কারণে রসুল মাগরেকে নিশানা করা হল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তদন্ত চলছে।
উপত্যকায় এমন হামলা নতুন নয়। কিছুদিন আগেই পহেলগামে পর্যটকদের লক্ষ্য করে গুলি চালায় জঙ্গিরা। তারপর দক্ষিণ কাশ্মীরের কুলগামে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষ, বান্দিপোরায় লস্কর-ই-তৈবার তিন সন্দেহভাজনের গ্রেফতার, সব মিলিয়ে কাশ্মীরে ফের বাড়ছে অশান্তির আঁচ।
গ্রেফতার হওয়া তিন সন্দেহভাজনের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে একটি চাইনিজ পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন, প্রচুর গুলি এবং একাধিক হ্যান্ড গ্রেনেড। ফলে বড়সড় নাশকতার ছক বানচাল করা সম্ভব হয়েছে বলেই মনে করছে প্রশাসন।
কাশ্মীরের সীমান্তবর্তী গ্রামগুলিতে ইতিমধ্যেই সতর্কতা বাড়ানো হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা নিজেদের মতো করে বাঙ্কার তৈরি করছেন, মজুত করছেন প্রয়োজনীয় খাবার ও ওষুধ। যুদ্ধের প্রস্তুতির ছবি যেন ক্রমশ স্পষ্ট হয়ে উঠছে উপত্যকার আকাশে।
প্রশাসনের দাবি, জঙ্গি কার্যকলাপ রুখতে চলছে কঠোর অভিযান। গোটা কাশ্মীর জুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। তবে সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন,কবে থামবে এই রক্তের খেলা?
আতঙ্কের ছায়া ঘনিয়ে আসছে উপত্যকার প্রতিটি কোণে। শান্তির প্রার্থনা আবারও থমকে দাঁড়িয়েছে গুলির শব্দের সামনে।
