চাকরি হারানো গ্রুপ-সি ও গ্রুপ-ডি কর্মীদের জন্য রাজ্য সরকারের ভাতা ঘোষণাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে প্রবল তুফান উঠেছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘোষণা অনুযায়ী, গ্রুপ-সি কর্মীরা মাসে ২৫ হাজার টাকা এবং গ্রুপ-ডি কর্মীরা ২০ হাজার টাকা করে মাসিক সাহায্য পাবেন। কিন্তু এই সিদ্ধান্ত ঘিরে উঠেছে একাধিক প্রশ্ন।
বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার কটাক্ষ করে বলেন, “তৃণমূল কংগ্রেসের ফান্ড থেকেই ভাতা দেওয়া উচিত। জনগণের করের টাকায় দুর্নীতির দায় মেটানো যায় না।” তাঁর মতে, এই সিদ্ধান্ত সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পরিপন্থী এবং ভবিষ্যতে আদালতে চ্যালেঞ্জ হবে।
আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্যও স্পষ্ট করে বলেন, “এটি আদালত অবমাননার সমান। করদাতাদের টাকায় এই ধরনের জনস্বার্থ-বিরোধী পদক্ষেপ গ্রহণ করা অনুচিত। আদালত সুয়োমোটো কগনিজেন্স নিতেও পারে।” একই মত পোষণ করেছেন আইনজীবী সুদীপ্ত দাশগুপ্ত, যিনি মন্তব্য করেন, “কাজ না করেই বসে বসে মাসে টাকা দেওয়া, তা-ও আবার অযোগ্য প্রমাণিত কর্মীদের, সম্পূর্ণ বেআইনি।”
তবে পাল্টা সুর শোনা গিয়েছে তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষের গলায়। তিনি বলেছেন, “শকুনের রাজনীতির ফাঁদে পা দেবেন না। সরকার আইনি জট কাটাতে চেষ্টা করছে, কোনও অবৈধ কাজ করছে না।”
জনগণের মধ্যে এখন ঘুরপাক খাচ্ছে প্রশ্ন চাকরিহারাদের পাশে দাঁড়ানোর এই প্রয়াস কি আদৌ মানবিকতা, না কি রাজনৈতিক চাল? শেষ কথা বলবে আদালতই। তার আগে, ভাতার এই বর্ষায় রাজনীতির ময়দানে প্রবল তুফান চলবে তা স্পষ্ট।
