পহেলগাঁওয়ে সাম্প্রতিক জঙ্গি হামলার রেশ কাটতে না কাটতেই সেই ঘটনার আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়ায় নতুন মাত্রা যোগ করল রাষ্ট্রপুঞ্জের মহাসচিব আন্তোনিয়ো গুতেরেসের হস্তক্ষেপ। গুতেরেস পৃথক ভাবে ফোনে কথা বলেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ় শরিফের সঙ্গে। যদিও রাষ্ট্রপুঞ্জের তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে এই কথোপকথনের বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি, দুই রাষ্ট্রনায়কই সামাজিক মাধ্যমে তাঁদের বক্তব্য তুলে ধরেছেন।
বিদেশমন্ত্রী জয়শঙ্কর জানিয়েছেন, গুতেরেস পহেলগাঁও হামলার তীব্র নিন্দা করেছেন, আর এর জন্য রাষ্ট্রপুঞ্জের মহাসচিবকে ধন্যবাদও জানিয়েছেন তিনি। জয়শঙ্করের কথায়, “পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার দ্ব্যর্থহীন নিন্দা করার জন্য রাষ্ট্রপুঞ্জের মহাসচিবকে ধন্যবাদ। যারা এই ষড়যন্ত্রে যুক্ত, ভারত তাদের বিচারের মুখোমুখি করবে।” তিনি যদিও কোনও দেশের নাম উল্লেখ করেননি, তবে আন্তর্জাতিক মহল মনে করছে, তাঁর ইঙ্গিত স্পষ্টভাবেই পাকিস্তানের দিকে।
অন্যদিকে, পাক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ় শরিফ তাঁর পোস্টে দাবি করেছেন, “পাকিস্তান সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থানে রয়েছে।” একই সঙ্গে তিনি ভারতের বিরুদ্ধে ‘ভিত্তিহীন অভিযোগ’ তোলার প্রতিবাদ করে রাষ্ট্রপুঞ্জের কাছে নয়াদিল্লির বিরুদ্ধে অভিযোগও জানিয়েছেন। আরও এক ধাপ এগিয়ে শাহবাজ় রাষ্ট্রপুঞ্জকে কাশ্মীর সমস্যা সমাধানে নিরাপত্তা পরিষদের পুরনো প্রস্তাব অনুযায়ী পদক্ষেপ গ্রহণের আর্জিও জানিয়েছেন।
এই ঘটনার পর থেকে ইসলামাবাদ কূটনৈতিক মহলে নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে উঠেপড়ে লেগেছে। পাকিস্তানের পক্ষ থেকে নিরপেক্ষ আন্তর্জাতিক তদন্তের দাবি তোলা হয়েছে, যার মূল উদ্দেশ্য ঘটনাটিকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে ‘দ্বিপাক্ষিক সংঘাত’ হিসেবে দেখানো।
এই মুহূর্তে উপমহাদেশে ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। ভারত পহেলগাঁও হামলার নেপথ্যে পাকিস্তানের মদত রয়েছে বলে পরোক্ষে অভিযোগ তুলেছে, যদিও সরাসরি কোনও প্রমাণ পেশ করা হয়নি। অপরদিকে পাকিস্তান এই অভিযোগকে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে প্রত্যাখ্যান করে নিজেদের ‘শান্তিপ্রিয়’ ভাবমূর্তি তুলে ধরার চেষ্টা করছে।
রাষ্ট্রপুঞ্জের মহাসচিব গুতেরেসের এই উদ্যোগ দুই দেশের সম্পর্কের ভবিষ্যতের দিক নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে, যদিও বাস্তব পরিপ্রেক্ষিতে এই হস্তক্ষেপ কতটা কার্যকর হবে, তা সময়ই বলবে।
