ভারতের কঠোর অবস্থানের সামনে কার্যত দিশেহারা পাকিস্তান। সীমান্তে টান টান উত্তেজনার আবহেই এবার মধ্যরাতে চমকে দেওয়া এক সিদ্ধান্ত নিল ইসলামাবাদ। পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি আসিফ আলি জারদারি হঠাৎ করেই ডাক দিয়েছেন সংসদের বিশেষ অধিবেশন। ৩ মে শনিবার রাতেই এই নির্দেশ জারি হয়েছে। আগামী সোমবার, অর্থাৎ ৫ মে বিকেল ৫টায় বসতে চলেছে সেই অধিবেশন। তবে এই অধিবেশনের নির্দিষ্ট আলোচ্য বিষয়ের কথা এখনো প্রকাশ্যে আনা হয়নি।
তবে গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, এই বৈঠক নিছক নিয়মরক্ষার সভা নয়। বরং ভারতের বিরুদ্ধে কড়া প্রতিক্রিয়া জানাতে এই অধিবেশনের আয়োজন করা হয়েছে বলেই অনুমান করছে কূটনৈতিক মহল। কারণ পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার ঘটনার পর ভারত যেভাবে পাল্টা পদক্ষেপ নিচ্ছে, তাতে ইসলামাবাদ সরকার চাপের মুখে পড়েছে। শুধু সামরিক নয়, কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক স্তরেও পাকিস্তানকে কোণঠাসা করে তুলছে নয়াদিল্লি।
ভারত ইতিমধ্যেই স্থগিত করেছে বহুদিনের পুরনো সিন্ধু জলচুক্তি। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে সীমান্ত পারাপার, পাকিস্তানি নাগরিকদের ভারত ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং যাঁরা এখনও ভারতে রয়েছেন, তাঁদের ভিসাও বাতিল করা হয়েছে। এমনকি কোনও নতুন ভিসাও এখন আর পাকিস্তানিদের দেওয়া হবে না বলে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। পাকিস্তান এখন ভারতের আকাশসীমাও ব্যবহার করতে পারবে না, যা বাণিজ্য ও যোগাযোগের ক্ষেত্রে বড় ধাক্কা।
এইসবের পাশাপাশি ভারতের তরফ থেকে আরও এক কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে যা পাকিস্তানের অর্থনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে চলেছে। গতকাল, শনিবার, ভারত ঘোষণা করেছে যে পাকিস্তান থেকে কোনও পণ্যই আর আমদানি করা হবে না। একইসঙ্গে পাকিস্তানের জন্য সমস্ত ভারতীয় বন্দর বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ পাকিস্তানি কোনও জাহাজ ভারতীয় বন্দরে ভিড়তে পারবে না, এমনকি প্রবেশ করারও অনুমতি দেওয়া হবে না। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে দুই দেশের মধ্যে ডাকযোগ পরিষেবাও পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
এই একের পর এক সিদ্ধান্ত কার্যত ধাক্কা মেরেছে ইসলামাবাদের উপর মহলকে। একদিকে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে চাপ, অন্যদিকে দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ও আর্থিক টানাপোড়েন—এই দুই মিলিয়ে পাক সরকার এখন ঘোর দুশ্চিন্তার মধ্যে। তাই এমন পরিস্থিতিতে প্রেসিডেন্ট জারদারির এই মধ্যরাতের নির্দেশ ও সংসদ অধিবেশনের ডাককে ঘিরে তীব্র জল্পনা শুরু হয়েছে।
এই অধিবেশনে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, তা এখনই স্পষ্ট নয়। তবে বিশ্লেষকদের ধারণা, পাকিস্তান হয়তো ভারতের বিরুদ্ধে পাল্টা পদক্ষেপ নিতে পারে কিংবা কোনও সামরিক হুঁশিয়ারি দিতে পারে। তবে বাস্তবতা বলছে, ভারতের মতো একটি দেশের বিরুদ্ধে কূটনৈতিক বা সামরিক স্তরে সরাসরি প্রতিক্রিয়া জানানো পাকিস্তানের পক্ষে ততটাও সহজ নয়। তবুও অভ্যন্তরীণ চাপে এবং রাজনৈতিক অবস্থান বজায় রাখতেই ইসলামাবাদ এমন নাটকীয় পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে।
পাকিস্তান বুঝতে পারছে, ভারতের ধাপে ধাপে নেওয়া কঠোর পদক্ষেপ এবার সত্যিই তাদের বিচ্ছিন্ন করে দিতে পারে। আর এই বিচ্ছিন্নতাই একপ্রকার ভয় হয়ে দেখা দিয়েছে পাকিস্তানের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে। তাই হয়তো রাতারাতি বিশেষ অধিবেশনের আয়োজন—একটা বার্তা দেশের অভ্যন্তরে, আবার একটা চাপে থাকা প্রতিচ্ছবি আন্তর্জাতিক পরিসরে।
