সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়
বিগ্রহ বিতর্কের জেরে এবার দিঘার জগন্নাথ মন্দির থেকে সরছে “ধাম” শব্দটি। দিঘার জগন্নাথ মন্দিরের বিগ্রহ পুরীর দারুকাঠ দিয়ে তৈরি করা হয়েছে এই অভিযোগ ওঠার পাশাপাশি এই মন্দিরটির সঙ্গে “ধাম” শব্দটি যুক্ত করা নিয়েও বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। ওড়িশার আইনমন্ত্রী নিজেই বিগ্রহ বিতর্কে ইতি টেনেছেন। পুরি দারুকাঠ দিয়ে দিঘার জগন্নাথ বিগ্রহ তৈরি হয়নি বলেও জানিয়েছেন ওড়িশার আইনমন্ত্রী পৃথ্বীরাজ হরিচন্দন। অন্যদিকে বিগ্রহ বিতর্কের মধ্যেই দিঘার জগন্নাথ মন্দিরের সঙ্গে “ধাম” শব্দটি জুড়ে দেওয়া নিয়ে বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। দিঘার মন্দিরের সামনে ” জগন্নাথ ধাম ” উল্লেখ করা সেলফি পয়েন্ট নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই। সেই বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে পুরীর মহারাজ দিব্যজ্যোতি সিংহ দেব-এর সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট। দিঘার জগন্নাথ মন্দির কর্তৃপক্ষের কাছে ওই মন্দিরের সঙ্গে যুক্ত থাকা “ধাম” শব্দটি সরিয়ে দেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন পুরীর মহারাজ। গতকালই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় “জগন্নাথ ধাম” শব্দটি নিয়ে ওড়িশার আপত্তি কেন তা জানতে চেয়ে পাল্টা প্রশ্ন তুলেছিলেন। যদিও তৃণমূলের বিধায়ক তথা মন্ত্রী অখিল গিরি এবং দিঘার জগন্নাথ মন্দির পরিচালনার দায়িত্বপ্রাপ্ত ইসকন সহ-সভাপতি রাধারমণ দাস জানিয়েছেন উদ্বোধনের দিন অস্থায়ী পরিকাঠামো হিসেবে ওই সেলফি পয়েন্ট তৈরি করা হয়েছিল ইতিমধ্যেই তা সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকেও সমাজমাধ্যমে যে ছবি ঘুরে বেড়াচ্ছে তা “ভুয়ো” বলে দাবি করা হয়েছে। যদিও বিভিন্ন এলাকায় “জগন্নাথ ধাম” লেখা পোস্টার, ব্যানার, ফেস্টুন কেন? তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে সমাজমাধ্যমেই।তবে পুরীর মহারাজের এই আবেদনের প্রেক্ষিতে ইতিমধ্যেই দীঘার জগন্নাথ মন্দির থেকে ধাম শব্দটি সরিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে জেলা প্রশাসন বলে সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে।
হিন্দু পুরাণ মতে “ধাম” এবং “মন্দির” নিয়ে কিছু প্রকৃতিগত পার্থক্য রয়েছে। “ধাম” শব্দটির অর্থ “বাসস্থান” বা “ঈশ্বরের আসন”। এটি এমন একটি স্থানকে বোঝায় যা কোনও দেবতা বা শ্রদ্ধেয় ব্যক্তির উপস্থিতি বা উপস্থিতির কারণে পবিত্র বলে বিবেচিত হয়। ভারতে চারটি স্থানকে ধাম হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। চারটি ধাম হল বদ্রীনাথ, দ্বারকা, পুরী এবং রামেশ্বরম।পক্ষান্তরে “মন্দির” বলতে হিন্দু মন্দিরকে বোঝায় যা এমন একটি উপাসনাস্থল যেখানে দেবতাদের প্রতিষ্ঠা করা হয় এবং তাদের শ্রদ্ধা জানানো হয়। এটি একটি ভৌত কাঠামো যেখানে আচার-অনুষ্ঠান, প্রার্থনা এবং অনুষ্ঠান উদযাপন করা হয়। মন্দিরের ধারণাটি “মামদিরা”-র সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত, যার অর্থ “বাসস্থান”। এমনকি “ধাম” এবং “তীর্থক্ষেত্রের” মধ্যেও পার্থক্য রয়েছে। হিন্দু ধর্মমত অনুযায়ী, “ধাম” হল সেই স্থান যেখানে ভক্তরা তাদের ভক্তি ও শ্রদ্ধা প্রকাশ করেন। আর “তীর্থ” হল পবিত্রতা এবং আধ্যাত্মিক পুনর্নবীকরণের উৎসস্থল। এই সার্বিক হিন্দু ধর্মমত পুরাণের ব্যাখ্যাকে সামনে রেখে দিঘার জগন্নাথের অধিষ্ঠান নিয়েও বিতর্ক তুঙ্গে? দিঘার জগন্নাথের ঠিকানা কি ? “ধাম” না “মন্দির” তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যেও উন্মাদনা যথেষ্ট।
