“দাঙ্গা করলে দিদিকে পাবেন না, দিদিই হবে বড় শত্রু” বার্তা মমতার
সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়
মুর্শিদাবাদের ওয়াকফ অশান্তির দায় ফের বিজেপির ঘাড়েই ঠেললেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আজ মুর্শিদাবাদের সুতিতে প্রকাশ্য জনসভায় দাঙ্গা পীড়িত এলাকার বাসিন্দাদের উদ্দেশ্যে বলেন ” দয়া করে বিজেপির কথা শুনে দাঙ্গা করবেন না। মানুষে মানুষে ভাগ করবেন না। ধর্ম মানে ভক্তি সম্প্রীতি ও সংস্কৃতি। ধর্ম মানে শান্তি। আমরা শান্তি চাই, তাই যে কোন মূল্যে দাঙ্গা রুখতে হবে।” এদিন সুতির জনসভা থেকে মুখ্যমন্ত্রীর স্পষ্ট বার্তা ” আমরা সবাই আপনজন। আমি দাঙ্গার বিরুদ্ধে আমি দাঙ্গা চাই না। যদি কথা দেন দাঙ্গা হবে না তাহলে দিদি আপনাদের পাশে থাকবে না হলে আপনারা দিদিকে পাবেন না। যদি এরপরও দাঙ্গা হয় তাহলে আমি হব সবচেয়ে বড় শত্রু।” অর্থাৎ, দাঙ্গা হাঙ্গামা অশান্তি বা ধর্মীয় বিভাজনের রাজনীতিতে মমতা বা তৃণমূল বিশ্বাস করে না, বিভাজনের রাজনীতিকে প্রশ্রয় দেয় বিজেপিই। তাই বিজেপির কথা শুনে কেউ দাঙ্গা বা ধর্মীয় বিভাজন করবেন না। বিভাজনের রাজনীতি নয় “আমি আপনাদেরই লোক” মুর্শিদাবাদের দাঙ্গা পীড়িত সুতির জনসভায় দাঁড়িয়ে একথাই বোঝাতে চাইলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর কথায়, ” আপনারা সবাই মিলেমিশে থাকুন, শান্তিতে থাকুন। আন্দোলনটা আমাকে করতে দিন। আমি আপনাদের পাশে আছি।”
এদিনের বক্তব্যে মুর্শিদাবাদের অতীত সম্প্রীতির ঐতিহ্য স্মরণ করিয়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ৯২ সালে যখন বাবরি মসজিদ ধ্বংস হয়েছিল তখনও মুর্শিদাবাদের কোনও দাঙ্গা হয়নি। মুর্শিদাবাদের স্থানীয় মানুষজনই দাঙ্গা করতে দেননি। অতীতে কাটরা মসজিদের দাঙ্গার কারণে এই মুর্শিদাবাদের চল্লিশ জনের মৃত্যু হয়েছিল সে কথাও মনে করিয়ে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। রক্তদান শিবিরে যখন রক্ত দেওয়ার জন্য নাম লেখানো হয় সেখানে কোন ধর্ম তা উল্লেখ করা থাকে। কিন্তু সেই রক্ত যখন ব্লাড ব্যাঙ্কে পৌঁছে সেখানে কোন নাম গোত্র ধর্ম উল্লেখ থাকে না। সেই রক্ত শুধুই জীবন বাঁচায় জীবন কেড়ে নেয় না। সুন্দর উপমার সাহায্যে দাঙ্গা পীড়িত এলাকায় সবাইকে একসাথে মিলেমিশে শান্তিতে বসবাস করার বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। মুর্শিদাবাদের দাঙ্গাপীড়িত মানুষজনকে মুখ্যমন্ত্রীর বরাভয় ” ওয়াকফ নিয়ে আর হুড়োহুড়ি গন্ডগোল করবেন না। ওরা তো এনআরসি করেছিল, আমরা হতে দিইনি। কেন্দ্র কোনও আইন করলে আমাদের হাতে তা থাকে না। ওরা গায়ের জোরে আইন করে, ওদেরকে করতে দিন। সেটা বাংলায় হতে দেব না। আমি থাকতে এই বাংলায় ওই কেন্দ্রীয় আইন চালু হবে না।”
এদিনের সভাবমঞ্চ থেকে নিজের দলীয় নেতৃত্বকেও ঝগড়া না করে একসঙ্গে কাজ করার নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী। স্থানীয় উন্নয়ন থেকে বিভেদ ধর্মী রাজনীতি রুখতে দলের সমস্ত নেতৃত্বকে একজোট হয়ে রাস্তায় নামতে হবে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি ২৬ এর নির্বাচনকে লক্ষ্য রেখে তিনি স্থানীয় উন্নয়নের ফিরিস্তি দেন এবং ভাঙ্গন কবলিত ধুলিয়ান শমশেরগঞ্জ ভগবানগোলা লালগোলা এলাকার জন্য রাজ্য সরকার গঙ্গা ভাঙন রোধে কি কি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে তাও বিস্তারিত ভাবে জানান। মুখ্যমন্ত্রী বলেন ধুলিয়ান ও ভগবানগোলা ভাঙ্গনের কবলে হলেও কেন্দ্রকে বারবার অনুরোধ করা সত্ত্বেও কোন টাকা দেয়নি দিল্লি। বরং রাজ্যের সীমিত ক্ষমতার মধ্যেও 800 কোটি টাকা ভাঙ্গন রোধের প্রকল্পে ব্যয় করেছে রাজ্য সরকার। আরো ১৭৪ কোটি টাকার কাজ হবে মালদা মুর্শিদাবাদের ভাঙ্গন রোধের প্রকল্পে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী মুর্শিদাবাদের ১৭৫ টি স্বাস্থ্য কেন্দ্র তৈরির জন্য অতিরিক্ত আরও ১২ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হচ্ছে বলেও এদিনের জনসভায় জানান মুখ্যমন্ত্রী। সুতি, ধুলিয়ান ও ফরাক্কাকে যুক্ত করে নতুন মহকুমা অফিস তৈরি করা হচ্ছে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী।
