কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশ অনুযায়ী বুধবার গোটা দেশজুড়ে সিভিল ডিফেন্স নিরাপত্তা মহড়া হতে চলেছে।১৯৭১ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের পর এই প্রথম দেশজুড়ে হতে চলেছে এমন অসামরিক মহড়া। রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিকে এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যদিও পাকিস্তানের সঙ্গে সাম্প্রতিক উত্তেজনার কথা নির্দেশিকায় স্পষ্টভাবে বলা না হলেও পহেলগাঁও হামলার পর, ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের অবনতির মাঝেই ফের দেশজুড়ে হচ্ছে এমন অসামরিক মহড়া। দেশের ২৭টি রাজ্য এবং আটটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এই মহড়া হবে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। তালিকায় রয়েছে পশ্চিমবঙ্গের ৩১টি জায়গাও। মহড়ায় থাকছে ব্ল্যাকআউট, নির্দিষ্ট স্থান খালি করা, হটলাইন যোগাযোগ ইত্যাদির পরীক্ষা।
নকল মহড়ার সময় বাজবে বিমান হামলার সতর্কতামূলক সাইরেন।হঠাৎ ব্ল্যাকআউট হলে কী করণীয়, কীভাবে উদ্ধারকার্য চালানো হবে জরুরি পরিস্থিতিতে, প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে সেসব বিষয়েও। এই মহড়ায় অংশগ্রহণ করবেন জেলাশাসক-সহ জেলা প্রশাসনের অন্যান্য আধিকারিক, সাধারণ শিক্ষার্থী-সহ অনেকেই। দেশজুড়ে সিভিল ডিফেন্স নিরাপত্তা মহড়ার অংশ হিসেবে সব রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলকে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে বিশেষ নির্দেশ পাঠানো হয়েছে। বিমান হামলার সম্ভাব্য পরিস্থিতিতে কী ধরনের পদক্ষেপ নিতে হবে, সেই বিষয়ে এই নির্দেশিকায় বিস্তারিত নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রাজ্যগুলিকে স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে, বুধবার অনুষ্ঠিত হতে চলা মহড়ায় বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে কোন কোন বিষয়ের ওপর। এর মধ্যে রয়েছে –
১। সতর্কতামূলক সাইরেন ব্যবস্থা:
বিমান হামলার আশঙ্কা তৈরি হলে দ্রুত যাতে সাইরেন বাজিয়ে নাগরিকদের সতর্ক করা যায়, তা খতিয়ে দেখা হবে। জেলা প্রশাসনকে এর কার্যকারিতা পরীক্ষা করতে বলা হয়েছে।
২। ‘ক্র্যাশ ব্ল্যাকআউট’ অনুশীলন:
রাতের আকাশে শত্রু যুদ্ধবিমানের গতিবিধি ধরা পড়লে, যাতে তৎক্ষণাৎ সমস্ত আলো নিভিয়ে ফেলা যায় এবং শত্রুপক্ষকে বিভ্রান্ত করা যায়, সেই প্রস্তুতি নিয়ে ‘ক্র্যাশ ব্ল্যাকআউট’-এর মহড়া চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আলো নিভিয়ে শত্রু বিমানের নিশানা ভ্রান্ত করার এই পদ্ধতি ১৯৭১ সালের যুদ্ধের সময়ও ব্যবহার হয়েছিল।
এই মহড়ার লক্ষ্য, নাগরিক সুরক্ষার জন্য সকল স্তরের প্রশাসনিক, স্বেচ্ছাসেবক ও নিরাপত্তা সংস্থাকে যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির অনুকরণে বাস্তবসম্মত প্রশিক্ষণ দেওয়া।
কোন কোন জেলায় হবে এই মহড়া?
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নির্দেশিকা অনুযায়ী, দেশের ২৪৪টি সিভিল ডিফেন্স জেলা জুড়ে এই মহড়া অনুষ্ঠিত হবে। এই মহড়া গ্রাম পর্যায় পর্যন্ত পরিচালিত হবে।এই মহড়ার মূল লক্ষ্য হল সিভিল ডিফেন্স ব্যবস্থার প্রস্তুতি যাচাই ও উন্নয়ন।
কারা অংশ নেবেন ?
১।জেলা কন্ট্রোলার ও বিভিন্ন জেলা প্রশাসনিক আধিকারিক.
২।সিভিল ডিফেন্স ওয়ার্ডেন ও স্বেচ্ছাসেবকরা
৩।হোম গার্ড (সক্রিয় ও রিজার্ভ).
৪। এনসিসি,এনএসএস,এনওয়াইকেএস সদস্যরা
৫। স্কুল ও কলেজের ছাত্রছাত্রীরা
৬। সাধারণ নাগরিকরাও অংশ নিতে পারবেন
মহড়ার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য কী?
১. এয়ার রেড সতর্কতা ব্যবস্থা কতটা কার্যকর তা যাচাই
২. শত্রুপক্ষের সম্ভাব্য বিমান হামলার প্রতিক্রিয়া কেমন হবে, তার প্রস্তুতি
৩. হটলাইন ও রেডিও যোগাযোগ ব্যবস্থা সক্রিয় রাখা
৪. কন্ট্রোল রুম ও শ্যাডো কন্ট্রোল রুম এর কার্যকারিতা পরীক্ষা
৫. ব্ল্যাকআউট প্রশিক্ষণ: হঠাৎ বিদ্যুৎ বন্ধ রেখে কীভাবে কাজ চলবে তার প্রস্তুতি
৬. জরুরী ক্ষেত্রগুলিকে লুকিয়ে রাখা। যেমন – বিমানঘাঁটি, রিফাইনারি, রেল ইয়ার্ড
৭. রেসকিউ ও দমকল বাহিনীর প্রস্তুতি যাচাই
৮. আবাসিক এলাকা থেকে মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরানো
৯. প্রথমিক চিকিৎসা, অগ্নিনির্বাপন ও আশ্রয় প্রশিক্ষণ সাধারণ মানুষকে দেওয়া
সম্প্রতি পহেলগাঁওয়ে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলায় নির্মমভাবে ২৫ জন পর্যটক ও এক স্থানীয় মানুষকে হত্যা করে হয়।ঘটনার পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “এই হামলার ষড়যন্ত্রকারীরা এমন শাস্তি পাবে, যা তারা কল্পনাও করতে পারবে না।” এই হামলার তদন্তে পাকিস্তানি মদতের প্রমাণ মিলেছে। এর জেরে কূটনৈতিক পদক্ষেপে ইন্দাস জলচুক্তি স্থগিত করা হয়েছে।প্রায় প্রতিদিনই চলছে উচ্চ পর্যায়ের নিরাপত্তা বৈঠক।প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর প্রধানরা পরপর বৈঠকে বসেছেন। শীঘ্রই ভারত এই জঙ্গি হানার পাল্টা এবং উপযুক্ত পদক্ষেপ নেবে বলেই মনে করা হচ্ছে।
