সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়
ভোটার তালিকায় মৃত ও ডুপ্লিকেট ভোটারদের নামের রমরমা। কালীগঞ্জের ভোটার তালিকা থেকে সদ্য ৫৮৪০ জনের নাম বাদ দিতে হয়েছে নির্বাচন কমিশনকে। বুথ লেভেল অফিসার বা বিএলও-দের গাফিলতিতে এই “ভুতুড়ে ভোটার” ভিড় করেছিল ভোটার তালিকায় তা কার্যত মেনে নিল নির্বাচন কমিশন। প্রশ্ন উঠেছে আড়াই লক্ষের কিছু বেশি ভোটার সমৃদ্ধ কালীগঞ্জ বিধানসভার ক্ষেত্রে যদি ৫৮৪০ জন মৃত অথবা ডুপ্লিকেট ভোটারের নাম্বার যায় তাহলে রাজ্যের ২৯৪ টি বিধানসভা কেন্দ্রের ক্ষেত্রে সেই সংখ্যা কোন পর্যায়ে যেতে পারে তা নিয়ে। অর্থাৎ গোটা রাজ্য জুড়ে ভোটার তালিকায় এই ধরনের ডুপ্লিকেট ভোটার বা মৃত অথবা ভুয়া ভোটারের নাম বিপুল পরিমাণে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এই আশঙ্কার কথা উড়িয়ে দিচ্ছেন না রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়ালও। তাঁর মতে, “এই আশঙ্কা একেবারে অমূলক নয়। কালীগঞ্জের ক্ষেত্রে নির্বাচনী বিধি মেনে অত্যন্ত সর্তকতা সঙ্গে ভোটার তালিকা খুঁটিয়ে দেখা হয়েছে। তার ফলেই এই ভুলগুলো ধরা পড়েছে। গোটা রাজ্যের ক্ষেত্রে এ ধরনের ভুলের সংখ্যা অবশ্যই অনেক বেশি হতেই পারে। তবে সবকিছুই পরিস্থিতি অনুযায়ী পরীক্ষা করে দেখতে হবে।” এই ভুলভ্রান্তির দায় কার? ঘুছ লেভেল অফিসার বা বিএলও দের? সরাসরি উত্তর না দিলেও বি এল ওদের ভ্রান্তির কথা কার্যত মেনে নিয়েছেন মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক।
“এই যাবতীয় ভুল ভ্রান্তি একদিনে হয়নি । আমি সিইও পদে যোগ দেওয়ার পর যদি কোন ভুল ভ্রান্তি হয় তার দায়িত্ব নিতে রাজি। আগে কি হয়েছে তার দায় আমি নিতে রাজি নই। এবার থেকে কোন ভুল ভ্রান্তি হলে সেটা আমি বুঝে নেব।” স্পষ্ট বক্তব্য রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়ালের।প্রসঙ্গত, বিএলও রা সরাসরি ভোটার তালিকা তৈরির কাজে যুক্ত। যদি কোন পরিবার মৃত ব্যক্তির নাম গোপন করেন সেক্ষেত্রে ফর্ম ৬ পূরণ করার ক্ষেত্রে বুথ লেভেল অফিসারের কার্যত কিছু করার থাকে না। কিন্তু স্পট ভেরিফিকেশনে যাওয়ার পর ফর্ম ৭ পূরণের সম্পূর্ণ দায়িত্ব বুথ লেভেল অফিসারের। তদনুযায়ী কালীগঞ্জের ক্ষেত্রে ভুত লেভেল অফিসার রায় যে এই গাফিলতি করেছেন তার রাগ ঢাক করেননি মুখ্য নির্বাচনী অধিকারিক। অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশনের এই বক্তব্য কার্যত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগকেই মান্যতা দিল কালীগঞ্জ।
উল্লেখযোগ্য , কালীগঞ্জ বিধানসভার উপনির্বাচনের প্রাক্কালে সংশোধিত চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় ৮৮৪০ জনের নাম বাদ যাওয়ার ঘটনায় ফের রাজনৈতিক চর্চায় ভুতুড়ে ভোটার ইস্যু। কিছুদিন আগেই কলকাতা নেতাজি ইনডোরের কর্মীসভা থেকে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যের ভোটার তালিকায় ডুপ্লিকেট এপিক কার্ড নম্বর অথবা ভুতুড়ে ভোটার নিয়ে সওয়াল করেছিলেন। যে ইস্যুতে শুধু রাজ্য রাজনীতি নয়, সংসদের উভয় কক্ষ সহ গোটা দেশেই রাজনৈতিক আলোড়ন তৈরি হয়েছিল। বিপাকে পড়ে সাফাই গাইতে হয়েছিল নির্বাচন কমিশনকেও। পরে বাস্তবতা বুঝে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র সচিব কে সঙ্গে নিয়ে বৈঠক করেন দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার। পরবর্তীকালে শুধু পশ্চিমবঙ্গেই ৬০০ কার্ড বাতিল করতে হয়। নির্বাচন কমিশনকে। এছাড়াও হরিয়ানা গুজরাট সহ একাধিক রাজ্যে শয়ে শয়ে ডুপ্লিকেট এপিক কার্ড বাতিল করতে হয় কমিশনকে। নবতম সংযোজন কালীগঞ্জের বিধানসভা উপনির্বাচন উপলক্ষে ভোটার তালিকা বিশেষ সংশোধন। ৫ মে কালিগঞ্জ বিধানসভার উপনির্বাচনের প্রাক্কালে যে চূড়ান্ত ভোটার তালিকার সংশোধনী প্রকাশ করা হয় সেখানে সংযোজনের থেকে বিয়োজনের সংখ্যায় বেশি। কালীগঞ্জের নয়া ভোটার তালিকায় তিন হাজার ৩৬৩২ জনকে যুক্ত করা হলেও নাম বাদ গিয়েছে মোট ৫৮৪০ জনের। এ থেকেই স্পষ্ট যে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভোটার তালিকা নিয়ে যে অভিযোগ সামনে এনেছিলেন তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন নয়। যদিও প্রাথমিকভাবে নির্বাচন কমিশন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ কে ভিত্তিহীন এবং বাস্তবচিত নয় বলে উল্লেখ করেছিল। শেষ পর্যন্ত
কালীগঞ্জ বিধানসভার উপনির্বাচনের প্রাক্কালে ভোটার তালিকার এই সংশোধন বকলমে
ভোটার তালিকার ভূত তাড়ানোর রাজনীতিতে প্রাথমিকভাবে কেন্দ্র ও নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে লড়াইতে জয় এনে দিয়েছে মমতাকেই বলে মনে করছে প্রশাসনিক মহল।
