পাকিস্তান ও পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে জইশ-ই-মোহাম্মদ ও লস্কর-ই-তৈবা-র নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠনের সদর দফতরে ভারতের হামলায় এল মিশ্র বিশ্ব প্রতিক্রিয়া। ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনা বৃদ্ধিতে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, “এটা দুর্ভাগ্যজনক। আশা করি খুব তাড়াতাড়ি এর অবসান ঘটবে।” হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের তিনি আরও বলেন, “বিষয়টা শুনেছি। আগেও এই দুই দেশ বহুবার সংঘর্ষে জড়িয়েছে।”
মার্কিন বিদেশমন্ত্রী মার্কো রুবিও এক্স -এ লেখেন, তিনি “ভারত-পাকিস্তানের পরিস্থিতি সতর্কভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন” এবং এই দুই পারমাণবিক শক্তিধর দেশকে শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান। ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল, রুবিও-কে ভারতের সামরিক পদক্ষেপের বিস্তারিত জানিয়েছেন বলে ওয়াশিংটনে ভারতীয় দূতাবাস জানিয়েছে।
রাষ্ট্রসঙ্ঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ভারতের সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তার মুখপাত্র জানিয়েছেন, “ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সামরিক সংঘর্ষে পরিস্থিতি যাতে আরও না খারাপ হয়, সে বিষয়ে উভয় পক্ষের প্রতি সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানাচ্ছেন মহাসচিব। বিশ্ব আর একটি ভারত-পাকিস্তান সামরিক সংঘর্ষ সহ্য করতে পারবে না।”
জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওে নৃশংস জঙ্গি হামলার জবাবে পাকিস্তান ও পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের (পিওকে) অন্তত ৯টি সন্ত্রাসবাদী ঘাঁটিতে নির্ভুল হামলা চালিয়েছে ভারত। ‘অপারেশন সিন্দুর’ নামে এই ঐতিহাসিক ত্রিসেনা অভিযান (তিন বাহিনী একত্রে), ভারতীয় সেনা, নৌবাহিনী ও বায়ুসেনার যৌথ উদ্যোগে রাত ১টা ৪৪ মিনিটে শুরু হয়।এই হামলায় পাকিস্তান এবং পিওকে-তে থাকা সেইসব ঘাঁটিগুলিকে টার্গেট করা হয়, যেখান থেকে জঙ্গি হামলার পরিকল্পনা ও পরিচালনা হয় বলে জানা গেছে।
পাকিস্তানের জঙ্গি ঘাঁটিগুলোয় ভারতের হামলা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে উভয় দেশকে সংযত থাকার আহ্বান জানিয়েছে চিন। বেইজিংয়ের বিদেশ মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, “ভারত ও পাকিস্তানের উচিত শান্তি ও স্থিতিশীলতাকে অগ্রাধিকার দেওয়া, পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে এমন পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকা।”
যদিও ভারতের আত্মরক্ষার অধিকারকে সমর্থন জানিয়েছে ইজরায়েল। ভারতের প্রতি সংহতি জানিয়ে ভারতে নিযুক্ত ইজরায়েলের রাষ্ট্রদূত রেউভেন আজার বলেন, “ভারতের আত্মরক্ষার অধিকারকে সমর্থন করি। নিরীহ মানুষের বিরুদ্ধে জঙ্গিদের জঘন্য অপরাধে তাদের কোথাও লুকানোর জায়গা নেই—এটা ওদের জানা উচিত।”
অন্যদিকে সংযুক্ত আরব আমিরশাহী দু দেশকে শান্ত থাকার এবং উত্তেজনা প্রশমনের আহ্বান জানিয়েছে। ইউএইর বিদেশ বিষয়ক উপ-প্রধানমন্ত্রী শেখ আবদুল্লাহ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান বলেন, “কূটনীতি ও সংলাপই সংকট সমাধানের সবচেয়ে কার্যকর উপায়। শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধির লক্ষ্যে জাতিগুলির এই অভিপ্রায় অর্জনে সংলাপ গুরুত্বপূর্ণ।”
যদিও দিল্লি জানিয়েছে পাহলগাঁও জঙ্গি হানার জবাবে এই হামলা ছিল ‘নির্দিষ্ট লক্ষ্যভিত্তিক’, ‘পরিমিত’ এবং ‘অসামরিক’। পাকিস্তানের সামরিক ক্ষেত্রের ওপর কোনও হামলা চালানো হয়নি। বাহাওয়ালপুরে জইশের এবং মুরিদকেতে লস্কর-ই-তৈবার সদর দফতরকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়।
Jazzbaat24Bangla • Beta
Leave a comment
Leave a comment
