কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে হিন্দু পর্যটকদের লক্ষ্য করে নৃশংস জঙ্গি হামলার রক্তমাখা স্মৃতি এখনও তরতাজা। ২২ এপ্রিল বৈসরন এলাকায় জঙ্গিদের সেই বর্বর হামলায় প্রাণ হারান ভারতীয় নৌসেনার অফিসার লেফটেন্যান্ট বিনয় নরওয়াল, যাঁর বিবাহ হয়েছিল মাত্র ছয় দিন আগে। সদ্য বিবাহিত স্ত্রী হিমাংশীর কপাল থেকে মুছে যায় সিঁদুর—যে সিঁদুর ছিল ভালোবাসা, আশ্বাস এবং সহমরণের প্রতীক। সেই ঘটনার ১৫ দিনের মাথায় ভারতীয় সেনা শত্রুকে জানিয়ে দিল—রক্তের ঋণ রক্তেই শোধ করা হবে।
এই প্রত্যাঘাতের নাম ‘অপারেশন সিঁদুর’। নামের মধ্যেই যেন এক প্রতিশোধের প্রতিধ্বনি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নির্দেশে এই নামকরণ, যার পেছনে রয়েছে এক গভীর প্রতীকী বার্তা। হিন্দু নারীদের কাছে সিঁদুর যেমন পবিত্রতা ও সম্প্রীতির প্রতীক, তেমনই যোদ্ধাদের কাছে তা বীরত্ব ও সংকল্পের নিদর্শন। অপারেশন সিঁদুরের মাধ্যমে ভারতীয় সেনা যেন ঘোষণা করল—যার কপালে সিঁদুর নেই, তার প্রতিশোধ নেবে গোটা দেশ।
প্রতিশোধ এসেছে নিখুঁত পরিকল্পনার মাধ্যমে। পাক অধিকৃত কাশ্মীরের গভীরে ঢুকে ভারতীয় সেনা গুঁড়িয়ে দিয়েছে একাধিক জঙ্গি ঘাঁটি। অন্তত ১০০ জন জঙ্গি নিকেশ হয়েছে বলে সেনা সূত্রে জানা গেছে। নিশানা ছিল লস্কর, জইশ ও হিজবুলের প্রধান ঘাঁটিগুলি—যেখান থেকে কাশ্মীরে হামলার ছক কাটা হতো। অপারেশনটি এতটাই নিখুঁত ছিল যে পাকিস্তানি সেনা পরিকাঠামোর কোনও ক্ষয়ক্ষতি হয়নি, কিন্তু সন্ত্রাসের ঘাঁটি চুরমার হয়ে গেছে।
এই অপারেশন কেবল একটি সামরিক প্রতিক্রিয়া নয়, এটি এক সাংস্কৃতিক জবাবও। যে হামলা ছিল ধর্মীয় বিদ্বেষপ্রসূত, তার জবাবও দেওয়া হয়েছে এক ধর্মীয় প্রতীকের নামেই। নিহত নৌসেনা অফিসারের স্ত্রী হিমাংশীর ফাঁকা সিঁথির সামনে দাঁড়িয়ে ভারত বলেছে—তোমার সিঁদুর মুছে গেলেও আমরা প্রতিশোধ ভুলিনি।
এই হামলায় আরও এক হৃদয়বিদারক ঘটনা সামনে আসে। কর্নাটক থেকে বেড়াতে আসা মঞ্জুনাথকে যখন জঙ্গিরা গুলি করে হত্যা করে, তখন তাঁর স্ত্রী পল্লবী বলেছিলেন, “আমাকেও মেরে ফেলো।” জবাবে এক জঙ্গি বলেছিল, “তোমাকে মারব না, মোদীকে গিয়ে বলে দিও।” অপারেশন সিঁদুর যেন সেই বার্তারই উত্তর—না শুধু মোদী জানলেন, পুরো দেশ জানল।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এই হামলায় অসন্তুষ্ট হলেও ভারত স্পষ্ট করে দিয়েছে—এটি ছিল একটি সম্পূর্ণ সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান। পাকিস্তানের সেনা কাঠামোয় আঘাত করা হয়নি। লক্ষ্য ছিল একটাই—সন্ত্রাস, এবং যারা সন্ত্রাসকে আশ্রয় দেয়।
এই অভিযানে শহিদদের পরিবার শুধু প্রতিশোধই দেখেননি, দেখেছেন সম্মানও। যাঁদের সিঁথির সিঁদুর মুছে গিয়েছিল, তাঁদের নামেই সাজানো হয়েছে ভারতের সামরিক প্রতিবাদ। অপারেশন সিঁদুর একদিকে শোকের প্রতীক, অন্যদিকে প্রতিজ্ঞার রূপ।
সেনা বুঝিয়ে দিয়েছে—ভারত বদলা নেয়, এবং সেটা নেয় মর্যাদার সঙ্গে।
