কাশ্মীরের পহেলগামে ধর্ম পরিচয় জেনে যে ভাবে জঙ্গিরা ২৬ জন হিন্দুকে হত্যা করেছে এবং তাঁদের স্ত্রীর সিঁদুর মুছে দিয়েছে, অপারেশন সিঁদুর তারই বদলা। প্রত্যাঘাতের পরে তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে দুই মহিলা অফিসারকে দিয়ে সেই অভিযানের বিবরণ দেওয়ালো ভারত। কর্নেল সফিয়া কুরেশি এবং উইং কমান্ডার ভ্যোমিকা সিংহ। কিন্তু জানেন কি, আগেও নানা রোমহর্ষক সামরিক অভিযানের নেতৃত্বে ছিলেন কর্নেল কুরেশি? তাঁর সাহসিকতার কথা জানে দুনিয়া।
বুধবার সকালে তখন প্রায় সাড়ে ১০টা। রাজধানী দিল্লিতে টানটান উত্তেজনা। মধ্যরাতে সীমান্ত পেরিয়ে যে বীরবিক্রম দেখিয়ে এসেছে ভারতীয় সেনা, তার আনুষ্ঠানিক সাংবাদিক বৈঠক শুরু। বিদেশ সচিব বিক্রম মিস্রী মাঝে, দু’পাশে কর্নেল সফিয়া কুরেশি এবং উইং কমান্ডার ভ্যোমিকা সিংহ। প্রথমে সংক্ষেপে পরিস্থিতি বর্ণনা করেন বিক্রম, তার পর মাইক ধরেন কর্নেল কুরেশি এবং উইং কমান্ডার সিংহ। কাটাকাটা হিন্দিতে সামরিক অভিযানের বর্ণনা করতে থাকেন বছর ৩৫-এর কর্নেল কুরেশি। তবে, এ বারই প্রথম নয়। কর্নেল কুরেশির কৃতিত্ব আগেও দেখেছে দেশ।
সেনাবাহিনীর সিগন্যাল কোরের কর্নেল সফিয়া কুরেশি চিরকালই আলাদা। পড়াশোনায় অত্যন্ত মেধাবী সফিয়ার নজির ভাঙ্গার নেশা সেই ছোট থেকেই। মাত্র ৩৫ বছর বয়সে যাবতীয় সেনা সম্মান তাঁর দখলে। ২০১৬-এর মার্চে তিনি প্রথম ভারতীয় মহিলা অফিসার হিসেবে বহুজাতিক সামরিক অনুশীলন বা ‘ফোর্স এইট্টিন’-এ ভারতীয় সেনার নেতৃত্ব দেন। পুণের সেই মহড়ায় অংশ নিয়েছিল মোট ১৮টি দেশ। আমেরিকা, জাপান, চিন, রাশিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, অস্ট্রেলিয়ার সেনাবাহিনী অবাক হয়ে দেখেছিল কী ভাবে একজন মহিলার নেতৃত্বে এগিয়ে চলেছে ভারতীয় সেনা। কর্নেল কুরেশি ৪০ সদস্যের ভারতীয় দলের কম্যান্ডিং অফিসার হিসেবে নেতৃত্ব দেন। তাঁর নেতৃত্বে প্রশিক্ষণ চলে শান্তিরক্ষার কৌশল এবং হিউম্যানিটারিয়ান মাইন অ্যাকশনের ওপর। প্রসঙ্গত, আর কোনও দেশের মহড়ায় মহিলা ক্যাপ্টেন ছিলেন না।
গোটা দুনিয়ায় শান্তিরক্ষী বাহিনীতে কাজ করা সামরিক ব্যক্তিরা এক ডাকে চেনেন ভারতীয় সেনার কর্নেল সফিয়া কুরেশিকে। পারিবারিক ভাবে কর্নেল কুরেশির সঙ্গে সেনাবাহিনীর যোগাযোগ। সফিয়ার আগে তাঁর ঠাকুরদা ছিলেন সেনায়। তাঁকে দেখেই সেনাতে যোগ দেওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন কর্নেল কুরেশি। প্রসঙ্গত, কর্নেল কুরেশির বিয়েও হয়েছে সেনা পরিবারেই।
গত ২২ এপ্রিল পহেলগাঁওয়ে পর্যটকদের উপর জঙ্গি হামলার ঘটনায় ২৬ জনের মৃত্যু হয়। অভিযোগ, পর্যটকদের ধর্মপরিচয় জিজ্ঞাসা করে বেছে বেছে খুন করা হয়। ওই ঘটনায় পাকিস্তানকে দায়ী করে ভারত। মঙ্গলবার মধ্যরাতে পাকিস্তান এবং পাক অধিকৃত কাশ্মীরের বেশ কিছু অংশে প্রত্যাঘাত করা হয়। সেনার দাবি, পাকিস্তানের ন’টি জায়গায় হামলা চালানো হয়েছে। জঙ্গিঘাঁটি তছনছ করে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কোনও সাধারণ নাগরিকের ক্ষতি হয়নি। পাকিস্তান আট জনের মৃত্যুর কথা স্বীকার করে নিয়েছে। কর্নেল কুরেশি জানিয়েছেন, অপারেশান সিঁদুর শেষ হয়েছে ঘড়ি ধরে ২৫ মিনিটে। ভারতীয় সময় রাত ১টা ৫ মিনিটে শুরু, দেড়টায় শেষ।
Jazzbaat24Bangla • Beta
Leave a comment
Leave a comment
